
নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ২৩ মে ২০২৪ | প্রিন্ট | ১০৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

বইমেলা
‘যত বই তত প্রাণ’ স্লোগানে চার দিনব্যাপী নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বইমেলা ২৪ মে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হচ্ছে জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্ট সেন্টারে। উদ্বোধন করবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মুহম্মদ নুরুল হুদা।
এ সময় দেশ ও প্রবাসের বরেণ্য শিল্পী-সাহিত্যিক-সাংবাদিকরাও থাকবেন। অতিথির মধ্যে জাতীয় সংসদ সদস্য ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. ইমরান, মো. নাজমুল হুদা (কনসাল-জেনারেল, নিউইয়র্ক), ডা. সারোয়ার আলী (ট্রাস্টি, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, ঢাকা), সারা যাকের (ট্রাস্টি, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, ঢাকা), ড. আরেফিন সিদ্দিকী (সাবেক উপাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), ফরিদুর রেজা সাগর (কথা সাহিত্যিক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, চ্যানেল আই), সৌমিত্র শেখর দে (উপাচার্য, কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়) প্রমুখ রয়েছেন। বইমেলা কমিটির পক্ষ থেকে আহবায়ক হাসান ফেরদৌস জানান, বাংলাদেশ, ভারত, লন্ডন, কানাডা, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী লেখকদের সদ্য প্রকাশিত ১০ হাজার বই নিয়ে মেলায় থাকবে ৪০টি স্টল।
সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, এই মেলাকে ঘিরে লেখালেখি সংবলিত ২০টি বই-ও পাওয়া যাবে স্টলে। বাংলাদেশ ও কলকাতার পর বাংলা বইমেলার এটি হচ্ছে তৃতীয় বৃহত্তম মেলা। এ উপলক্ষে দেশ ও প্রবাসের শতাধিক কবি-লেখক-সাহিত্যিকের সমাগম ঘটেছে। এরমধ্যে আছেন ড. মিল্টন বিশ্বাস (অধ্যাপক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়), লুৎফর রহমান রিটন (একুশে পদকপ্রাপ্ত ছড়াকার, কানাডা), সালমা বাণী (কথা সাহিত্যিক (কানাডা), সাইফুল্লাহ মহমুদ দুলাল (কবি, কানাডা), জসীম মল্লিক (লেখক, কানাডা), মাসরুর আরেফিন (কথা সাহিত্যিক ও সিইও, সিটি ব্যাংক, ঢাকা), শিহাব শাহরিয়ার (কবি ও ফোকলোর গবেষক), ওমর কায়সার (কবি ও শিশু সাহিত্যিক), কবি আসাদ মান্নান এবং সৈয়দ আল ফারুক, ফারুক আহমদ (সাহিত্য সম্পাদক, প্রতিদিনের বাংলাদেশ), ড প্রহ্লাদ রায় (অধ্যাপক, বিশ্ব ভারতী), রূপা মজুমদার (সম্পাদক, শুকতারা ও নবকল্লোল, কলকাতা), জাফর আহমদ রাশেদ (কবি ও প্রধান নির্বাহী, বাতিঘর), দীপঙ্কর দাস (বাতিঘর), মাহবুব আজিজ (বিভাগীয় সম্পাদক, দৈনিক সমকাল), কবি সজল আহমেদ, মোহাম্মদ শাকেরউল্লাহ (সম্পাদক- ঊষালোক)।
আমন্ত্রিত শিল্পী (গায়ক, অভিনেতা)’র মধ্যে আছেন রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা, নিরুপমা রহমান (অস্ট্রেলিয়া, গবেষক ও কণ্ঠশিল্পী), আফজাল হোসেন (অভিনেতা ও পরিচালক), আহকাম উল্লাহ (আবৃত্তি শিল্পী), লিলি ইসলাম (সংগীত শিল্পী), নাহিদ নাজিয়া (সংগীত শিল্পী), আহমেদ হোসেন (আবৃত্তি শিল্পী, টরন্টো)। স্থানীয় শিল্পীর মধ্যে রয়েছেন তাজুল ইমাম, শাহ মাহবুব, শবনম সায়েলা তনুকা, নাজু আখন্দ, শাহীন হক, জাফর বিল্লাহ, বন্যা মির্জা, অনিন্দিতা কাজী, শিরীন বকুল, আলভান খান, জি এইচ আরজু, ফারুক আজম, আবীর আলমগীর, সাবিনা নীরু, মুমু আনসারী, ন্যাস নাসরীন, প্রিয়তা সায়রা ইমাম ও মেহেদী ইমাম।
