Advertisement Placeholder
আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা

করোনার পর চীনে এবার রহস্যজনক নিউমোনিয়ার হানা

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর ২০২৩   |   প্রিন্ট   |   ৭৭ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

করোনার পর চীনে এবার রহস্যজনক নিউমোনিয়ার হানা

প্রতীকী ছবি

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছিল চীন থেকেই। দেশটির উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে এই ভাইরাস। পরে তা গোটা বিশ্বে তাণ্ডব চালায়। মারা যায় লাখ লাখ মানুষ। আক্রান্ত হয় কোটি কোটি মানুষ।

সময়ের সঙ্গে নিয়ন্ত্রণে এসেছে করোনা। কিন্তু দেশটিতে এবার শিশুদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে রহস্যজনক নিউমোনিয়া। রাজধানী বেইজিংসহ চীনের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়েছে এই রোগ।

জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ে ইনফ্লুয়েঞ্জার বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দিলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শ্বাসকষ্ট শুরু হচ্ছে আক্রান্ত শিশুদের, যা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের বেলায় দেখা যায়।
গত ১২ নভেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ন্যাশনাল হেলথ কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশজুড়ে প্রতিদিনই বাড়ছে এই রোগটিতে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা। করোনাকালে জনগণ যেসব বিধিনিষেধ মেনে চলতেন, অজানা এই নিউমোনিয়ার ছড়িয়ে পড়া রোধ করতেও দেশের লোকজনজকে সেসব বিধিনিষেধ মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন ন্যাশনাল হেলথ কমিশনের কর্মকর্তারা।

জনস্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ বিষয়ক আন্তর্জাতিক নজরদারি সংস্থা প্রোমেড ইতোমধ্যে এক বিবৃতিতে এ বিষয়ক সতর্কবার্তা জারি করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চীনের শিশুদের মধ্যে বর্তমানে যে নিউমোনিয়া শুরু হয়েছে, সেটি কতখানি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে— তা এখনও নির্ণয় করা যায়নি।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে করোনা দেখা দেওয়ার পর সবার আগে বিশ্ববাসীকে এই রোগ সম্পর্কে সতর্কবার্তা দিয়েছিল প্রোমেড।

তাইওয়ানভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল এফটিভি নিউজ বুধবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, রাজধানী বেইজিং এবং উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ লিয়াওনিংয়ে এই রোগের প্রাদুর্ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে এই দুই অঞ্চলের হাসপাতালগুলোতে এই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের উপচে পড়া ভিড় শুরু হয়েছে।

এই রোগটিকে ‘রহস্যময় নিউমোনিয়া’ বলার বড় কারণ হলো— সাধারণ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে জ্বরের পাশাপাশি কফ, বুকে জমাট বেঁধে থাকা কফের শব্দ এবং সেই কারণে শ্বাসকষ্ট দেখা যায়।

কিন্তু এখন পর্যন্ত যেসব শিশু এই রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে তাদের অভিভাবকদের মাধ্যমে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য এসেছে, তাদের মধ্যে কফ কিংবা বুকে জমাটবাঁধা কফের মতো কোনো উপসর্গ দেখা যায়নি।

বরং যে দু’টি উপসর্গ দেখা গেছে, সেগুলো হলো— উচ্চমাত্রার জ্বর এবং এবং শ্বাসকষ্ট। শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আক্রান্ত প্রত্যেক শিশুর ফুসফুসে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ফোসকা পরিলক্ষিত হয়েছে। জলবসন্ত রোগে মানুষের শরীরে যেমন ফোসকা ওঠে, সেসবের সঙ্গে মিল রয়েছে সেগুলোর।

এফটিভি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিয়াওনিংয়ের দালিয়ান শহরের শিশু হাসপাতালের লবিতে রীতিমতো ভিড় শুরু হয়েছে এই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশু এবং তাদের অভিভাবকদের। এছাড়া বেইজিং এবং লিওয়াওনিংয়ের ঐতিহ্যগত দেশীয় হাসপাতাল ও অন্যান্য হাসপাতালেও প্রচুর সংখ্যক শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা, ডব্লিউএইচও

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার