
নিউইয়র্ক প্রতিনিধি | বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২ | প্রিন্ট | ১৫৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

যুক্তরাষ্ট্রে ‘সোনালী এক্সচেঞ্জ’র কার্যক্রম পরিদর্শনকালে সোনালী ব্যাংকের এমডি আতাউর রহমান প্রধান বলেছেন, বাংলাদেশে চলমান উন্নয়ন পরিক্রমায় প্রবাসীদের অবদান অনস্বীকার্য। প্রবাসীদের প্রেরিত অর্থেই করোনাকালেও বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল রয়েছে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে। বাংলাদেশের উন্নয়নে সরাসরি অবদান রাখতে পারেন তথা বিনিয়োগের সুযোগ পেতে পারেন, সে জন্যে যুক্তরাষ্ট্রে সোনালী ব্যাংকের পূর্ণাঙ্গ শাখা চালুর কথা ভাবছে সরকার। এই কার্যক্রম কিভাবে শুরু করা যায় তার একটি গাইডলাইন সোনালী এক্সচেঞ্জের প্রেসিডেন্ট এবং সিইও দেবশ্রী মিত্রসহ অন্যদের প্রদান করেন তিনি।
আতাউর রহমান ২৭ জুন এসেছিলেন নিউইয়র্কে। এরপর তিনি আটলান্টা ঘুরে ২৯ জুন নিউইয়র্ক হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছেন। সংক্ষিপ্ত এই সময়ের মধ্যেই সোনালী এক্সচেঞ্জের কার্যক্রম পরিদর্শন, গ্রাহকের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, অন্য একচেঞ্জ হাউজের চেয়ে অধিকতর সুবিধা ইত্যাদি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে কথা বলেছেন সোনালী ব্যাংকের এমডি আতাউর রহমান প্রধান। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ব সোনালী ব্যাংকের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হচ্ছে সোনালী এক্সচেঞ্জ।
সোনালী ব্যাংকের সিইও এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোঃ আতাউর রহমান প্রধান করোনার ভয়াবহতার মধ্যেও বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসীরা যেভাবে তাঁদের কষ্টার্জিত অর্থ দেশে পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছেন এবং এজন্যে অন্যান্য এক্সচেঞ্জ হাউজের পাশাপাশি বিশেষ করে সোনালী এক্সচেঞ্জকে রেমিটেন্স পাঠানোর মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন এজন্যে সবাইকে তাঁর পক্ষ থেকে বিশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন। প্রধান বলেন, সোনালী ব্যাংক এবং সোনালী এক্সচেঞ্জ পুরোপুরিই সরকারি প্রতিষ্ঠান। উদ্ভাবনী ব্যাংকিং-এ সোনালী ব্যাংক বিশ^স্ততার সাথে কাজ করছে। ইতোমধ্যে অনলাইন ব্যাংকিংসহ প্রযুক্তিগত সকল সেবা প্রদান শুরু করেছে।
শুধু ব্যাংকিং নয়, অনেকগুলো সেবামূলক কাজে আজ সোনালী ব্যাংকই এগিয়ে। সোনালী ব্যাংকের সূবর্ণ জয়ন্তীতে ‘সূবর্ণ জয়ন্তীর অঙ্গীকার সোনালী ব্যাংক হবে সবার’ এই শ্লোগানকে ধারণ করে সোনালী ব্যাংক এগিয়ে চলছে। ‘সোনালী ই ওয়ালেট’ মোবাইল অ্যাপস ব্যবহার করে ঘরে বসেই গ্রাহকরা এখন ব্যাংকিং করার পাশাপাশি বিভিন্ন বিল পরিশোধ ও নানান ডিজিটাল সেবা গ্রহন করতে পারছে অনায়াসে। এদিকে নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করেও সোনালী এক্সচেঞ্জ এগিয়ে চলছে। এর সেবার মান আরো বাড়ানো এবং সেবা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেবার ব্যাপক কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। এর সফলতা কিন্তু সকল প্রবাসীকে নিয়েই। তাদের পাঠানো অর্থের মাধ্যমেই রিজার্ভ বাড়ছে এবং সাথে সাথে বাংলাদেশের বড় বড় অবকাঠামোগত উন্নয়ন হচ্ছে। দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে এর প্রভাব সুদূর প্রসারী। জাতীয় উন্নয়নের এক অভাবনীয় কর্মতৎপরতা চলছে আজ বাংলাদেশ জুড়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের যেসব সিটিতে বাংলাদেশিদের উপস্থিতি বেড়েছে, সেগুলোতে সোনালী এক্সচেঞ্জের শাখা কার্যক্রম চালানো যায় কিনা বা নতুন নতুন অঙ্গরাজ্যে ব্যবসা পরিচালনার লাইসেন্স নেয়া যায় কিনা তার সম্ভাব্যতা যাচাই করেন ব্যাংকের এমডি আতাউর রহমান প্রধান। এ সময় সরেজমিনে অনেক গ্রাহকদের সাথেও কথা বলেন। টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে তাঁদের বিভিন্ন সুবিধা অসুবিধার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। ব্যবসা সম্প্রসারণে এবং সেবার মান আরো বাড়িয়ে কিভাবে সেবা মানুষের হাতের নাগালে পৌঁছানো যায় তার বিভিন্ন দিক নির্দেশনা তিনি সোনালী এক্সচেঞ্জে কর্মরত সবাইকে প্রদান করেন।
দেশে এখন বিনিয়োগের একটি সুবর্ণসূযোগ তৈরী হয়েছে বলে উল্লেখ করে প্রবাসীদেরকে দেশে বেশী বেশী বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান আতাউর রহমান প্রধান। বিশেষ করে পদ্মা সেতু, মেট্টোরেল, কর্ণফূলী টানেল, রূপপুর পারমানবিক প্রকল্পের মতো মেগা প্রকল্পগুলো এক এক করে চালু হচ্ছে, আর এর সুফল নেয়ার জন্য প্রবাসীদের আহ্বান জানান। এ সমস্ত কাজে প্রবাসীদের ব্যাপক অবদান আছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। উন্নয়নের ধারায় নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করতে নিশ্চিন্তে আরো বেশী বিনিয়োগ করতে তিনি উৎসাহিত করেন। বিশেষ করে সরকারী বন্ডে বিনিয়োগ করে ব্যাপক মুনাফা অর্জন করা সম্ভব বলে তিনি জানান। এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে সোনালী এক্সচেঞ্জ এবং দেশে সোনালী ব্যাংক, সবসময় পাশে থাকবে বলে তিনি জানান।



