
নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ২২ এপ্রিল ২০২৪ | প্রিন্ট | ৯১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

আব্দুল্লাহ আল কায়সার এমপি
নিউইয়র্কে ১৮ এপ্রিল সন্ধ্যায় নারায়নগঞ্জবাসী প্রদত্ত সার্বজনীন সংবর্ধনা সমাবেশে নারায়গঞ্জ-৩ (সোনারগাঁও) এর সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল কায়সার রাজধানী ঢাকার সন্নিকটে হওয়া সত্বেও কেন উন্নয়নের ক্ষেত্রে নারায়নগঞ্জ পিছিয়ে রয়েছে সে প্রসঙ্গে বলেন, প্রাচিন বাংলার রাজধানী সোনারগাঁওয়ের ইতিহাস, ঐতিহ্য, কালচার এখন আর কিছুই নেই। সবকিছু হারাতে চলেছি। নারায়নগঞ্জের যে পরিমাণ উন্নয়ন হবার কথা ছিল, যেখানে আমরা নারায়নগঞ্জকে দেখতে চেয়েছিলাম, সে তুলনায় নারায়নগঞ্জ অনেক পিছিয়ে রয়েছে। জানিন না কী কারণে এমন অবস্থা।
আব্দুল্লাহ আল কায়সার বলেন, তবে আমি মনে করি একমাত্র কারণ হতে পারে আমরা কেন জানি একে অপরের ভাল দেখতে পারি না। কেন জানি যখন স্বার্থের কথা আসে, তখোন আমরা ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে যাই। কেন যেন আমরা আরেকজনকে এগিয়ে দিতে চাই না। সকলেই বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত। কেন যেন আমরা নিজেদের গ্রুপের স্বার্থটাকেই বড় করে ফেলি। এত দিদ্বেষ, এত গ্রুপিং, এত ব্যক্তিকেন্দ্রিক সমালোচনা করে দিন শেষে কী হয়? রেজাল্ট জিরো।
এমন নাজুক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ প্রসঙ্গে আব্দুল্লাহ আল কায়সার আরো বলেন, আমাদের মন-মাসিকতা পরিবর্তন করা উচিত। সময় এসেছে, আপনার গভর্ণমেন্ট জননেত্রী শেখ হাসিনা যে পরিমাণ উন্নয়ন করে বাংলাদেশকে যে প্ল্যাটফরমে নিয়ে যাচ্ছেন, পরিশ্রম করে ডিজিটাল থেকে আমরা এখন স্মার্ট বাংলাদেশের যুগে উন্নীত হওয়ার জন্যে আমরা পরিশ্রম করে যাচ্ছি। এবং সেই প্ল্যাটফরমে উপনীত হবার জন্যে আমরা নিজেদেরকে প্রস্তুত করছি।
আব্দুল্লাহ আল কায়সার বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, কিন্তু সেটি করতে নেত্রী এককভাবে কোনক্রমেই সক্ষম হবেন না। সেজন্যে দরকার সকলকে ঐক্যবদ্ধ হওয়া। সকলে যখন আমরা একত্রিত হয়ে আমাদের মন-মানসিকতাও অভীন্ন হবে তখোনই নেতৃর পক্ষে এটি সম্ভব হবে।
আব্দুল্লাহ আল কায়সার উল্লেখ করেন, এখানে কয়েকজন বেশ সুন্দর কথা বলেছেন যে, প্রবাসে আসি আমরা পরিশ্রম করতে, কেউ সখের বশে আসেননি। সকলেরই কোন না কোনভাবে পিছুটান আছে। এমনাবস্থায় নে আমরা নোংড়া রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়বো? আমাদেও সকলেরই সেই পরিবর্তনটা নিজেদের মধ্যে আনতে হবে। কিছু কিছু বিষয় আছে যা অন্যেরা করে দিতে পারেন না। নিজেদেরই করতে হয়। এটাও (প্রবাসে দেশীয় রাজনীতি পরিহার) নিজেদেরকেই বৃহত্তর স্বার্থে করতে হবে। আসুন আমরা সবাই একত্রিত হই, নারায়নগঞ্জের ঐতিহ্যটাকে আমরা ধরে রাখার জন্য আমরা একে অপরের পাশে দাঁড়াই-এটাই সময়ের দাবি। অন্যান্য জেলার উন্নয়নের কারণগুলো গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে তাহলে দেখবেন একটাই কারণ আর তা হলো ইউনিটি, একতাবদ্ধতা। বাংলাদেশে এমন অনেক জেলা আছে, যেখানে সরকারী হউক, রাজনৈতিক হউক, সামাজিকতা হউক, যে কোন সেক্টরে হউক, সে জেলার লোকজন ঐক্যবদ্ধ। একজন দাঁড়ালো সবাই তাকে ব্যাকআপ দেয়। ঐ একজনকে ১০ জনে টেনে নামায় না।
