বুধবার ২৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিশ্ব¯স্বাস্থ্য সংস্থার পর্যবেক্ষণ : প্রতিবন্ধিরা চিকিৎসা-সেবায় অবহেলিত, অকালেই প্রাণ ঝরছে অনেকের

লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র   |   রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২ | প্রিন্ট  

বিশ্ব¯স্বাস্থ্য সংস্থার পর্যবেক্ষণ :  প্রতিবন্ধিরা চিকিৎসা-সেবায় অবহেলিত, অকালেই প্রাণ ঝরছে অনেকের

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সেন্সরী ফাংশন, ডিজেবিলিটি এ্যান্ড রিহ্যাবিলাইজেশন টিমের টেকনিক্যাল লিডার ড্যারিল ব্যারেট ২ ডিসেম্বর গণমাধ্যমকে ব্রিফিংকালে বলেছেন, প্রতিবন্ধীরা সমাজের অন্য অংশের তুলনায় ২০ বছর আগে মারা যাচ্ছে এবং আরো বেশী ঝুঁকিতে থাকে। তারা স্বাভাবিক জনগোষ্ঠিরস তুলনায় সংখ্যাগতভাবে অনেক কম হলেও মৃত্যুর ঝুঁকি বেশী কারণ, তারা চিকিৎসায় নিদারুণ বৈষম্যের শিকার।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে ড্যারিল আরো উল্লেখ করেছেন, অক্ষমতার জন্যে নতুন বৈশ্বিক প্রাদুর্ভাবের প্রভাবকেও দায়ী করা হচ্ছে। বলা হয়েছে, মোট জনসংখ্যার ১৬% হচ্ছে প্রতিবন্ধী অর্থাৎ বিশ্বের মোট জনসংখ্যার মধ্যে ১.৩ বিলিয়ন প্রতিবন্ধী। এরমধ্যে ৮০% এর বাস হচ্ছে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশে, যেখানে স্বাস্থ্য সেবা সীমিত, চিকিৎসা-ব্যবস্থার বৈষম্য মোকাবেলা করাও বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। ড্যারিলের মতে, সীমিত সংস্থান নিয়ে অনেক কিছু অর্জন করা সম্ভব, এহেন বৈষম্য অতিক্রমও করা যেতে পারে রাজনীতিকদের মধ্যে আন্তরিকতা জাগ্রত থাকলে।

‘প্রতিবন্ধী মানুষের জন্যে আন্তর্জাতিক দিবস’র প্রাক্কালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা অগ্রগতি সাধিত হলেও চিকিৎসা-ব্যবস্থায় অসমতা এখনও প্রবল। এরফলে প্রতিবন্ধীরা ক্রমান্বয়ে ঝুঁকির মধ্যে নিপতিত হচ্ছেন। যে সমাজের প্রতি ৬ জনের একজনই প্রতিবন্ধী এবং চিকিৎসায় অবহেলার শিকার, সে সমাজকে এগিয়ে নেয়ার প্রত্যাশা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব নয় বলে চিকিৎসা-বিশেষজ্ঞ এবং সমাজ-বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন। ড্যারিল ব্যারেট মন্তব্য করেছেন যে, চিকিৎসা-ব্যবস্থা খুবই নিম্নমানের হওয়ায় স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশসমূহে প্রতিবন্ধীরা অকালেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। যক্ষা, ডায়াবেটিস, পক্ষাঘাত, যৌন-সংক্রমণ রোগ এবং হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েও দ্রুত চিকিৎসা না পেয়ে অনেক প্রতিবন্ধীর প্রাণ ঝরছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেডরোস এঢানম ঘেবরিসাস বলেন, প্রতিবন্ধীরা যেসব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন তা দূর করতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরী। মানবাধিকারের যিকির যারা তুলছেন, তাদেরও এ নিয়ে নিরবতা অবলম্বনের সুযোগ নেই। কারণ, এটিও প্রতিবন্ধীদের মানবাধিকারের সামিল। তারাও সমাজের অংশ। তাই তাদের চিকিৎসা-ব্যবস্থা নিয়ে অবহেলা-অবজ্ঞার অবকাশ থাকতে পারে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক উল্লেখ করেন, প্রতিবন্ধী সকলেই যাতে চিকিৎসা-সেবা পায় সেজন্যে বিশ্বসংস্থা সংশ্লিষ্ট দেশকে সব ধরনের সহযোগিতা দিতে বদ্ধপরিকর।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১২:১৭ অপরাহ্ণ | রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২

nypratidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর...

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  

Editor : Naem Nizam

Executive Editor : Lovlu Ansar