
নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার, ২৭ মে ২০২৩ | প্রিন্ট | ৫৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

২৭ মে হেনরি সিঞ্জিারের শততম জন্মদিন। একাত্তরে বাংলাদেশে পাক হায়েনাদের নৃশংসতার তথ্য জেনেও যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের পরিবর্তে উল্টো পাকিস্তানী হানাদারদের পক্ষাবলম্বনের পরামর্শ দেন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনকে। এমনকি,মুক্তিযোদ্ধারা যখন পাক হায়েনাদের একের পর পরাস্থ করছিলো, এবং নিরস্ত্র বাঙালিদের বিরুদ্ধে হত্যাযজ্ঞ চালানোর তথ্য তদানিন্তন ঢাকাস্থ মার্কিন কন্সাল জেনারেল আর্চার কে ব্লাডের টেলিগ্রাফে জানা সত্বেও বিন্দুমাত্র কর্ণপাত করেননি একাত্তরে প্রেসিডেন্ট নিক্সনের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হেনরি কিসিঙ্গার। এমনকি, আজ অবধি, বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট নিক্সন বেঁচে থাকার সময়ে কখনোই একাত্তরে পাকিস্তানী সৈন্যদের গণহত্যায় সহযোগিতার জন্যে দু:খ প্রকাশ করতে পরামর্শ দেননি কিংবা নিজেও এখন পর্যন্ত অনুতাপ প্রকাশ করেননি।
এমনকি, ইয়াহিয়া খান জান্তার বর্বরতারও নিন্দা জানাননি। মুক্তিযুদ্ধের পরই বাংলাদেশ ভয়ংকর এক সংকটে পতিত হতে পারে জানার পর হেনরি কিসিঞ্জার ‘বাস্কেট কেস’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। যাকে ‘তলাবিহীন বাস্কেট’ হিসেবে উল্লেখ করা হয় সর্বমহলে। সময়ের বিবর্তনে বাংলাদেশ এখন খাদ্যে উদ্বৃত্ত দেশে এবং উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হলেও সেই কিসিঞ্জারের বোধোদয় ঘটেনি। এমনকি, বয়সের ভারে ন্যুব্জ কিসিঞ্জারের লেখা কয়েকটি পুস্তকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন দেশে চালানো যুদ্ধের নামে হত্যাযজ্ঞের ঘটনাবলিকেও জায়েজ করার অপচেষ্টা চালিয়েছেন। এসব কারণে বিবেকসম্পন্ন আমেরিকানরাও তার প্রতি বিতশ্রদ্ধ।
সর্বশেষ কিসিঞ্জারের একটি সাক্ষাতকার প্রচার করেছে গত রবিবার সিবিএস টেলিভিশন। সেখানে সিনিয়র সাংবাদিক টেড কপেল তার কাছে জানতে চেয়েছিলেন ক্যাম্বোডিয়ায় ১৯৬৯ থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত বোমা হামলায় কমপক্ষে দেড় লাখ নিরস্ত্র মানুষকে হত্যার ব্যাপারে তার মধ্যে কোন অনুসোচনাবোধ আছে কিনা। সাফ জবাব-সেটি ছিল সময়ের প্রয়োজনে যথাযথ পদক্ষেপ।
বিতর্কিত সাবেক নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনসি কিসিঞ্জারের শততম জন্মবার্ষিকীর দিনটি খুবই সংক্ষিপ্ত পরিসরে উদযাপিত হচ্ছে নিউইয়র্ক সিটিতে।



