
বিনোদন ডেস্ক: | শনিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২২ | প্রিন্ট | ১২৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

সম্প্রতি লুঙ্গি পরে স্টার সিনেপ্লেক্সের মিরপুর শাখায় ‘পরাণ’ ছবি দেখতে গেলে এক বয়স্ক ব্যক্তির কাছে টিকিট বিক্রি না করার অভিযোগ উঠে। এ ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। পরে স্টার সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ ওই ব্যক্তিকে সসম্মানে ছবি দেখার ব্যবস্থা করে দেয়। শুধু ছবি দেখা নয়, বাড়তি পাওয়া হিসেবে সেই ছবির নায়ক-নায়িকার সাক্ষাৎও মিলে তার। আর সেই ব্যক্তিটি হলেন সিরাজগঞ্জের বাসিন্দা সামান আলী সরকার। বয়স ৭৮ বছর। ১৯৬৩ সাল থেকে হলে ছবি দেখার অভ্যাস তার।
একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে সামান আলী জানালেন যে তিনি এখনও সিরাজগঞ্জেই থাকেন। কিন্তু ছেলে থাকেন ঢাকায়। মাঝে মাঝে ছেলের কাছে বেড়াতে আসেন। ছেলের কাছে এলেই ছেলেকে না জানিয়ে চুপি চুপি হলে গিয়ে দেখে আসেন ছবি।
সামান আলী বলেন, ‘ঢাকায় এলেই ছেলেকে না জানিয়ে চুপ করে হলে সিনেমা দেখতে যাই। ছোটবেলা থেকেই আমার ছবি দেখার অভ্যাস বেশি। এখন বৃদ্ধ হয়ে গেছি তাই ছবি দেখার কথা ছেলেদের বলতে পারি না। তাই নিজেই চুপ করে ছেলের বাসার কাছের সনি হলে যাই।’
এর আগেও যতবার ঢাকায় এসেছেন সনি (মিরপুর) হলে গিয়ে ছবি দেখেছেন তিনি। তখন সনি হল ছিলো সিঙ্গেল স্ক্রিন। এখন সেটা সিনেপ্লেক্স হয়েছে। তাই এবার ছবি দেখতে গিয়ে কিছুটা বিব্রত হতে হয় তাকে। তবে সেই বিব্রতকর অবস্থার শেষটা দারুণ হয়েছে তার জন্য। 
তিনি বলেন, ‘একজন নায়িকা আছে না মিম। ওর ছবি ভালো লাগে। শুনি সে নাকি খুব ভালো অভিনয় করছে একটা ছবিতে। তাই আমি গেছি ‘পরাণ’ ছবি টিকিট কাটতে কিন্তু সেখান থেকে জানায় লুঙ্গি পরা লোক হলে ছবি দেখতে পারবে না। পরে আমি ফেরত আসি। এই ঘটনা কারা যেনো ভিডিও করে। আমি তো এতো কিছু বুঝিনা। ওই ভিডিওটার জন্য হলের মালিকরা আমার ছেলের ফোন নম্বার যোগাড় করে আমাকে ছবি দেখার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। ছবির নায়ক নায়িকা মিম ও নায়ক রাজও কাল আমার ছেলেকে ফোন করে আমার ছেলেকে ফোন আমার সাথে কথা বলেন। ‘
নায়ক-নায়িকা ফোন করে কি বলেছে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মিম আমাকে ফোন করে আব্বা বলে ডাক দিয়েছে। আব্বা ডেকে বলেছে কিছু মনে করবেন না। আমরা বাপ-বেটি একসঙ্গে ছবি দেখব। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার শো। পরে আমি আমার পুরো পরিবার নিয়ে ছবি দেখতে যাই। ছবি দেখার সময় মিম ও রাজ দুইজনই আসে। ছবি দেখার পর আমার সঙ্গে অনেক কথা বলে এবং আমাদের আপ্যায়নও করে।’
ছবি দেখার পর অনুভূতি কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি বাবা ৬০-৭০ বছর ধরে সিনেমা দেখা লোক। বাংলা ছবি দেখার অভ্যাস আমার। এখন তো ঢাকার বাইরে তেমন হল নেই। সব হল উঠায় দিয়েছে। হলে আর তেমন ছবিও চলে না। তাই ঢাকায় যখন ছেলের ওখানে আসি তখন মিরপুরে সনি হলে এসে ছবি দেখি। গতকালের ঘটনা আমি যতদিন বাঁচবো মনে থাকবে। রাজ আর মিম দুইজনই খুব মজার মানুষ। ছবি দেখার পর ওদের সঙ্গে সময় কাটিয়েও দারুণ আনন্দ পেয়েছি।’



