Advertisement Placeholder

আলবেনীতে বৈশাখ বরণে জমকালো আয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   ১০৪ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

আলবেনীতে বৈশাখ বরণে জমকালো আয়োজন

বাফার বৈশাখ-বরণ উৎসবে বিভিন্ন পর্বে অংশগ্রহণকারিরা। ছবি-বাংলাদেশ প্রতিদিন।

“মজবুত কমিউনিটি গড়ে তোলা শেকড় থেকে শুরু হয়” শ্লোগান ধারণ করে প্রতি বছরের মতো এবারও ‘বাংলাদেশি আমেরিকান ফাউন্ডেশন অব আলবেনী’ (বাফা) ব্যাপক উৎসাহ উদ্দিপনার মধ্যদিয়ে বাংলা নতুন বছর-১৪৩১ কে বরণের উৎসব করলো। ২০ এপ্রিল নিউইয়র্ক স্টেটের রাজধানী আলবেনীর ‘লেথাম রিজ স্কুল’ চত্বর এবং অডিটরিয়ামে জমে উঠেছিল বাঙালিদের প্রাণের উৎসব ‘বৈশাখবরণ’ অনুষ্ঠানটি। চমৎকার আবহাওয়ায় সকাল থেকেই সংগঠনের নারী-পুরুষ এবং শিশুদের নির্দিষ্ট বৈশাখী বাঙালিয়ানা পোষাকে বাফাকর্মী ও কমিউনিটির নানা পেশার বিপুলসংখ্যক বাঙালির আগমন ঘটে। নিবন্ধন, কুশল বিনিময়, আলোকচিত্র ধারণ, বিভিন্ন স্টলে কেনাবেচা এবং বৈশাখী সাজসজ্জার ব্যস্ততায় যেন এক টুকরো বাংলাদেশ প্রজ্জ্বলিত হয়ে উঠেছিল স্কুল প্রাঙ্গনে। বিশেষত: শিশু-কিশোরদের উচ্ছ্বসিত হৈ-চৈ আর আনন্দে মাতোয়ারা ছিল চারদিক। সকাল গড়িয়ে দুপুর নামতেই বাফা স্বেচ্ছাসেবক দলের সুশৃঙ্খলভাবে বৈশাখী খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থাপনা ছিল চোখে পড়ার মতো। উৎসবমুখর পরিবেশে সুস্বাদু নানা ধরণের খাবারের সাথে পান্তাসহ বারো-তেরো পদের ভর্তা ছিল অন্যতম আকর্ষণ। এছাড়া মিস্টান্ন থেকে শুরু করে কোমল পানীয়, চা, কফি কোনো কিছুরই কমতি ছিল না। খাবার পর্ব শেষ করে পূর্বঘোষিত সময় অনুযায়ী সবাই অডিটরিয়ামে নিজ নিজ আসন গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই শুরু হলো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
বাফার রহিম বাদশাহ’র পরিচালনায় ২৯ জন শিশু শিল্পীর সমবেত পরিবেশনায় বৈশাখ বরণের সেই অসাধারণ সঙ্গীত “এসো হে বৈশাখ এসো এসো’’ পরিবেশিত হবার সঙ্গে সঙ্গেই যেন সব দর্শকের ঠোঁটেও উচ্চারণের অভিব্যক্তি কিংবা কণ্ঠের সুর মেলানোর আবেশ ছড়িয়ে পড়েছিল অডিটরিয়াম জুড়ে। এ পর্বটি শেষ হতেই সংগঠনের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানের সঞ্চালক মিজানুর রহমান প্রধানের নেপথ্যের ধারা বর্ণনায় পরবর্তি পরিবেশনা পুথি সম্পর্কে কিছু তথ্য প্রদান করা হয়।
পুথি সাহিত্য হচ্ছে এক বিশেষ শ্রেণীর বাংলা সাহিত্য। আঠারো থেকে উনিশ শতক পর্যন্ত এর ব্যাপ্তিকাল। সংস্কৃত ‘পুস্তিকা’ শব্দ থেকে পুথি শব্দটির উৎপত্তি। হাতে লেখা বইকে আগে ‘পুস্তিকা’ বলা হতো। যেহেতু আগের দিনে ছাপাখানা ছিল না, তাই তখন হাতে পুথি লেখা হতো এবং গ্রাম বাংলায় বিভিন্ন লোকগাথা নিয়ে পুথি পাঠের আসরগুলো খুবই জনপ্রিয় ছিল এবং এখনো কিছু কিছু অঞ্চলে পুথি পাঠের আসরের জনপ্রিয়তা রয়েছে। আদি এই সাহিত্য ভান্ডারকে নতুন প্রজন্মের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং দর্শকদের স্মৃতিতে পুথি পাঠের সংস্কৃতিকে চলমান রাখার জন্য এই পর্বে পুথি পাঠের কথা তিনি উল্লেখ করলেন। তিনি আরও জানালেন, পুথিটির নাম “বাঙালিয়ানার পুথি”। বৈশাখ উদযাপন নিয়ে চমৎকার পুথির রচনা করেছেন উদীয়মান কবি বেনজির শিকদার।
আবৃত্তিশিল্পী আনোয়ারুল হক লাভলুর পুথি পাঠের সঙ্গে সঙ্গে তার নির্দেশনায় বাফা টিম কর্তৃক গ্রাম বাংলায় পুথিপাঠ উপস্থাপনের একটি দৃশ্যও চমৎকারভাবে পরিবেশিত হয়। পুথিপাঠের মাঝখানে যাত্রাপালার বর্ণনার সময় যাত্রাপালার ছোট্টো একটি অংশও উপস্থাপন করা হয়।
এলিজা সাত্তার এবং যাকিয়া নিলুফারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ১৬ জন শিল্পীর একটি দল- সঙ্গীত, নৃত্য পরিবেশন এবং কবিতা আবৃত্তি করেন।
নতুন প্রজন্মের পরিবেশনাকে বরাবরই বাফা সর্বাধিক গুরুত্বসহ বিবেচনা করে থাকে এবং তারই ধারাবাহিকতায় শিশুশিল্পীদের নৃত্যের সঙ্গে সঙ্গে তানিয়া মণিরের নির্দেশনায় ২৬ জন শিশু শিল্পীর ফ্যাশন শো-টি ভীষণভাবে দর্শক নন্দিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় মিজানুর রহমান প্রধান এবং উপমা আহমেদ ছিলেন সাবলীল। নেপথ্যে সঙ্গীত সংযোজন এবং শব্দ নিয়ন্ত্রণে ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার ও তানভীর মুর্শেদ। অডিটরিয়াম নিয়ন্ত্রণসহ পুরো আয়োজনটি সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে বাফা কার্যনির্বাহী কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক দল বিশেষত সাবেক প্রেসিডেন্ট জাবেদ মনির, তানিয়া মনির, ও বাফার বর্তমান প্রেসিডেন্ট সোহেল আহমেদ সার্বক্ষণিক তৎপর ছিলেন। দিনশেষে আলবেনীর বাঙালিদের মিলনমেলা সাঙ্গ হলে একরাশ মুগ্ধতা নিয়ে সবাই ঘরে ফেরেন।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার