
যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি | বুধবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৩ | প্রিন্ট | ২০৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

একাত্তরের রনাঙ্গনে অসাধারণ বীরত্ব প্রদর্শনকারী মুক্তিযোদ্ধা রহুল আমিন ভূইয়া প্রবাস জীবনেও মানবিকতার ডাকে সাড়া দিতে গিয়ে ছিনতাইকারী দুর্বৃত্তের ধাক্কায় পাকা রাস্তায় পড়ে গিয়ে মাথা ফেটেছিল। এ অবস্থায় দীর্ঘ ১১ মাস ১৪দিন কোমায় থাকার পর ২৫ এপ্রিল ভোর রাতে মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন ভূইয়া (৭৬) নিউইয়র্ক সিটির ফ্লাশিং হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন)।
ভোলার সন্তান রুহুল আমিন গত বছরের ১১ মে সকাল সাড়ে ১১টায় কুইন্সের হিলসাইড এভিনিউতে ফাতেমা গ্রোসারির পাশ দিয়ে বাসায় যাবার সময় কৃষ্ণাঙ্গ এক ছিনতাইকারীর ধাক্কায় গুরুতরভাবে আহত হয়েছিলেন। তারপর চিকিৎসকরা শতচেষ্টা করেও তার জ্ঞান ফেরাতে পারেনি।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বয়ে গঠিত ‘বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়্যার ভেটারন্স’৭১’র সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রুহুল আমিন ভূঁইয়া জ্যামাইকা হিলসাইডের ৮৭-৩২,১৬৬ স্ট্রীটে স্ত্রী, সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন। ৫ পুত্র-কন্যার মধ্যে ৪ জনই যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন। এক কন্যা বাস করেন বাংলাদেশে।
২৫ এপ্রিল মঙ্গলবার বাদ মাগরিব মরহুমের নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয় জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে। এ সময় রুহুল আমিনের বীরত্বেন স্মৃতিচারণকালে কম্যুনিটি লিডার ও জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার বলেন, এক কৃষ্ণাঙ্গ দুর্বৃত্ত কারো মূল্যবান জিনিষ ছিনিয়ে নিয়ে দৌড়ে পালাচ্ছিল। আমি তা দেখে পথচারিগণের প্রতি আহবান জানাই দুর্বৃত্তকে থামানোর জন্যে। সে সময়েই চোখে পড়লো আমার প্রতিবেশী রুহুল আমিন ভাই ছিনতাইকারীকে পাকড়াওয়ের চেষ্টা করে উল্টো ছিটকে পড়লেন রাস্তার ওপর। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়। কিন্তু তার জ্ঞান ফিরেনি। তবে কয়েক মাস আগে সামান্য জ্ঞান ফিরেছিল। কিছু কথা বলেছেন। কিন্তু আরোগ্য লাভে সক্ষম হননি।
জানাযার প্রারম্ভে জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তানকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সম্মান জানিয়ে বক্তব্য দেন ডেপুটি কন্সাল জেনারেল এস এম নাজমুল হাসান। মরহুমের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় মো. ফরিদ এবং ‘বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়্যার ভেটারন্স’৭১’র প্রেসিডেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা খান মিরাজও তাঁর স্মৃতিচারণ করেন এবং সকলকে দোয়া করার আহবান জানান।
জানাযায় বিপুলসংখ্যক মুক্তিযোদ্ধা ছাড়াও প্রবাসের বিশিষ্টজনেরা অংশ নেন। জানাযা শেষে মুক্তিযোদ্ধার কফিনে স্যালুট জানান সহযোদ্ধারা। নেতৃত্ব দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তফা খান মিরাজ। এরপর এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয় নিজ নিজ ধর্মগ্রন্থ থেকে মরহুমের আত্মার শান্তি কামনায়। স্যালুটে অংশগ্রহণকারি মুক্তিযোদ্ধাগণের মধ্যে ছিলেন ‘বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়্যার ভেটারন্স’৭১’র সেক্রেটারি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক হোসেইন, ভাইস প্রেসিডেন্ট মিজানুর রহমান, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ’৭১ এর যুক্তরাষ্ট্র চ্যাপ্টারের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার, সেক্রেটারি বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল বারি, ভাইস প্রেসিডেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার চুন্নু, প্রচার সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহমান, দফতর সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা এনামুল হক, নির্বাহী সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদ, গুলজার হোসেন, যুক্তরাষ্ট্র মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কর্মকর্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. এম এ বাতেন, সদস্য শরাফ সরকার, মনিরুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদের সভাপতি খোরশেদ আনোয়ার বাবলু, সেক্রেটারি শওকত আকবর রীচি প্রমুখ। এ সময় রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন ডেপুটি কন্সাল জেনারেল এস এম নাজমুল হাসান। তাকে দাফন করা হবে প্রিয় জন্মভ’মিভোলার পারিবারিক গোরস্থানে।
২৬ এপ্রিল বুধবার তার কফিন বাংলাদেশে পাঠানো হচ্ছে বলে জানা গেছে। সাথে যাচ্ছেন তার স্ত্রী ও পুত্র-কন্যারা।