তরুণ সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল কায়সার প্রাঞ্জল ভাষায় আরো বলেন, নারায়নগঞ্জবাসীর কীসের অভাব? ঐতিহ্য, সম্পদক, কালচার-কোনকিছুরই অভাব নেই। সেজন্যে আমি নির্বাচনে জয়ী হবার পর একটি ঘোষণা দিয়েছি-প্রথম বছরটি হবে আমার শিক্ষার বিষয়। এলাকার শিক্ষা বিকাশে কাজ করবো। এরপর যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নের পথে যাবো। আপনারা সকলেই জানেন বঙ্গবন্ধু পরিবারের সাথে আমার কী সম্পর্ক। সেই সুবাদে নারায়নগঞ্জকে উন্নয়ন দিতে বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করবো না। আমার চাচা শামীম ওসমানসহ সকল রাজনীতিকের সাথে এ নিয়ে ঐক্যমত রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ সম্মানীত অতিথির বক্তব্যে নিউইয়র্কের কন্সাল জেনারেল মো. নাজমুল হুদা বলেন, গত ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে গঠিত জাতীয় সংসদটি নবীন এবং প্রবীনের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে। আর এই নবীন আর প্রবীণের যে সম্মিলন, এই সম্মিলিত শক্তির মাধ্যমেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সুনির্দিষ্ট কিছু দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দেশকে পরিচালনা করছেন, জাতিরপিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সোনার বাংলার যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে তারই সুযোগ্য কণ্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা রক্ষার পাশাপাশি তিনি দেশকে আমূল বদলে দিচ্ছেন। সেই বদলে দেয়ার যে কর্মযজ্ঞ, সেই কর্মযজ্ঞেই জড়িয়ে রয়েছেন আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্যগণ সবাই। তার মধ্যে একজন আমাদের মধ্যে আছেন। তাকে কাছে পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত এবং অবশ্যই নারায়নগঞ্জবাসীর জন্যে বিশেষ একটি আনন্দের দিন।
মাওলানা সৈয়দ ফখরুদ্দিন আল রাজি কর্র্তক পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের পর বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বাংলাদেশ ও আমেরিকার জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন সকলে। সম্বর্ধনা সমাবেশে সভাপতির স্বাগত রহমান উপস্থিত সকলের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আমরা যেন আমৃত্যু ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারি। অতীত নিয়ে আর যেন কোন খেলাধূলা না করি। তাহলেই ইতিহাসের বিশেষ একটি স্থানে অধিষ্ঠিত নারায়নগঞ্জকে আবারো বাঙালি জাতির সামনে উদ্ভাসিত করা সম্ভব হবে। আশরাফুল হাসান বুলবুলের সঞ্চালনায় ঐক্যের আকুতি প্রকাশ করে আরো বক্তব্য দেন আসাদুল বারি আসাদ, আজহারুল হক মিলন, মোহাম্মদ আলী, আব্দুল লতিফ ভ’ইয়া, মোস্তফা জামান টিটু এবং নির্মল পাল। অতিথির মধ্যে আরো কথা বলেন রুবিয়া সুলতানা, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ।
অনুষ্ঠানে বিপুল করতালির মধ্যে সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল কায়সারকে প্রবাসী সোনারগাঁও বাসীর পক্ষ থেকে ক্রেস্ট প্রদান করেন কম্যুনিটি লিডার এ কে এম নূরুল হক-সহ বিশিষ্টজনেরা। নারায়নগঞ্জবাসীর পক্ষ থেকেও ক্রেস্ট প্রদানসহ ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।



