Advertisement Placeholder

সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা : দল এবং দেশবাসী চাইলে পুতুল হতে পারবেন আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতা

লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র   |   শনিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩   |   প্রিন্ট   |   ৭৭ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা : দল এবং দেশবাসী চাইলে পুতুল হতে পারবেন আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতা

নয়াদিল্লি এবং নিউইয়র্কে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের ডিনারে অংশগ্রহণের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলও ছিলেন। পুতুলের রয়েছে বিশ্বখ্যাতি অটিস্টিক আন্দোলনের নেতা হিসেবে। এমন প্রাসঙ্গিকতায় নিউইয়র্কে বাংলাদেশ মিশনের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে ২২ সেপ্টেম্বর শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে একজন সংবাদদাতা জানতে চেয়েছিলেন যে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ভবিষ্যত নেতা হিসেবে কী পুতুল আসছেন? সহাস্যবদনে শেখ হাসিনা বললেন, কোনোই সম্ভাবনা নেই। কারণ, সেটি নির্ভর করে একান্তভাবেই দলীয় সিদ্ধান্তের ওপর। কাউন্সিলররা ভোটের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতা নির্বাচন করেন। শেখ হাসিনা বলেন, দেশবাসীর প্রত্যাশার পরিপূরক নেতা নির্বাচিত হয়ে আসছে আওয়ামী লীগে।

জাতিসংঘের চলতি সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের বক্তব্য উপস্থাপন করার পরই অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে যোগদান করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি নূর-এলাহি মিনার সমন্বয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য লেখক নজরুল ইসলামের সঞ্চালনায় এ সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিদিনের এ সংবাদদাতা বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বাধাদানে দায়ী এবং তাতে সহযোগিতাকারী ব্যক্তিদের ওপর ভিসা বিধিনিষেধ আরোপের পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে বলে ২২ সেপ্টেম্বর সকালে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির প্রসঙ্গ টেনে জানতে চান, আপনার অঙ্গিকারের পূর্ণ বাস্তবায়ন দেখার অভিপ্রায়েই তারা এমন পদক্ষেপ নিলো। যেখানে বিরোধী দলের লোকজনের বিরুদ্ধেও ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। আপনার অঙ্গিকারের পূর্ণ বাস্তবায়নের মধ্যদিয়েই তো মার্কিন প্রশাসনের এমন আচরণের উপযুক্ত জবাব দেয়া যায়। জবাবে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকার আদায়ে তার নেতৃত্বে বিগতদিনের আন্দোলনের কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, ২০০১ সালে ক্ষমতায় ছিল বিএনপি। সে সময় তারা এক কোটি ২৩ লাখ ভূয়া ভোটার দিয়ে তারা ভোটার তালিকা করেছিল ইলেকশন করার জন্য।

আপনাদের ভুললে চলবে না যে, খালেদা জিয়াই ৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচন করেছিল বলে বাংলাদেশের মানুষ সে নির্বাচন গ্রহণ করেনি। আন্দোলনের কারণেই কিন্তু ইলেকশনের দেড় মাসের মধ্যেই পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিল। বাংলাদেশের জনগণ তাদের ভোটের অধিকার সম্পর্কে যথেষ্ঠ সচেতন। আর এই সচেতনতা সৃষ্টি করেছি আমরা। আমাদের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যদিয়ে, আমাদের বহু নেতাকর্মীর রক্তের মধ্যদিয়ে আমরা নির্বাচনী প্রক্রিয়াটাকে সুষ্ঠুভাবে নিয়ে এসেছি। শেখ হাসিনা বলেন, আজ ট্র্যান্সপ্যারেন্ট ব্যালট বাক্স, ছবিসহ ভোটার তালিকা, ভোটের অধিকার সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনা সৃষ্টি করা, ‘আমার ভোট আমি দেব-যাকে খুশী তাকে দেব’-এই স্লোগানতো আমারই দেয়া। ভোট ও ভাতের অধিকারের আন্দোলন তো আমরাই করেছি।

শেখ হাসিনা বলেন, অনেকে যখন ইলেকশন নিয়ে প্রশ্ন উঠায় তারা কী ২০০১ সালের নির্বাচনের ব্যাপারটা ভুলে গেছে। আর যখন অবৈধভাবে ‘৭৫ সালের পর সরকার গঠন করে মিলিটারি ডিকটেটররা ক্ষমতা দখল করলো, রাতারাতি ঘোষণা দিয়ে রাষ্ট্রপতি হয়ে গেল, আবার রাষ্ট্রপতি হয়েই সংবিধান লংঘন করে নির্বাচনের নামে প্রহসন, হ্যাঁ না ভোট, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, এই যে খেলাগুলো খেললো, তখোনর এই নির্বাচনে সচতেনতাটা কোথায় ছিল? তখন কিন্তু কারো কাছে থেকে কোন শব্দ পাইনি। বরঞ্চ আমরাই প্রতিবাদ করেছি। বাংলাদেশের জনগণ আন্দোলন করেছে, রক্ত দিয়েছে। এখন নির্বাচনে যতটুকু স্বচ্ছতা আছে, এই যে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যতগুলো বাই ইলেকশন হয়েছে, উপ-নির্বাচন হয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়েছে, সবগুলো নির্বাচনেই জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়েছে। আর আমরাও সরকারে এসেছি জনগণের ভোটেই। কেউ আমদেরকে হাতে তুলে দেয়নি। কাজেই নির্বাচন স্বচ্ছ ও অবাধ হোক-এটা আমরাই চাই।

