Advertisement Placeholder

গণতন্ত্র ও বিশ্ব নেতৃত্বের স্বার্থে বাইডেন স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়াক, চান ডেমোক্র্যাটরা

লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র   |   শনিবার, ২৯ জুন ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   ১০৯ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

গণতন্ত্র ও বিশ্ব নেতৃত্বের স্বার্থে বাইডেন স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়াক, চান ডেমোক্র্যাটরা

নিউইয়র্ক টাইমসের সম্পাদকমন্ডলী ছাড়াও অনেক চাঁদাদাতা ও কট্টর সমর্থকেরাও নির্বাচন থেকে জো বাইডেনকে সরে যেতে বলছেন। নিশ্চিত একটি পরাজয় ঠেকাতেই ডেমক্র্যাটদের এমন একটি পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে। নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সম্ভাব্য দুই প্রার্থী বাইডেন ও ট্রাম্পের মধ্যে প্রথম টিভি-বিতর্কে বাইডেন নিজেকে নাজুক অবস্থায় নিপতিত করেছেন। ট্রাম্পের মিথ্যাচারের জবাব প্রদানে বাইডেনের কসরতকে সমর্থকেরাও এখন আর সাপোর্ট দিতে চাচ্ছেন না। ২৭ জুন রাতে সিএনএন’র বিতর্কে বাইডেনকে ক্ষণে ক্ষণেই বিচলিতবোধ করতে দেখা গেছে। কখনো কখনো যা বলতে চেয়েছেন তার স্বাভাবিক প্রকাশ ঘটাতেও সক্ষম হননি প্রেসিডেন্ট বাইডেন। আর এভাবে বাইডেনের বয়সজনিত যে শঙ্কার কথা বলা হচ্ছিল তা দৃশ্যমান হয়।

৮১ বছর বয়সী বাইডেনকে পুনরায় বিজয়ী করতে যারা ইতিমধ্যেই মাঠে নেমেছেন, নির্বাচনী তহবিলে কাড়ি কাড়ি অর্থ দিয়েছেন, বাইডেনকে বিজয়ী করতে সংবাদ, মতামত এবং সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছেন-এমন ব্যক্তি ও গণমাধ্যমও এখন নিজেদের গুটিয়ে নেয়ার কথা ভাবছেন। তারা প্রকাশ্যে বাইডেনকে সরে পড়ার আহবান জানিয়েছেন। এবং এ আহবান উচ্চারিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র এবং সামগ্রিক কল্যাণের স্বার্থেই। তারা মনে করছেন, বাইডেনকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে জয়ী করা সম্ভব হবে না। আর এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হলে যুক্তরাষ্ট্র আবারো ভয়ংকর একটি সংকটে নিপতিত হবে, গোটাবিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব অটুট রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

বাইডেনের নির্বাচনী তহবিলে মোটা অংকের অর্থ প্রদানকারি বেটি কট্টন বিতর্কের পর গণমাধ্যমে অভিমত পোষণ করেছেন, গতরাতের বিতর্কটি ছিল ডেমক্র্যাটদের জন্যে খুবই লজ্জাষ্কর একটি বিষয়, তা খুবই খারাপ ছিল, যা দেখার মধ্যে কোন আগ্রহ ছিল না। সেজন্যেই এখন বিকল্প ভাবতে হচ্ছে।

বেটি কট্টন বাইডেনকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে দেয়ার অনুরোধ সম্বলিত অসংখ্য বার্তা পেয়েছেন কর্মী-সমর্থক এবং চাঁদা প্রদানকারিদের কাছ থেকে। প্রায় সকলেই গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাইডেনের ব্যাপারে। তাঁকে সরিয়ে না দিলে ডেমক্র্যাটদের পরাজয় কোনভাবেই ঠেকানো যাবে না-এমন মন্তব্যও করেছেন অনেকে। উল্লেখ্য, বেটি কট্টন একইসাথে বাইডেনের নির্বাচন তহবিল সংরক্ষণ কমিটির গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে রয়েছেন। বেটি কট্টন উল্লেখ করেছেন, তার (বাইডেন) উচিত প্রার্থীতা থেকে সরে দাঁড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা। তাহলেই আমাদের (ডেমক্র্যাট) নির্বাচনে ধরাশায়ী হতে হবে না। বেটি কট্টন আরো উল্লেখ করেছেন, বাইডেন সরে না দাঁড়ালে চাঁদাদাতারাও নিজেদের গুটিয়ে নেয়ার হুমকি দিয়েছেন। এমনকি শিকাগোতে আগস্টে ডেমক্র্যাটিক পার্টির জাতীয় সম্মেলনের আগেই বাইডেনের সরে পড়া দরকার বলেও মন্তব্য করেছেন চাঁদা প্রদানকারী সমর্থকেরা।

সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনকারী এবং বাইডেনের পুননির্বাচনের তহবিল সংগ্রহ কমিটির অন্যতম এক সদস্য জানিয়েছেন যে, অনেকেই হতাশ এবং কেউই বাইডেনের ব্যাপারে আগ্রহী নন। সকলেই বিতর্কে বাইডেনের ভ’মিকার কঠোর সমালোচনা করেছেন। সকলেই ভাবছেন, সময় থাকতেই বাইডেন স্বেচ্ছায় প্রার্থীতা থেকে সরে দাঁড়াবেন এবং এটাই সময়ের দাবি। তাহলে পার্টির জাতীয় সম্মেলনে যোগ্য একজনকে মনোনয়ন দেয়া সহজ হবে।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার