
নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪ | প্রিন্ট | ১০৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

টরন্টো : স্বর্ণ আর নগদ অর্থ ভর্তি কন্টেইনার চুরির সাথে জড়িতদের গ্রেফতার-অভিযানের তথ্য জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। ছবি-সংগ্রহ।
কানাডার টরন্টো পিয়ারসন এয়ারপোর্টের গুদাম থেকে ফিল্মি স্টাইলে এক বছর আগে চাঞ্চল্যকর চুরির সাথে জড়িত এয়ার কানাডার কর্মকর্তাসহ ৯ জনকে গ্রেফতারের তথ্য দিল কানাডা কর্তৃপক্ষ। ১৭ এপ্রিল বুধবার কানাডার পীল রিজিয়ন পুলিশের কমিশনার নিশান ডুরাইপ্পাহ এক সংবাদ সম্মেলনে চুরিকৃত ২০ মিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার , ১৪.৫ মিলিয়ন ডলারের স্বর্ণের বার, আড়াই মিলিন ইউএস ডলার, এবং আরো ১.৮ মিলিয়ন ডলারের ব্যাংক নোট বহনের ট্রাকও সামনে রাখেন। এ সময় আরো জানানো হয় যে, চুরির সাথে জড়িত কানাডা এয়ারলাইন্সের একজন ম্যানেজারসহ আরো ৩ জনের বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করা হয়েছে। পুলিশ কমিশনার এ সময় উল্লেখ করেন যে, স্বর্ণগুলোর বিনিময়ে অত্যাধুনিক অস্ত্র-শস্ত্র ক্রয়ের পর তা কানাডায় পাচারের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু চাঞ্চল্যকর এই চুরির পরিক্রমার মধ্যিখানে স্বর্ণের বার বিক্রির পর কিছু অস্ত্র ক্রয় করে বহনের সময় গত সেপ্টেম্বরে পেনসিলভেনিয়ায় একটি গাড়ি আটকের পর সবকিছু ফাঁস হয়ে পড়ে। গাড়িটি পুলিশ থামিয়েছিল ট্রাফিক ভায়োলেশনের পর। সে গাড়িতে পাওয়া যায় ৬৫টি অস্ত্র। এরমধ্যে দুটি ছিল অটোমেটিক রাইফেল। সেই ড্রাইভারকে গ্রেফতারের পর পেনসিলভেনিয়া আদালতে সোপর্দ করা হয় কানাডায় অস্ত্র পাচারের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগে। এই লোকটির তথ্য আগে থেকেই পুলিশের চিহ্নিত আসামীর তালিকায় থাকায় পেনসিলভেনিয়ার পুলিশ টরন্টো পুলিশের সাথে যোগাযোগ করেছিল। এরপরই সুইজারল্যান্ড থেকে ছাপিয়ে আনার নগদ নোটসহ স্বর্ণের বার চুরির সাথে এই লোকটির সম্পৃক্ততা উদঘাটিত হয় এবং জড়িত সকলের তথ্য জানা সম্ভব হয়। স্বর্ণের বার গলিয়ে তা কোথায় বিক্রি করা হয়েছিল সে তথ্যও জানার পর পুলিশ সেই ব্যবসায়ীকেও গ্রেফতার করেছে। উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ এপ্রিল এয়ার কানাডার ফ্লাইটে স্বর্ণ আর নোট ভর্তি কন্টেইনারটি সুইজারল্যান্ড থেকে টরন্টোতে অবতরণ করেছিল। এবং তা এয়ারপোর্টের ওয়্যার হাউজে রাখা হয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের ছাড়িয়ে নেয়ার অপেক্ষায়। এরইমধ্যে চোরের দল জাল কাগজপত্র তৈরী করে ঐ ওয়্যার হাউজকে কন্টেইনারটি ছাড়িয়ে নেয়। চুরির তথ্য উদঘাটিত হয় কন্টেইনারের প্রকৃত মালিক তথা কানাডা সরকারের লোকজন পরদিন ওয়্যার হাইজে যাবার পর। কন্টেইনারে ছিল ৬৬ হাজার স্বর্ণের বার। এগুলো টরন্টোস্থ একটি ব্যাংকের স্টোরে যাবার কথা। নয়া নোটগুলোও ছিল সেই ব্যাংকেরই।



