Advertisement Placeholder

নিউইয়র্কে সংবর্ধনা-সমাবেশে বন্যা, চেনা বামুনের পৈতা লাগে না

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   সোমবার, ১০ জুন ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   ১৩৩ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

নিউইয়র্কে সংবর্ধনা-সমাবেশে বন্যা, চেনা বামুনের পৈতা লাগে না

সংবর্ধনা সমাবেশে গান গাইছেন রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। ছবি-বাংলাদেশ প্রতিদিন।

ভারতের রাষ্ট্রীয় পুরস্কার পদ্মশ্রী লাভ করায় ৯ জুন সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যাকে নাগরিক সংবর্ধনা জ্ঞাপণ কল্পে ‘আছো আকাশ পানে তুলে মাথা’ শিরোনামে এক অনুষ্ঠান হয়। সুধীজনের উপস্থিতিতে মুগ্ধ শিল্পী বন্যা অত্যন্ত বিনয়ের সাথে এ সময় বলেন, আমাকে সম্বর্ধনা না দিলেও কোন সমস্যা নেই। আমি তো আপনাদের অতিপরিচিতদেরই একজন। বাংলা প্রবাদ আছে যে, চেনা বামুনের পৈতা লাগে না। ভারত থেকে যে সম্মানটা দেয়া হয়েছে আমাকে, তা আমাকে তো অনুপ্রাণীতত করেছেই, আমি মনে করি যে এই সম্মানটা আমরা যারা বাংলাদেশে সংস্কৃতি-চর্চা করি তাদের সকলের অর্জন। কারণ এই সম্মানের মাধ্যমে বাংলাদেশের সংস্কৃতি চর্চাকে একটা স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে, সম্মান জানানো হয়েছে।বন্যা উল্লেখ করেন, ভারতের মত দেশে বাংলাদেশের একজন সঙ্গীত শিল্পীকে সম্মাননা দেয়া মানে বাংলাদেশের সঙ্গীত-সংস্কৃতিকে সম্মান জানানো। এটা আপনাদের সকলের অর্জন। আর দ্বিতীয়ত: রবীন্দ্রনাথের গান আমি গাই। গানেই আমার জীবন ধারন। সে ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথের গানের গায়িকা হিসেবে আমাকে সম্মান জানানোর অর্থ হচ্ছে রবীন্দ্রনাথকেই সম্মান জানানো। যারা রবীন্দ্রনাথের গান করেন, চর্চা করেন, সবাইকে সম্মান জানানো। বন্যা বলেন, বাংলা সংস্কৃতির কোন সীমানা নেই, যারাই সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা করেন, রুচিসম্মত সংস্কৃতির চর্চা করেন, সেই অর্থে আমরা যারা রবীন্দ্র নাথের গান করি এটা সকলেরই অর্জন।
তরঙ্গ বিনোদন ইনকের এ আয়োজনে বিশেষ সহযোগিতায় ছিল পন্ডিত কিষাণ মহারাজ তাল তরঙ্গ ইন্সটিটিউট। বিশেষ সম্মানীত অতিথির মধ্যে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কন্সাল জেনারেল নাজমুল হুদা, নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের এশিয়া বিষয়ক উপদেষ্টা ফাহাদ সোলায়মান, আবাসন ব্যবসায়ী নুরুল আজিম প্রমুখ।

অনুষ্ঠান শুরু হয় আমেরিকায় জন্মগ্রহণকারি বাঙালি প্রজন্মের অংশগ্রহণে তবলা সঙ্গ করে আবহ সঙ্গীতের মাধ্যমে। খ্যাতনামা তবলা বাদক তপন মোদকের নেতৃত্বে ‘তাল তরঙ্গ ইন্সটিটিউট’র এই ১৫ শিশু-কিশোর বাদকের একাগ্রতায় সকলেই অভিভূত। এরপর রেজওয়ানা চৌধুরী বণ্যার প্রতিষ্ঠিত ‘সুরের ধারা’র ৭ শিল্পী সমবেত কন্ঠে ৫টি সঙ্গীতের মাধ্যমে পুরো আয়োজনকে ভিন্ন এক আমেজে আবিষ্ঠ করে। এই শিল্পীরা হলেন সুপর্ণা বসু, মাহবুবা রহমান মিলু, ফারিহা আনোয়ার তুষি, ইলমা কায়সার, নামিরা নূজহাত, কাকলি মন্ডল এবং পূর্বা মুখার্জি।
সম্বর্ধনায় সিক্ত রেজওয়ানা নিজেকে উজার করে দিয়ে বেশ কটি রবীন্দ্র সঙ্গীত পরিবেশনের পর দর্শকের অনুরোধেও গান করেছেন প্রবাসীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে। গান দিয়ে শুরু মনোমুগ্ধকর আয়োজনটি গভীর রাতে গানে গানেই শেষ হয়। এর মধ্যেই প্রবাসে জনপ্রিয় ‘খলিল বিরিয়ানি হাউজ’র কর্ণধার খলিলুর রহমান, বহ্নিশিখা সঙ্গীত নিকেতনের প্রিন্সিপাল সবিতা দাসের নেতৃত্বে শিল্পীরা খ্যাতনামা এই শিল্পীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। উল্লেখ্য, রংপুরে জন্মগ্রহণকারি ৬৭ বছর বয়সী বন্যা ২০১৬ সালে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ পেয়েছেন। আর পদ্মশ্রী হচ্ছে হচ্ছে ভারতের চতুর্থ সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও সঙ্গীত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এবং নৃত্যকলা বিভাগের চেয়ারপার্সন হিসেবে কর্মরত রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা সঙ্গীত শিক্ষার প্রতিষ্ঠান সুরের ধারাও পরিচালনা করছেন।
সম্বর্ধনা সমাবেশে বিশিষ্টজনদের মধ্যে ছিলেন সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ’৭১ এর যুক্তরাষ্ট্র শাখার সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাশার চুন্নু, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও রাজনীতিক খালেদুজ্জামান প্রদীপ প্রমুখ।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার