সোমবার ২০শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি ৩৪ শিল্পীর ১৪ দিনব্যাপী ‘স্মৃতিকথা’ প্রদর্শনী

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   সোমবার, ১০ অক্টোবর ২০২২ | প্রিন্ট  

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি ৩৪ শিল্পীর ১৪ দিনব্যাপী ‘স্মৃতিকথা’ প্রদর্শনী

চিত্র প্রদর্শনীতে আগতদের নিজের ছবির ব্যাখ্যা দিচ্ছেন একজন আর্টিস্ট। ছবি-বাংলাদেশ প্রতিদিন।

নিউইয়র্ক অঞ্চলে বসবাসরত বাংলাদেশি চিত্রশিল্পীগণের ব্যক্তিগত স্মৃতিকথা আলোকে ১৪দিনব্যাপী এক প্রদর্শনী শুরু হয়েছে ৭ অক্টোবর বৃহস্পতিবার নিউইয়র্ক সিটির ‘জ্যামাইকা সেন্টার ফর আর্টস এ্যান্ড লার্নিং’ এ। ‘শিল্পের সাথেই থাকুন’ স্লোগানে উজ্ঝীবিত ‘বাংলাদেশি-আমেরিকান আর্টিস্ট ফোরাম’র এই প্রদর্শনীতে ৩৪ শিল্পীর যাপিত জীবনের শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছে।

৮ অক্টোবর বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার প্রতিনিধিত্বকারি প্রবাসীদের অংশগ্রহণে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ইউনিভার্সিটি অব নিউ অর্লিন্সের এমিরিটাস প্রফেসর ড. মোস্তফা সারোয়ার। এ সময় বাংলাদেশের এক সময়ের সেরা মেধাবিদের অন্যতম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থ বিজ্ঞানে শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবনে প্রবেশের পর উচ্চ শিক্ষার্থে যুক্তরাষ্ট্রে এসে দীর্ঘ ৩৯ বছর শিক্ষকতায় (ডীন, ভাইস চ্যান্সেলর) নিয়োজিত থাকা মোস্তফা সারোয়ার বলেন, আমি সমাজ-সংস্কৃতির গভীরে অনেক কিছু দেখেছি। লিবারেল আর্টস এ্যান্ড ফাইন আর্টসের সাথেও আমি পরিচিত। তবে আজকের এই শিল্পীবৃন্দের আয়োজনে আমি অভিভ’ত এবং বিনয়ের সাথে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করছি সকলের প্রতি।

এখানে বিচক্ষণতার অপূর্ব উপস্থাপন ঘটেছে। সর্বজনীনতার ঘটনাবলি দৃশ্যমান হয়েছে আধুনিক সভ্যতার শীর্ষে অবস্থানকারি নিউইয়র্ক সিটিতে। সারাবিশ্বের মানবতার উৎকর্ষ সাধনের অনন্য এক অবলম্বনে পরিণত হতে পারে এসব চিত্র। বাঙালি শিল্পীরা এভাবেই বিশ্ববরেণ্য শিল্পীর মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হচ্ছেন। এজন্যে আমি গৌরববোধ করছি। এরপর সকল বিশিষ্টজনকে পাশে নিয়ে মোমবাতি প্রজ্বলন করে প্রদর্শনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মোস্তফা সারোয়ার।

এর আগে স্বাগত বক্তব্যে ফোরামের কর্মকর্তা আলমা লিয়া বলেন, এটি শুধু স্মৃতিকথা নয়, সকল শিল্পীর জীবনের ধারাবিবরণী, যা পরিণত হয়েছে চমৎকার একটি কানভাসে। সঙ্গীতের মূর্চ্ছনায় আবিষ্ট হয়ে উঠেছে প্রদর্শনী স্থানটি। শুভেচ্ছা বক্তব্যে সিটি ইউনিভার্সিটির ডীন ড. মহসিন পাটোয়ারি এবং মূলধারায় প্রবাসীদের পথিকৃত মোর্শেদ আলমও এমন আয়োজনের গুরুত্ব উপস্থাপন করেন এবং নতুন প্রজন্মের জন্যে এটি হতে পারে অনুপ্রেরণার উৎস। তারা উভয়েই শিল্পীদের অসীম ধৈর্য এবং আন্তরিকতার প্রশংসা করেছেন।

আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগে এ সংবাদদাতার কাছে নিজের অনুভূতি ব্যক্তকালে প্রফেসর মোস্তফা সরোয়ার বলেন, এই প্রদর্শনীতে যে সব ছবি রয়েছে, যারা এগুলো একেঁছেন, এবং সে সব শিল্পীরাও এখানে রয়েছেন। এসব বিষয় আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে। কারণ, এঁরা হলেন প্রবাসীদের ক্রিম অব দ্য কন্ট্রিবিউটর। এরা সকলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইন্সটিটিউটের ছাত্র-ছাত্রী ছিলেন। চিত্রগুলো দেখার ব্যাপারটি আমার জীবনের বিশাল এক অভিজ্ঞতা। এসব শিল্পীর বসবাস মননের এক উচ্চমার্গে। এবং তাঁরা জীবনের অনেক কিছুতেই ত্যাগ স্বীকারের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁরা অত্যন্ত ধৈর্যশীল এবং মানুষের সামগ্রিক কল্যাণের ব্রত নিয়ে চিত্রশিল্পী হয়ে উঠেছেন। তাঁরা সকলেই অত্যন্ত মেধাবি, জ্ঞানী এবং জ্ঞান আহরনে সদা নিয়োজিত রয়েছেন।

Art Exhibition-0

মোমবাতি জ্বালিয়ে চিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন ঘোষণা করেন এমিরিটাস প্রফেসর ড. মোস্তফা সারোয়ার। ছবি-বাংলাদেশ প্রতিদিন।

মোস্তফা সরোয়ার উল্লেখ করেন, একটি পুঁজিবাদি সমাজে (ইন্ডাস্ট্রিয়াল কমপ্লেক্স) বাস করেও লোভ-লালসা ত্যাগ, ভোগ-বিলাসকে সংবরণ করে তাঁরা তাদের মনের মাধুরি দিয়ে এই চিত্রগুলো রচনা করেছেন। এগুলো সচক্ষে দেখা এবং গুণী সে সব শিল্পীর সাথে মেশার দুর্লভ সুযোগটিকে কাজে লাগাতেই আমি ১২ শতাধিক মাইল পথ মাড়িয়ে এখানে এসেছি।

এসব চিত্রকর্মে কী বাংলাদেশ, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ, বাঙালি সংস্কৃতির প্রতিফলন রয়েছে বলে মনে করেন, নাকি প্রবাস জীবনে তাঁদের যে অভিব্যক্তি তারই প্রকাশ ঘটেছে-এমন প্রশ্নের জবাবে ড. মোস্তফা সারোয়ার বলেন, আমি যা দেখতে পাচ্ছি তাকে আন্তর্জাতিক একটি পর্যায় হিসেবে মনে করছি। অনেকগগুলোই এবসট্রাক্ট পেইন্টিং। এঁদের যে মননটা, তা একটা বৃহত্তর জগতের সাথে সম্পৃক্ত। তবে তা কোনভাবেই বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। বাংলাদেশ হচ্ছে একটি পার্ট। আজ বিশ্বের দরবারে বহুজাতিক এ সমাজে এদেঁর অবদান অপরিসীম। বাংলাদেশের একজন হয়েই তারা বিশ্বের সামনে উপস্থাপন করছেন। আমি মনে করছে এখানে যেন বাংলাদেশ এবং পৃথিবী একাকার হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশী আমেরিকান শিল্পীদের এই আয়োজনের সাথে কীভাবে সম্পৃক্ত হলেন? জবাবে ড. সারোয়ার বলেন, ওদের কারো সাথে আমার জানাশোনা ছিল না। সম্ভবত: আমার লেখা ওদেরকে আমার ব্যাপারে আগ্রহী করতে পারে। কারণ, আমি সবসময়ই চিত্রশিল্পকে ভ্যালুয়েশন হিসেবে উপস্থাপন করি। এমনি অবস্থায় ওদের আমন্ত্রণ পেয়ে আমি কালক্ষেপণ করিনি সাড়া দিতে। কারণ, এটি এক বিশাল সৌভাগ্য, এমন একটি আয়োজন এবং আমি যাদের বলি সমাজ-পরিবর্তনের পথ প্রদর্শক, তাদের সাথে সাক্ষাৎ ঘটবে-এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করেছি।

গ্যালারিতে স্থান পাওয়া ‘ফিরে দেখা’ চিত্রের শিল্পী সালমা কানিজের সাথে কথা বলেন ড. সারোয়ার। নদী থেকে কলসী ভরে দুটি মেয়ের পানি আনার অপূ চিত্রটি কাছে থেকে নয়, যতদূরে তত স্পষ্ট হয়ে চোখে ভাসে। ক্যানভাসে মিক্স মিডিয়ার এ চিত্র অংকনকারি সালমা কানিজ আর্ট ইন্সটিটিউট থেকে গ্র্যাজুয়েশনের পর ১৯৯১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করেছেন। এরপর নিউইয়র্কের রাজধানী আলবেনীতে অবস্থিত সেন্ট রোজ কলেজ থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে সেখানকার ম্যাটার ক্রিস্টি স্কুলে চিত্রকলার শিক্ষকতা করছেন।

প্রদর্শনীতে ৩৪ শিল্পীর চিত্রকর্ম রয়েছে। শিল্পীরা হলেন আর্থার আজাদ, আলমা লিয়া, আজমীর হোসাইন, বশিরুল হক, বিশ্বজিৎ চৌধুরী, দীনা জামান, ফারহানা ইয়াসমীন, কীয়ো চি মঙ, কায়সার কামাল, কানিজ হুসনা আকবরী, কাউসার ফেরদৌসী, কাজী রকিব, লায়লা আঞ্জুমান আরা, মুতলুব আলী, মোহাম্মদ টুকন, মাসুদুল আলম, মাসুদা কাজী, মোহাম্মদ হাসান রুকন, মোস্তফা টি আরশাদ, নুরুল হক মিন্টু, নাজ হোসাইন পলি, জাহাঙ্গির রুদ্র, সাঈদ এ রহমান, সাজেদা সুলতানা, মোহাম্মদ সাঈদুল হাসান, শামীম সুবর্ণা, সালমা কানিজ, শামীমা এ রহমান, সুজিত কুমার সাহা, তাজুল ইমাম, তারিক জুলফিকার, তাসনোভা রহমান, ওয়াহিদ আজাদ, জেবুন্নেসা কামাল এবং ইকবাল হোসাইন। এ সময় জানানো হয় হয় যে, সমাপনী অনুষ্ঠান হবে ২২ অক্টোবর বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত একইস্থানে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১২:২৯ অপরাহ্ণ | সোমবার, ১০ অক্টোবর ২০২২

nypratidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর...

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  

Editor : Naem Nizam

Executive Editor : Lovlu Ansar