বৃহস্পতিবার ২৩শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

১৬ দেশের ১৭ মিলিয়ন ইমিগ্র্যান্টের অংশগ্রহণে গবেষণা জরিপ

মানবেতর জীবনযাপনে বিশ্বে ১৭ কোটি অভিবাসী

বিশেষ সংবাদদাতা   |   শুক্রবার, ২২ জুলাই ২০২২ | প্রিন্ট  

মানবেতর জীবনযাপনে বিশ্বে ১৭ কোটি অভিবাসী

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ১৬৯ মিলিয়ন অর্থাৎ ১৬ কোটি ৯০ লাখ অভিবাসী কাজকর্ম করছেন একেবারেই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে।

চিকিৎসা-সুবিধারও বালাই নেই। এমনকি কর্মস্থলে আহত হলেও চিকিৎসার সুযোগ পান না। মানবেতর জীবনযাপনের উদ্বেগজনক এমন তথ্য ২০ জুলাই বুধবার প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এই সংস্থার মহাপরিচালক টেডরোস ঘিব্রেয়াসাস এ প্রসঙ্গে বলেন, ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় হউক, অথবা জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়েই মাতৃভ‚মি ত্যাগ করছেন বহু মানুষ।

হয়তো তারা প্রিয়-পরিচিতজনকে ছেড়ে একেবারেই অপরিচিত জগতে প্রবেশ করছেন বলেই কী তারা সমাজের অন্যদের জন্যে বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা পাবেন না? অথচ এই সভ্য সমাজের সকলেই স্লোগান ধরি ‘চিকিৎসা-সুবিধা হচ্ছে সকলের জন্যেই মানবাধিকার।’ এজন্যেই অভিবাসীদের চিকিৎসা-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। তারা উদ্বাস্তু অথবা অভিবাসী-যেভাবেই পরিচিত হোক না কেন-তাদের স্বাস্থ্য-সেবা পাবার অধিকার রয়েছে। যে সমাজে তারা অবহেলিত জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছেন, সেই সমাজও সত্যিকার অর্থে স্বাস্থ্য-সম্মত পরিবেশ তৈরি করতে সক্ষম হবে না। অর্থাৎ টেকসই স্বাস্থ্য-ব্যবস্থা রচনার যে প্রত্যাশায় আমরা হাঁটছি-সেটি বাস্তবায়নের পথে এটি বড় একটি অন্তরায় হয়ে দেখা দেবেই।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী গোটাবিশ্বে এক বিলিয়ন রিফ্যুজি/ইমিগ্র্যান্ট রয়েছেন। আর এ সংখ্যা হচ্ছে মোট জনসংখ্যার প্রতি ৮ জনের একজন। অভিবাসী এবং উদ্বাস্তুদের জীবন-মানের ওপর বিস্তারিত একটি গবেষণা-জরিপ এই প্রথম প্রকাশ করলো বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থাটি।

বার্মার গণহত্যা এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বে রিফ্যুজির সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে বলেও ঐ জরিপ পরিচালনাকারিরা মন্তব্য করেছেন। একইসাথে করোনা মহামারি সকলের স্বাস্থ্য-সেবাকেই প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।
অভিবাসীরা যে দেশ বা সমাজে বসবাস করছেন, শ্রম দিচ্ছেন-সেই সমাজের অন্য মানুষের মত কোন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে সক্ষম হচ্ছেন না। এমনকি ন্যায্য পারিশ্রমিকের অধিকারও আদায়ে সক্ষম হচ্ছেন না। পরিবার নিয়ে দেশান্তরী হওয়া অভিবাসীরা সন্তানের শিক্ষা প্রদানেও কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
১৬ দেশের ১৭ মিলিয়ন অভিবাসী/রিফ্যুজির অংশগ্রহণে এই গবেষণা জরিপে উদঘাটিত হয়েছে যে, কর্মক্ষেত্রে কেউ আহত হলে চিকিৎসার ন্যূনতম সুযোগ পান না। এমনকি আহত অবস্থায়ই কাজ করিয়েও নেয়া হয় অথবা পেটের দায়ের কাজ চালিয়ে নিতে হচ্ছে। কারণ, কাজ না করলে বেতন জুটবে না।

অথচ কর্মস্থলের পরিবেশের ভিকটিম হয়েছেন সেই রিফ্যুজি/অভিবাসী। এই জরিপে আরো উদঘাটিত হয়েছে যে, সারাবিশ্বে ১৬ কোটি ৯০ লাখ অভিবাসী শ্রমিকের প্রায় সকলেই অস্বাস্থ্যকর এবং ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করছেন।
এই জরিপ পরিচালনাকালে আরো জানা গেছে যে, অভিবাসী/রিফ্যুজি শ্রমিকের সঠিক তথ্য প্রতিষ্ঠান সংরক্ষণ করে না বা এলাকার সিটি/স্টেট প্রশাসনকেও জানায় না। এরফলে বিরাট একটি জনগোষ্ঠী এলাকার সার্বিক উন্নয়নে যে শ্রম দিচ্ছেন অথবা মেধার বিনিয়োগ ঘটাচ্ছেন সেটিও সরকারের নথিতে স্থান পায় না। একারণে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লেও সে তথ্য স্থানীয় প্রশাসন জানতে পারে না। যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার মত দেশে স্বেচ্ছাসেবী মানবাধিকার সংস্থাগুলোর চোখ-কান খোলা থাকে বিধায় সাম্প্রতিক সময়ে কাগজপত্রহীন অভিবাসীগণকে অবহেলার দৃষ্টিতে দেখা সম্ভব হচ্ছে না। তবে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা অঞ্চলের অভিবাসীরা এমন সুবিধার কথা ভাবতেও পারছেন না।

তারা মালিকের ইচ্ছা অনুযায়ী সবকিছু করতে বাধ্য হচ্ছেন। তথ্য সংগৃহিত না হওয়ায় টেকসই উন্নয়ন পরিক্রমায় অভিবাসী/রিফ্যুজিদের সামগ্রিক পরিস্থিতি যুক্ত হতে পারছে না। অর্থাৎ বিরাট এই জনগোষ্ঠির মানবেতর পরিস্থিতিতে দিনাতিপাতের তথ্য সভ্য সমাজের সম্মুখে উপস্থাপতি হচ্ছে না। এহেন পরিস্থিতির অবসানে বিপুল অর্থ বিনিয়োগের তাগিদ দিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উপ-মহাপরিচালক ড. জেসুজসানা জেকব। তিনি বলেছেন, সত্যিকারের তথ্য সংগ্রহ করা জরুরী। এরপর অভিবাসী/রিফ্যুজিদের অবস্থার ওপর নজরদারি রাখতে হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট সিটি/স্টেট প্রশাসনের সাথে দেন-দরবার করতে হবে। তাহলে অবজ্ঞা আর অবহেলার পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে কমতে পারে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১১:৪৭ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ২২ জুলাই ২০২২

nypratidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর...

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  

Editor : Naem Nizam

Executive Editor : Lovlu Ansar