
বিনোদন ডেস্ক: | রবিবার, ১১ অগাস্ট ২০২৪ | প্রিন্ট | ৯৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

মরণোত্তর দেহদানের অঙ্গীকার করলেন কলকাতার নন্দিত অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। গত ৯ আগস্ট সদ্যপ্রয়াত সাবেক মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছিলেন তিনি। এর পরই ঋতুপর্ণা মরণোত্তর দেহদানের অঙ্গীকার করেন। এ নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, ‘যার পথ অনুসরণ করে তাঁর পিসি, পিসেমশাইও একই পথের পথিক হয়েছেন, আমিও সেই বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মতোই মরণোত্তর দেহদান করতে চাই।’ অভিনেত্রীর কথায়, দাহ না করে দেহ দান করলে সেটা কোনো মৃত্যু পথযাত্রীকে জীবনের পথে ফেরাতে পারবে। তাঁর মধ্য দিয়ে তিনিও অনেক দিন বেঁচে থাকতে পারবেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম থেকে আরও জানা গেছে, শুক্রবার বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যকে শ্রদ্ধা জানতে গিয়ে জনজোয়ারে নিজেকে ভাসিয়ে দিয়েছিলেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। কাতারে কাতারে লোক এ দিন স্বতঃস্ফূর্তভাবে পথে; যা দেখে অভিনেত্রীর অনুভূতি, মানুষের মনে আলাদা জায়গা না থাকলে এ ঘটনা ঘটে না।
তিনি বলেন, “আমি যখন পৌঁছেছি, তখন আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে দলীয় অফিসের কার্যালয় থেকে দেহ নীলরতন সরকার হাসপাতালের পথে। আমার জন্য শববাহী শকট কয়েক মুহূর্তের জন্য থামানো হয়েছিল। জনস্রোতে ভাসতে ভাসতে তাঁর গাড়ির কাছে পৌঁছে গিয়েছিলাম। বুদ্ধিদীপ্ত, ভীষণ রসিক, কথায় কথায় যে মানুষটি মজা করতেন, তাঁর সঙ্গে আর কখনও দেখতে হবে না– এটা ভেবে কষ্টে মনটা ছেয়ে গিয়েছিল। মনের পর্দায় ভেসে উঠেছিল পুরোনো দিনের স্মৃতি। যতবার সামনাসামনি হয়েছি, হাসিমুখে কথা বলেছেন। আমার বিয়ের সময় মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন জ্যোতি বসু। তাঁর সঙ্গে আশীর্বাদ করতে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যও এসেছিলেন। আমার ছেলে অঙ্গনের জন্মের সময় আমেরিকায় ছিলাম। তার পরও আমার মা হওয়ার খবর তাঁর কাছে পৌঁছে গিয়েছিল। ছেলে হওয়ার খবর শুনে তিনি হাসতে হাসতে বলেছিলেন, ‘একেবারে দেশের বাইরে গিয়ে ছেলের জন্ম!’ সেই মুহূর্তগুলো সত্যি কখনও ভুলতে পারব না।”
অভিনেত্রী আরও বলেন, ভালো লাগার বিষয় হলো, আমার অভিনীত ‘পারমিতার একদিন’, ‘আলো’ সিনেমা দুটিও ভীষণ পছন্দের ছিল বুদ্ধদেবের। জাতীয় পুরস্কার পাওয়ার পর তাই আলাদা করে আমাকে প্রশংসায় ভরিয়ে দিয়েছিলেন। যে মানুষটি এত সহজে আপন করে নিয়েছিলেন, তাঁর জীবনদর্শন আর চলার পথ অনুসরণ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি মরণোত্তর দেহদানের।’



