
বিশেষ সংবাদদাতা | শুক্রবার, ২৩ জুন ২০২৩ | প্রিন্ট | ৮৪ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

হোয়াইট হাউসে মোদিকে স্বাগত জানান বাইডেন। ছবি-সংগ্রহ।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে হোয়াইট হাউসে স্বাগত জানাতে সাউথ লনে ২২ জুন বৃহস্পতিবার সকালে জড়ো হয় তিন হাজারের অধিক ভারতীয় আমেরিকান। এমনটি আগে কখনো ঘটেনি বলে উচ্ছ্বসিত চিত্তে বললেন পূর্নিমা ভরিয়া। স্টেট ডিপার্টমেন্টের বাণিজ্য বিষয়ক সাবেক উপদেষ্টা এবং ন্যাশনাল ইউএস ইন্ডিয়া চেম্বার অব কমার্সের সিইও পূর্নিমা উল্লেখ করেন, এমন অভাবিত দৃশ্যে আমরা গৌরববোধ করছি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্যে। হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে এতমানুষকে উপস্থিত হবার অনুমতি আগে কখনো দেয়া হয়নি।
সকাল ১০টায় মোদিকে হোয়াইট হাউসে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। সাথে ছিলেন ফার্স্টলেডি জিল বাইডেন। দু’দেশের দুই নেতা পোডিয়ামে দাঁড়ালে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। তার ঘন্টাখানেক আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্টেট থেকে এসে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের পতাকা হাতে সাউথ লনে জড়ো হওয়া শত-সহস্র ভারতীয় ‘বন্দে মাঁতরম’, ‘ভারত মাতা কী জয়’, ‘মোদি-মোদি’ ইত্যাদি গগনবিদারি স্লোগানে মেতে উঠেন। উল্লেখ্য, মোদির এই সফরের নিন্দা জানিয়ে ১৮ সিনেটর এবং ৫৭ কংগ্রেসম্যানের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে প্রদান করা হয় দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকে ভারতে মানবাধিকার লংঘনের পরিস্থিতি উত্থাপনের জন্যে। নিউইয়র্কে মোদির আগমনের নিন্দা জানিয়ে সিটি কাউন্সিলে প্রথম মুসলিম কাউন্সিলওম্যান শাহানা হানিফসহ বেশ ক’জন এক যুক্ত বিবৃতিতে সর্বসাধারণের প্রতি আহবান জানানো হয়েছিল মোদিকে বর্জনের।
এ সময় ব্যান্ড পার্টি মার্চ করে সশস্ত্র অভিবাদনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট বাইডেন মোদিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, গত ১৫ বছরের মধ্যে এই প্রথম আপনাকে হোয়াইট হাউসে স্বাগত জানাতে পেরে নিজেকে গৌরবান্বিত মনে করছি। কারণ, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের মধ্যেকার সম্প্রীতির বন্ধন সর্বদা মানবতার কল্যাণে নিবেদিত।
বাইডেন বলেন, গরিবানা হটাতে, জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়ংকর আশংকা দূর করতে, জনস্বাস্থ্য সম্পর্কিত সমস্যার সমাধানে, সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র একযোগে কাজ করে যাবে। বাইডেন উল্লেখ করেন, দু’দেশের মধ্যেকার এই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের মধ্যদিয়ে ব্যবসা-বিনিয়োগের পাশাপাশি মেধার সমন্বয় ঘটিয়ে বিশ্বের নেতৃত্ব অটুট রাখতেও সক্ষম হবো। ভবিষ্যতের স্বার্থে আইন অনুযায়ী সব ধরনের বৈষম্য দূরিকরণ, কথা বলার অধিকার সুরক্ষা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, বহুজাতিয়তা এবং জনগণের সাংস্কৃতিক বৈচিত্রকে সমুন্নত রাখতে আমরা সংকল্পবদ্ধ। বিদ্যমান সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলাতেও পরস্পরের প্রতি আস্থাশীল হয়ে কাজ করতে হবে।
দিনের কর্মসূচিতে রয়েছে দ্বি-পাক্ষিক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে কয়েকটি চুক্তিতে স্বাক্ষর। কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে মোদির ভাষণ এবং হোয়াইট হাইজে যৌথ সংবাদ সম্মেলনের পর জমকালো ডিনার পার্টি। এটি হচ্ছে বাইডেন প্রেসিডেন্সির তৃতীয় ডিনার পার্টি, যেখানে মোদিও জন্যে থাকবে নিরামিষ-খাবারের আয়োজন। অন্য অতিথিগণের জন্যে থাকবে ভারতীয় রসনায় পরিপূর্ণ সব খাবার। এ ডিনারে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরানকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
মোদির এ সফর সকল মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচার হচ্ছে। চীনের উত্থান ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে বিকল্প শক্তি হিসেবে আবির্ভূত করতে চায় বলেও মন্তব্য করা হচ্ছে প্রধান প্রধান মিডিয়ায়। এজন্যে ভারতের কোন চাওয়াই অপূর্ণ রাখতে চায় না বাইডেন প্রশাসন-এমন অভিমতও আসছে। ভারতে বিমান বাহিনীর সাথে যৌথ উদোগে যুদ্ধ বিমানের ইঞ্জিন তৈরীর একটি চুক্তিসহ বাণিজ্য-বিনিয়োগ-তথ্য-প্রযুক্তির প্রসারের কয়েকটি চুক্তিও সম্পাদিত হবার কথা বাইডেন-মোদি বৈঠকের পাশাপাশি। ২৪ জুন মোদির যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগের কথা।



