Advertisement Placeholder

হার্ভার্ডে রেজা কিবরিয়া : ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেব, তবে শেখ হাসিনার অধীনে নয়

লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র   |   সোমবার, ১৮ জুলাই ২০২২   |   প্রিন্ট   |   ১০৭ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

হার্ভার্ডে রেজা কিবরিয়া : ৩০০ আসনেই প্রার্থী দেব, তবে শেখ হাসিনার অধীনে নয়

‘আমাদের গণঅধিকার পরিষদ এবং মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন নাগরিক ঐক্য’র মত সংগঠনগুলো হচ্ছে সত্যিকারের বিরোধী দল। আর দালাল বলতে জিএম কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টির মত দলগুলো। বাছবিচার করে আপনাদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারকল্পে কোন দলকে অর্থ এবং সাংগঠনিক সহায়তা দেবেন। এই সময়ে রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনায় তহবিল একটি বড় ফ্যাক্টর। বারাক ওবামার স্টাইলে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংকের অর্থ সংগ্রহ করার চেষ্টা করেছি। বিকাশের মাধ্যমে ১২ লাখ টাকা জোগাড় হয়েছিল আমাদের। কিন্তু সেটিও সরকার সীজ করেছে’-এসব কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্র সফররত গণঅধিকার পরিষদের আহবায়ক ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া।

১৬ জুলাই শনিবার ‘বাংলাদেশ প্রোগ্রেসিভ এলায়েন্স অব নর্থ আমেরিকা’র (বিডিপানা) ব্যানারে বস্টনে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়েলসটন হলের ফং মিলনায়তনে (Fong Auditorium, Boylston Hall, Harvard University) অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে চ্যালেঞ্জ ও উপায়’ শীর্ষক এক আলোচনায় ড. রেজা কিবরিয়া আরো বলেছেন, ‘আমার নেতৃত্বে কিছু পোলাপান কাজ করছিলাম বলে অনেকের আস্থা তেমনভাবে পাইনি। সেই অবস্থা কাটিয়ে উঠার লক্ষ্যে ব্রিগ্রেডিয়ার, কর্ণেল, মেজর, ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক, ব্যাঙ্কার, অবসরপ্রাপ্ত পেশাজীবী, জজ সাহেবদের দলে টানছি। এ মুহূর্তে দরকার হচ্ছে তহবিল। তাহলেই বাংলাদেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার প্রত্যাশা সহজে পূরণ হবে। কারণ, আন্দোলনের জন্যে গ্রামগঞ্জে জনমত তৈরীর জন্যেও অর্থের প্রয়োজন হয়। সাংগঠনিক টিমের খরচ সংগ্রহ করতে প্রবাসীরাও এগিয়ে যাবেন বলে আশা করছি। ড. রেজা বলেন, বাংলাদেশের ব্যবসায়ী-বিত্তশালীরা আমাদেরকে চাঁদা দিতে ভয় পায়। সরকারের দমন-পীড়নের ভয়।

আইএমএফ-সহ বহুজাতিক সংস্থার অর্থনীতিবিদ হিসেবে কাজ করা রেজা কিবরিয়া আরো বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের অধীনে কখনোই নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে না। তাই দুর্বার আন্দোলনে তাকে সরিয়ে দিয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের নেতৃত্বে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে। রেজা কিবরিয়া উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনার সরকারকে সরাতে তিন বছর সময় দেয়া হলে বাংলাদেশের অবস্থা শ্রীলংকার মত হয়ে পড়বে। কারণ, যেহারে লুটতরাজ করা হচ্ছে, তাতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা নাজুক হয়ে পড়বে। মহাসংকটে পড়া দেশ শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট রাজাপাকসের উদাহরন টেনে ড. কিবরিয়া বলেন, প্রেসিডেন্ট দুপুরের খাবার খেতে বাসার গিয়ে আর অফিসে ফিরে আসতে পারেনি। সরকারি বাসভবনে ঢুকে পড়েছিল হাজার হাজার বিক্ষোভকারী। এরপর থেকে মূলত: আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। তবে বাংলাদেশেও এমন ঘটনা অস্বাভাবিক কিছু না।
আজাদ খানের সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ প্রোগ্রেসিভ এলায়েন্স অব নর্থ আমেরিকা (বিডিপানা)-র সাধারণ সম্পাদক তানভির নেওয়াজ। তিনি তার বক্তব্যের দেশে বিভিন্নখাতে সরকারের দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বৃহৎ সেতুর নির্মাণ খরচের কথা তুলে ধরে পদ্মা সেতু নির্মাণে ব্যাপকহারে দুর্নীতি হয়েছে উল্লেখ করেন তানভির।

উল্লেখ্য, ২৯ জুন যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন রেজা কিবরিয়া। এটা তার ব্যক্তিগত সফর বলে এ সংবাদদাতাকে জানিয়েছেন। মূলত চিকিৎসার জন্যে এসেছেন। তবে পুরনো কানেকশনকে কাজে লাগিয়ে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে মার্কিন বন্ধুদের সহায়তা চেয়ে নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, ওয়াশিংটন মেট্র এলাকা চষে বেড়িয়েছেন ১৫ জুন বস্টনে যাবার আগে।

ড. রেজা কিবরিয়া বস্টনের এ আলোচনায় আরো বলেন, ‘আমি বিদেশে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে বড় বড় পদ-পদবি ছেড়ে দেশে ফিরে গেছি শুধু দেশের মানুষের সেবা করার উদ্দেশ্যে। আমার মনে হয়েছে, নিজ দেশের জনগণের জন্য কাজ করার সময় এসেছে।’ তিনি বলেন, ‘গণফোরাম ছেড়ে দিলেও আমার বাবা শাহ এএমএস কিবরিয়ার মতো আমিও জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই। বাংলাদেশে যারা গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে আমি তাদের সঙ্গে কাজ করে যাব।’ আগামী নির্বাচনে তিনশ’ আসনেই গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে শেখ হাসিনার অধীনে বা আমলে কোন নির্বাচনে নয়। বিডিপানার প্রতিষ্ঠাতা মোয়াজ্জেম কাজী, সদস্য মাহমুদ রহমান এবং সাজ্জাদ হোসেনসহ সদস্যসহ বেশকিছু প্রবাসী এ আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার