
লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র | মঙ্গলবার, ১১ এপ্রিল ২০২৩ | প্রিন্ট | ৭৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এ মোমেনকে ১০ এপ্রিল দুপুরে যুক্তরাষ্ট্রে নিজের দফতরে স্বাগত জানিয়ে প্রাণোচ্ছল মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেন বললেন, ‘আমরা একসাথে কাজ চালিয়ে যেতে, বিদ্যমান সম্পর্ককে আরো জোরদার ও গভীরতর করার উপায় খুঁজে বের করতে, পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং মানবাধিকার সুসংহত করার ব্যাপারে অঙ্গিকারাবদ্ধ। এবং অবশ্যই আমরা কাজ করছি, আমরা দেখছি, সারাবিশ্ব তাকিয়ে আছে বাংলাদেশের পরবর্তী নির্বাচনের জন্য, যাতে তারা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান করে সেই অঞ্চল এবং সারাবিশ্বে দৃষ্টান্তমূলক একটি উদাহরণ তৈরী করতে সক্ষম হয়।’
অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক শেষে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেনসহ তার সফরসঙ্গিগণকে পাশে নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্লিঙ্কেন সাংবাদিকদের সামনে আরো বলেন, গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেকার সম্পর্ক ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আর্থিকভাবে, দুদেশের মানুষের মধ্যেকার সম্প্রীতির বন্ধন, জলবায়ু থেকে স্বাস্থ্যসেবা, সবকিছুতেই সাম্প্রতিক সময়ে যেসব কাজ করেছি তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। একইসাথে ১০ লাখের বেশী রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেয়ায় আমরা বাংলাদেশের প্রশংসা করছি অসাধারণ উদারতার জন্য।
ব্লিঙ্কেনের বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে ড. মোমেন বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি বাঙালির ধমনীতেই গণতান্ত্রিক চেতনা প্রবাহিত। গণতন্ত্রের জন্যে ৩০ লাখ বাঙালি রক্ত দিয়েছেন। ড. মোমেন বলেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের গুরুত্বর ব্যাপারে আমাদেরও একমত। সর্বশেষ নির্বাচনে আমরা ২৫ হাজার পরিদর্শক স্বাগত জানিয়েছিলাম। সামনের নির্বাচনেও একই ব্যবস্থা থাকবে। বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত শক্তিশালী এবং একান্তভাবেই স্বাধীন। নির্বাচনের সময় তারাই সবকিছুর দায়িত্ব পালন করেন।
বৈঠকে তাঁরা দুদেশের মধ্যে সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরো জোরদার করার আগ্রহ ব্যক্ত করেন। তাদের প্রাথমিক বক্তব্যে উভয় নেতা বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বিগত অর্ধ শতাব্দির দৃঢ় সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে আগামী ৫০ বছরের জন্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করার আকাঙ্খা ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্ককে বিস্তৃত, গতিশীল ও বহুমুখী উল্লেখ করে ড. মোমেন এই সম্পর্ককে আরো উন্নত, সম্প্রসারিত ও সুদৃঢ় করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবসে “জয় বাংলা” দিয়ে শেষ করা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রেরিত উষ্ণ বার্তার জন্য ধন্যবাদ জানান।
বৈঠকে তারা অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদার ও বহুমুখীকরণ, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান, জলবায়ু পরিবর্তন, শ্রম অধিকার, নাগরিক স্বাধীনতা এবং নির্বাচনসহ পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ও অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা করেন। বাংলাদেশে শ্রম খাত সংস্কারের চলমান এবং সম্পন্ন কাজ সম্পর্কে ব্লিঙ্কেনকে অবহিত করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, দুই দেশের মধ্যে শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের এই প্রচেষ্টাগুলোকে যথাযথভাবে মূল্যায়ণ করা হবে। ব্লিঙ্কেন বাংলাদেশে শ্রম পরিস্থিতির আরো উন্নতির জন্য দুই দেশের মধ্যে চলমান যৌথ কর্মকান্ডের অগ্রগতির বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বাংলাদেশের উদার বিনিয়োগ ব্যবস্থার সদ্ব্যবহার করতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতকে বাংলাদেশে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাই-টেক পার্কে বিনিয়োগে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান।
ড. মোমেন মার্কিন সরকারকে কোভিড-১৯ অতিমারি মোকাবেলায় উদার সহায়তা এবং বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সাহায্য অব্যাহত রাখার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে স্বেচ্ছায় প্রত্যাবাসনের পরিবেশ সৃষ্টির জন্য মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধির উপর জোর দেন। এ সময় ব্লিঙ্কেন রোহিঙ্গাদেরকে শ্রম সেক্টরে পুনর্বাসনের আহবান জানালে ড. মোমেন বলেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর চাকরির বাজারে প্রবেশের জন্য তৈরী হচ্ছে ২০ লাখ মানুষ। তাদের কর্মসংস্থানেই সরকার হিমসিম খাচ্ছে। এ অবস্থায় রোহিঙ্গাদের কর্মসংস্থান করতে হলে তাদেরকে দক্ষ জনশক্তিতে পরিণত করতে প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। এ দায়িত্বটি যুক্তরাষ্ট্র নিতে পারে। এছাড়া, রোহিঙ্গা শরনার্থীদেরকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দিয়েও মানবিকতায় অনন্য এক নজির স্থাপন করতে পারবে যুক্তরাষ্ট্র।
বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি দণ্ডপ্রাপ্ত রাশেদ চৌধুরীকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি পুনরায় অনুরোধ জানান ড. মোমেন।
বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসে প্রেরিত উষ্ণ বার্তার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রেরিত একটি চিঠি হস্তান্তর করেন।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরান, ডেপুটি চীফ অফ মিশন ফেরদৌসী শাহরিয়ার, মহাপরিচালক (উত্তর আমেরিকা) খন্দকার মাসুদুল আলম এবং ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে কাউন্সেলর ডেরেক শোলে, জনসংখ্যা, শরণার্থী ও অভিবাসন বিষয়ক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অব স্টেট জুলিয়েটা ভালস নয়েস, গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং শ্রম বিষয়ক ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অব স্টেট কারা ম্যাকডোনাল্ড, দক্ষিণ এবং মধ্য এশিয়া বিষয়ক ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অব স্টেট আফরিন আক্তার সেক্রেটারি ব্লিঙ্কেনের সাথে ছিলেন।



