
লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র | রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪ | প্রিন্ট | ৮৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ডান কানের ওপরের অংশ বিদ্ধ হয়ে বুলেট ধাবিত হয় বলে নিজেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উল্লেখ করেছেন। এজন্যে ট্রাম্পের কান দিয়ে রক্তপাত হয়েছে। এবং সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা তাকে ঘিরে নিয়ে যান ট্রাম্পের গাড়িতে। ১৩ জুলাই অপরাহ্নে পেনসিলভেনিয়া স্টেটের বাটলার কাউন্টিতে নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্যের সময় এ আক্রমণের ঘটনা ঘটে। সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা সাথে সাথে গুলিবর্ষণকারি ব্যক্তিকে হত্যা করেছে বলে কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। সে সময় জনসভার এক শ্রোতাও গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে এবং আরো দুজন আহত হয়েছে। গুলিবর্ষণকারি এবং গুলিতে হতাহতদের পরিচয় স্থানীয় সময় রাত ১১টা পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি।
সমাবেশে ছিলেন রিপাবলিকান পার্টির শীর্ষ নেতারাও। তারা জানান, সীমান্ত খুলে দেয়ায় লাখ লাখ সন্ত্রাসীও ঢুকে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। বাইডেন হোয়াইট হাউজে অধিষ্ঠিত হবার পরদিন থেকে দৈনিক সীমান্ত দিয়ে কতজন বিদেশী বেআইনিভাবে ঢুকেছে তার একটি পরিসংখ্যান উল্লেখকালেই কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ হয়। এক পর্যায়ে ট্রাম্পকে বক্তব্য থামিয়ে কানের ওপর হাত দিয়ে পডিয়ামের নীচে চলে যেতে দেখা যায়।
১৯৬৩ সালের ২২ নভেম্বর টেক্সাসের ডালাসে মটর শোভাযাত্রায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি। এরপর এটি হচ্ছে দ্বিতীয় ঘটনা যেখানে সাবেক একজন প্রেসিডেন্টকে তার নির্বাচনী সমাবেশে গুলি করা হলো।
গুলিবর্ষণের ঘটনার নিন্দা, প্রতিবাদ জানিয়ে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, এ ধরনের সহিংসতার কোনোই স্থান নেই আমেরিকায়। এটা সুস্থ মানুষের কাজ নয়। এটা হতে পারে না। আমরা এহেন আচরণকে মেনে নিতে পারি না। বাইডেন বলেন, আমি এখনো বিস্তারিত জানার অপেক্ষায় আছি। পেলেই সবিস্তারে কথা বলতে পারবো। মন্তব্য জানাতেও সক্ষম হবো। নির্বাচনী সমাবেশ কোনো ঝামেলা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে চলবে-এটাই গণতান্ত্রিক সমাজের রীতি। বাইডেন ট্রাম্পের সাথে কথা বলেছেন এবং শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নিয়েছেন বলে রাত সাড়ে ১০টায় হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা জানান।
এদিকে, রিপাবলিকান এবং ডেমক্র্যাটিক পার্টির সকল শীর্ষ নেতাই অভিন্ন বিবৃতিতে ট্রাম্পের নির্বাচনী সমাবেশে বন্দুক হামলার নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়েছেন। ইসরাইয়েল, ব্রিটেন, কানাডাসহ বহুদেশের নেতারাওট্রাম্পের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানোর পাশাপাশি তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন।
নির্বাচনী সমাবেশে বন্দুক হামলা এবং প্রধান বিরোধী দলের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থীকে হত্যা-ষড়যন্ত্রের এ ঘটনায় হতভম্ব সচেতন মহল। ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারিতে ক্যাপিটল হিলে জঙ্গি হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্ট ক্ষোভ ছাড়িয়ে গেছে ট্রাম্পের প্রতি গুলিবর্ষণের এই ঘটনা। কোথায় চলেছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি-এমন মন্তব্য সকলের।