Journos at Sheikh Hasina's NY Press Conference

সর্বশেষ এ ভিসা নিষেধাজ্ঞার ঘোষণায় বিরোধী দলের কথাও বলা হয়েছে। এতে অন্তত বিএনপি যেমন ২০১৪ সালের নির্বাচন ঠেকাতে অগ্নি সন্ত্রাস হয়েছিল, ২০১৮ সালে নির্বাচন ঠেকাতে যেমন তারা সন্ত্রাস করেছিল, ৫০০টি ভোট কেন্দ্র পুড়িয়ে দিয়েছিল। ৩৮২৫টির মত যানবাহন পুড়িয়েছিল। যানবাহনে যাত্রীসহ আগুন দিয়ে মানুষ পুড়িয়েছিল। ২৯টি রেল, লঞ্চে আগুণ দিয়েছিল নির্বাচন ঠেকানোর নামে। অবরোধ হয়েছে, এখনও করা হচ্ছে। এভাবে নির্বাচন বানচাল করার যে প্রচেষ্টা চালিয়েছিল, সেই ছবিটা এখন বড় করে প্রচার করছে। এ সময় গণমাধ্যম কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, সব তথ্যগুলেঅই ভালোর করে দেখান। তারা যে স্যাংশন দিচ্ছে-সেটিও দেখতে হবে। একতরফা দেখলে চলবে না। শুরুটা কারা করলো সেটি আগে দেখতে হবে। আর যদি শুধু আওয়ামী লীগকে টার্গেট করে থাকে, তাহলে আমার কিছু বলার নেই। শেখ হাসিনা বলেন, আমি কিন্তু কারো শক্তির ওপর ভর করে ক্ষমতায় আসিনি। আমি ক্ষমতায় এসেছি জনগণের শক্তিতে, জনগণের ভোটে, তাই আমি কাজ করছি জণগণের কল্যানে। এখানেই হলো আমাদের স্বার্থকতা। কাজেই কে স্যাংশন দিল, কে দিলো না, আত্মীয়-স্বজন থাকলেই কি সমস্যা করা হবে। আমার ছেলেও তো এখানেই মাস্টার করেছি। সে এখানে পড়াশোনা করেছে, ব্যবসা-বাণিজ্য করেছে, বিয়ে করেছে, তার মেয়ে আছে, সবই আছে। বাড়ি-ঘর যা আছে সবইতো তারই। তাই সকলের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, যদি যুক্তরাষ্ট্র ছেলের ভিসাও বাতিল করে তবুও বলার কিছু নেই। এতে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। আসে যায়ও না। আমাদের বাংলাদেশতো আছেই।

শেখ হাসিনা পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন, যারা বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে কথা বলছেন, তাদের নিজ দেশেও কিন্তু অনেক বড় সমস্যা রয়েই গেছে। তাদের নির্বাচনকে একজন প্রার্থী এখন পর্যন্ত মেনে নেননি। এদেশের বিরোধী দলের সাথে কী ধরনের আচরণ করা হচ্ছে, আমরা কিন্তু তাও করছি না। যে খালেদা জিয়া আমাকে বারবার হত্যার চেষ্টা করেছে, সেই খালেদাকে আমি বিশেষ বিবেচনায় বাসায় থাকার সুযোগ দিয়েছি।
শেখ হাসিনা বলেন, জনগন যদি আওয়ামী লীগকে ভোট দেয় তাহলে আবার ক্ষমতায় আসবে আওয়ামী লীগ। তিনি বলেন, নির্বাচন বানিচালের চেষ্টা যেন দেশের বাইরে থেকেও না হয়। দেশের বাইরে থেকে যদি হয় তাহলে বাংলাদেশের মানুষও তাদের বিরুদ্ধে স্যাংশন দিয়ে দেবে। সংবাদ সম্মেলন মঞ্চে শেখ হাসিনার পাশে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে এ আব্দুল মোমেন এবং জাাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি এম এ মুহিত।

উল্লেখ্য, ১৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে এসেছিলেন শেখ হাসিনা। জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে বক্তব্য ছাড়াও বেশ কটি সাইড ইভেন্ট, দ্বি-পাক্ষিক বৈঠকেও অংশ নেন শেখ হাসিনা। ২৩ সেপ্টেম্বর শনিবার সকালে তিনি ওয়াশিংটন ডিসির উদ্দেশ্যে নিউইয়র্ক ত্যাগের কথা। ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তার ওয়াশিংটন ডিসিতে থাকার কথা।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার