
বিনোদন ডেস্ক: | সোমবার, ০১ জুলাই ২০২৪ | প্রিন্ট | ৫৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

‘এমনও তো প্রেম হয়’, ‘যে মাটির বুকে ঘুমিয়ে আছে’, ‘চোখ বুঝিলে দুনিয়া আন্ধার’, ‘যেও না সাথী’, ‘চক্ষের নজর এমনি কইরা’, ‘একবার যদি কেউ ভালোবাসতো’সহ এমন অনেক অসংখ্য কালজয়ী গানের শিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদী। গুণী এ মানুষটির জন্মদিন ১ জুলাই। ৮৫ বছরে পা দিয়েছেন তিনি। ১৯৪০ সালের ১ জুলাই তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার শাহপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার শৈশব কৈশোর কেটেছে আগরতলা, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কলকাতায়।
জন্মদিন প্রসঙ্গে সৈয়দ আব্দুল হাদী বলেন, জীবনের আরেকটি নতুন বসন্ত শুরু হল। অনেকগুলো বসন্ত পেরিয়ে আজ ৮৫-তে আমি। দেখতে দেখতে জীবনের শেষ প্রান্তে চলে এসেছি। জীবনকে যখন যেভাবে পেয়েছি সেভাবেই মূল্যায়ন করার চেষ্টা করেছি। এখনো তাই। সবার কাছে দোয়া ও ভালোবাসা চাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি কখনো বড় আয়োজনে নিজের জন্মদিন পালন করিনি। এটা আমার পছন্দও নয়। যা হয় তা ছোট পরিসরে, ঘরোয়া আয়োজন। এবারও তাই হচ্ছে।’
হাদীর গাওয়া ‘আছেন আমার মোক্তার’, ‘চলে যায় যদি কেউ বাঁধন ছিঁড়ে’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি মাগো’,‘তেল গেলে ফুরাইয়া,’ তোমরা কাউকে বলো না’সহ এরকম অসংখ্য শ্রোতাপ্রিয় গান এখনও শ্রোতাদের মুখে ফিরে। তাঁর পিতা সৈয়দ আব্দুল হাই ছিলেন তৎকালীন সরকারি কর্মকর্ত। তিনি গান গাইতে এবং শুনতে পছন্দ করতেন। বাবার গ্রামোফোনে গান শুনেই সঙ্গীতের প্রতি আগ্রহ জন্মায় হাদীর।
নিজে নিজে গুনগুন করে গাইতেন। আর এভাবেই তার সঙ্গীতচর্চা শুরু। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর সৈয়দ আব্দুল হাদী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। এরপর বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রযোজক হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। সর্বশেষে তিনি লন্ডনে ওয়েল্স ইউনিভার্সিটিতে প্রিন্সিপাল লাইব্রেরিয়ান হিসেবে কাজ করেছেন।
ছাত্রজীবন থেকেই সিনেমায় গান গাওয়া শুরু করেন আব্দুল হাদী। সেই হিসেবে তার সঙ্গীতজীবন পাঁচ দশকেরও বছরের বেশি। একক সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে তিনি প্রথম সিনেমায় গান করেন ১৯৬৪ সালের ‘ডাকবাবু’ সিনেমায়। তাঁর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে পাঁচবার শ্রেষ্ঠ গায়ক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। এছাড়া ২০০০ সালে তিনি দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদকে ভূষিত হন এই বরেণ্য গায়ক।