মেলায় অংশগ্রহণকারী সহযোগী সংগঠনের মধ্যে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, ঢাকা, অন্যথিয়েটার (টরন্টো), জনকণ্ঠে নজরুল (নিউজার্সি), বহ্নিশিখা সংগীত নিকেতন, সংগীত পরিষদ, উদীচী, আড্ডা, বাফা, আনন্দধ্বনি, আশিস (আমরা শিশুদের সঙ্গে), ছড়াটে, সাহিত্য একাডেমি, রাইটার্স ক্লাব এবং লেখকের অঙ্গন।
আরও জানানো হয় যে, জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে খোলামঞ্চে বৃন্দগান আর নৃত্যের মাধ্যমে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে। চলবে রাত ১১টা পর্যন্ত। পরদিন শনিবার বেলা ১১টা থেকে একইভাবে রাত ১১টা পর্যন্ত নানা কর্মসূচিতে মুখরিত থাকবে মেলা প্রাঙ্গন ও ভেতরের মূলমঞ্চ।
এদিনের সেমিনারের বিষয় হচ্ছে ‘১৯৭১ এর জেনোসাইড কেন এখনো স্বীকৃত নয়’। ২৬ মে রবিবার অনুষ্ঠিত কর্মসূচির অন্যতম হচ্ছে ‘প্রবাসের সাহিত্য মূল্যহীন’ শীর্ষক সেমিনার। কথোপকথনে থাকবে ‘বাংলা নাটকের এদিন সেদিন’। সমাপনী দিবসের উল্লেখযোগ্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ‘কীভাবে পান্ডুলিপি প্রস্তুত করবেন’ শীর্ষক আলোচনা।
নতুন প্রজন্মের শক্তিশালী প্রতিনিধি সেমন্তী ওয়াহেদের নেতৃত্বে আমেরিকা তথা প্রবাসে জন্মগ্রহণকারী অথবা বেড়ে ওঠা কবি, সাহিত্যিক-লেখক-সাংবাদিক-শিল্পী-অভিনেতা-অভিনেত্রীরা আসবেন। নিজ নিজ ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই বিশেষ অবস্থানে অধিষ্ঠিত হওয়া নতুন প্রজন্মের ৪ কবির কবিতা শুনবো, ৪ লেখকের বক্তব্য শুনব, রান্না কীভাবে আন্তর্জাতিক ভাষা হয়ে উঠছে তা নিয়ে তিনজন রন্ধন বিশেষজ্ঞ কথা বলবেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জনপ্রিয় তিনজন ইনফ্লুয়েন্সার কথা বলবেন। মূলকথা হচ্ছে তরুণদের বিভিন্নভাবে সংযুক্ত করা। তরুণ শিল্পীদের গান তো থাকবেই। তাছাড়া তরুণ শিল্পীরা দ্বৈতকণ্ঠেও গাইবেন। সোমবার বিকেল ৩টা থেকে খোলামঞ্চে নতুন প্রজন্মের বিবিধ পরিবেশনা থাকবে। ওপেন মাইকে কবিতা আবৃত্তি করবে, পড়বে, গানস গাইবে, যা খুশি তাই করতে পারবে। শিশুমঞ্চে শনি ও রবিবার প্রোগ্রাম থাকবে।
কমিটির অন্যতম কর্মকর্তা জিএফবি গ্রুপের কর্ণধার গোলাম ফারুক ভূইয়া জানান যে, এই মেলার মধ্যদিয়ে লেখক, সাহিত্যিক, প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করার যে রীতি চালু হয়েছে তা এবারও বহাল রয়েছে। এর অন্যতম হচ্ছে মুক্তধারা-জিএফবি সাহিত্য পুরস্কার, যার অর্থমান তিন হাজার ডলার। এই পুরস্কার ইতিপূর্বে পেয়েছেন কবি নির্মলেন্দু গুণ, শামসুজ্জামান খান, আসাদ চৌধুরী, আব্দুল্লাহ আবু সাঈদ, সেলিনা হোসেন প্রমুখ। আরেকটি পুরস্কার দেওয়া হয় শ্রেষ্ঠ বইয়ের জন্য এবং সেটির নাম হচ্ছে কবি শহীদ কাদরী স্মৃতি গ্রন্থ পুরস্কার’। যার মূল্যমান এবার বাড়িয়ে ৫০০ ডলার থেকে এক হাজার ডলার করা হয়েছে। তৃতীয় পুরস্কার ‘চিত্তরঞ্জন সাহা প্রকাশনা পুরস্কার’, এটি দেওয়া হয় মেলায় অংশগ্রহণকারী স্টলসমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠ স্টলকে।



