Advertisement Placeholder

অপহরণ-মুক্তিপণসহ নানা মামলা : বাংলাদেশি রুহেল চৌধুরীর খোঁজে ২০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করলো এফবিআই

লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র   |   শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   ১৮১ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

অপহরণ-মুক্তিপণসহ নানা মামলা : বাংলাদেশি রুহেল চৌধুরীর খোঁজে ২০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করলো এফবিআই

রুহেল চৌধুরী (৩৪) নামক এক বাংলাদেশিকে ধরিয়ে দিতে এফবিআই ২০ হাজার ডলার পুরস্কার প্রদানের ঘোষণা দিয়েছে। রুহেল চৌধুরীর ছবিসহ এফবিআই পোস্টার প্রকাশ করেছে যা ১ মার্চ মূলধারার মিডিয়াতেও ছাপা হয়েছে। এফবিআই সূত্রে জানা গেছে, নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স এলাকায় অসহায় প্রবাসীদের অপহরণ, ধর্ষণ, যৌণ হামলা এবং মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে অকথ্য নির্যাতনের অভিযোগে ইতিপূর্বে যুবতীসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এই সংঘবদ্ধ দৃর্বৃত্ত চক্রের সপ্তম সদস্য রুহেল চৌধুরী পুরনো গাড়ি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের দালাল হিসেবে কাজ করলেও মূল পেশা ছিল অপহরণ, ছিনতাই, চুরি-ডাকাতি। অপহরনের কাজে ব্যবহৃত গাড়ির সরবরাহ এবং নিজেই তা চালাতেন বলেও দায়েরকৃত মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এফবিআই কর্তৃক ছবি-সহ ‘ওয়ান্টেড পোস্টার’ প্রকাশের পর কম্যুনিটির অনেকে বলাবলি করছেন যে, রুহেলসহ সংঘবদ্ধ এই চক্রের সকলেই সিলেট অঞ্চলের সন্তান। মাঝেমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি এবং যুক্তরাষ্ট্র যুবদলের একাংশে নেতৃত্ব প্রদানকারী দু’জনের ভাড়াটে হিসেবেও এই চক্রের প্রায় সকলকেই দেখা গেছে বলেও বিএনপির অনেকে বলাবলি করছেন।

এফবিআইয়ের পক্ষ থেকে রুহেল চৌধুরীর কোনো সন্ধান পেলেই তা এফবিআই অফিস অথবা নিকটস্থ মার্কিন দূতাবাস/কন্স্যুলেটে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। সন্ধানদাতাকে নগদ ২০ হাজার ডলার পুরষ্কার হিসেবে প্রদানের অঙ্গিকারও করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, রুহেল চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্র থেকে পালিয়ে কানাডা অথবা বাংলাদেশে চলে গেছেন।

উল্লেখ্য, গত ২০ জানুয়ারি বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রথম পাতায় এ সম্পর্কিত একটি সংবাদ ‘এফবিআইয়ের জালে বাংলাদেশি চক্র’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়। সে সংবাদে ছিল: নিউইয়র্কে বাংলাদেশি প্রবাসীদের বিরুদ্ধে অপহরণ, ধর্ষণ, যৌন হামলা, মুক্তিপণ আদায়ে লিপ্ত থাকার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। গতবছর একজনকে অপহরণের মামলায় জামিনে থাকা স্বামী-স্ত্রী আরেক প্রবাসীকে অপহরণের মামলায় অভিযুক্ত হয়েছেন। এরা হলেন জ্যামাইকার আবু চৌধুরী (৩৪) এবং তার স্ত্রী ইফফাত লুবনা (২৪)। ১১ জানুয়ারি ব্রুকলীন ফেডারেল কোর্টে অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি, অপহৃতদের নির্যাতন, যৌন হামলার অভিযোগ গঠনের সময় এই দম্পতির পূর্বেকার জামিনের আদেশ বাতিলের আবেদন জানানো হয়েছে। একইদিন এসব গুরুতর অভিযোগে গ্রেফতার দেখানো হয় সুলতানা রাজিয়া, সৈয়দ রুবেল আহমেদ (৪৩), সাহেদ আলম (২৯) এবং আঞ্জু খানকে (২৮)। এর মধ্যে ৫০ হাজার ডলার বন্ডে সুলতানা রাজিয়া, লাখ ডলার বন্ডে সৈয়দ রুবেল আহমেদ জামিনে মুক্তি পেলেও সাহেদ আলম এবং আঞ্জু খানকে ডিটেনশনে রাখা হয়েছে।

ব্রুকলীনে অবস্থিত ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট ইউএস এটর্নী ব্রিয়ন পিস, নিউইয়র্কস্থ এফবিআইয়ের সহকারি পরিচালক জেমস স্মীথ, নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের কমিশনার এডোয়ার্ড এ ক্যাবানের অফিস থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। গ্রেফতারকৃতদের ব্রুকলীন ফেডারেল কোর্টে বিচারপতি যোসেফ এ মারোটুলোর এজলাশে হাজির করা হয়েছিল। এই চক্রের অপর সদস্যকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তারপরই সকলের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হবে বলে আদালত সূত্রে ১৭ জানুয়ারি জানা গেছে। আরো জানা গেছে, এই দুর্বৃত্ত চক্র উপরোক্ত ক্রাইমের পাশাপাশি নিজ নিজ ব্যবসার আড়ালে জালিয়াতি-প্রতারণার ফাঁদও পেতেছেন বেশ ক’বছর যাবত। নিউইয়র্ক তথা উত্তর আমেরিকায় উদিয়মান কম্যুনিটি হিসেবে সর্বমহলে পরিচিতি লাভের অধ্যায়ে এফবিআই কর্তৃক এই চক্রের হদিস উদঘাটিত হওয়ায় অনেকে হতভম্ব এবং ক্ষুব্ধ।

মামলার প্রসঙ্গ উত্থাপনকালে ইউএস অ্যাটর্নি পিস বলেন, অভিযোগ অনুসারে গ্রেফতারকৃতরা অপহরনের পর ভিকটিমকে নির্মমভাবে শারীরিক ও যৌন নির্যাতন করেছে। আরো কেউ যদি এই দুর্বৃত্ত চক্রের ভিকটিম হয়ে থাকেন, তাহলে স্টেট অ্যাটর্নি অফিসের ওয়েবসাইটে গিয়ে অভিযোগ সাবমিটের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, গত বছরের ২৭ মার্চ কুইন্সের জ্যামাইকা থেকে এক প্রবাসীকে অপহরণের পর প্রায় ১৪ ঘন্টা অকথ্যভাবে নির্যাতন করেছে। জ্যামাইকার ১৮১ স্ট্রিট এবং হিলসাইড এভিনিউ এলাকায় এক ব্যক্তি হাটাহাটি করার সময় আবু চৌধুরী তাকে তার হোন্ডা মিনিভ্যানে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। মিনিভ্যানে অপহৃতকে প্রহার করে। এক পর্যায়ে ভিকটিমকে মিনিভ্যান থেকে নেমে নগ্ন অবস্থায় রাস্তায় দাঁড়াতে বাধ্য করে এবং সেই ছবি উঠায় আইফোনে। এমন অসভ্য আচরণের সাথে জড়িত ছিল আহমেদ, আলম, খান এবং রাজিয়া। তারা সেলফোনে আবু চৌধুরীর সাথে কানেক্ট থেকে ভিকটিমকে নির্যাতনের মজা শেয়ার করেছে। এক পর্যায়ে তারা মিনিভ্যানেও উঠেছে। আর এমন বর্বরতা চলে রাতভর মিনিভ্যান চালানো অবস্থায়। নির্দয় আচরণে অতীষ্ঠ ভিকটিম পানি পান করতে চাইলে এই দুর্বৃত্ত চক্র তাকে চেতনানাশক মিশ্রিত পানি দেয় এবং তা পানের পর ভিকটিম জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এর পরদিন জ্ঞান ফিরলে ভিকটিম নিজেকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে দেখতে পান। অপহরণের আরেকটি ঘটনা গত বছর ১১ মে কুইন্সেরই উডসাইড এলাকায় ঘটেছে।

উডসাইডে ৭২ স্ট্রিট এবং ব্রডওয়ে এলাকায় ভিকটিম গিয়েছিলেন লুবনার সাথে সাক্ষাতের জন্যে। এমনি অবস্থায় আবু চৌধুরী তাকে জোরপূর্বক একটি মিনিভ্যানে তুলে মারধোর শুরু করে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর তাকে একটি হোটেলে নেয়া হয়। হোটেল কক্ষে ভিকটিমকে আবু চৌধুরী যৌন হয়রানি করে। সে সময় ভিকটিমের বাবাকে ফোন করে ২০ হাজার ডলার মুক্তিপণ দাবি করে আবু চৌধুরী। এ সময় ভিকটিমের বাবাকে সতর্ক করা হয় যে, ঘটনাটি পুলিশকে জানানো হলে ছেলেকে তো পাবেই না, তাকেও হত্যা করা হবে। এরপর অবশ্য মুক্তিপণের জন্যে আর ফোন করা হয়নি। অপহরনের তিনদিন পর ভিকটিমকে বেঁধে জ্যামাইকার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে ফেলে দেয়া হয়। মৃত্যুপথযাত্রী ভিকটিম দাঁত দিয়ে দড়ি কেটে হাত মুক্ত করার পর জানালা ভেঙ্গে এবং পাশের বাসিন্দাদের ৯১১ এ কল করতে বলে নিজেকে মুক্ত করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার