Advertisement Placeholder

কোটা আন্দোলন : সংলাপের স্বার্থে সবধরনের সহিংসতার বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের তাগিদ জাতিসংঘের

লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র   |   বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   ১২৬ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

কোটা আন্দোলন : সংলাপের স্বার্থে সবধরনের সহিংসতার বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের তাগিদ জাতিসংঘের

উদ্ভূত পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্যে সংলাপের পরামর্শ দিল জাতিসংঘ। আর সংলাপের পরিবেশ তৈরীর জন্যে সবধরনের সহিংসতার তদন্ত করতে হবে যেখানে থাকবে স্বচ্ছ্তা ও বিশ্বাসযোগ্যতা। ২৪ জুলাই বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংকালে বাংলাদেশ প্রতিদিনের এক প্রশ্নের জবাবে মহাসচিব অ্যান্তোনিয়ো গুতেরেজের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘের অবস্থান আলোকে এমন পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, আমি মনে করি বাংলাদেশে যা ঘটেছে, গণগ্রেফতার, যে হত্যাকান্ড আমরা দেখেছি সে সম্পর্কে আমাদের উদ্বেগ প্রকাশের ক্ষেত্রে আমরা অত্যন্ত সজাগ ছিলাম। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করবে এবং শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভের পরিবেশ তৈরী করবে কর্তপক্ষ। কারণ এটি হচ্ছে নাগরিকের অধিকার। এবং এটি একটি অধিকার যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার চুক্তির অন্তর্ভুক্ত। সহিংসতার সমস্ত ঘটনা একটি স্বচ্ছ এবং বিশ্বাসযোগ্য পদ্ধতিতে তদন্ত করতে হবে।

জনগণকে জবাবদিহি করতে হবে, তবে সংলাপের জন্যে উপযোগী পরিবেশও তৈরী করতে হবে এবং সত্যি বলতে, আমি যদি পেছনে ফিরে তাকাই, আমরা সাম্প্রতিক বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে, বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ দেখছি, যেসবে তরুণ সমাজের মধ্যে সৃষ্ট হতাশার প্রকাশ ঘটছে। বিশ্বে বিরাজিত পরিস্থিতি এবং তাদের ভবিষ্যত নিয়ে তারা হতাশ এবং তা থেকেই দেশে দেশে তুমুল বিক্ষোভ-আন্দোলন হচ্ছে। এর কিছু হচ্ছে সরকারের আচরণে এবং গৃহিত পদক্ষেপে সীমাহীন গড়িমসির কারণে। আমি মনে করছি বর্তমানের আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা বৈষম্যহীন নয়, এবং তরুন সমাজকে কষ্ট দেবে না বা প্রত্যাশার পরিপূরকভাবে কাজ করবে-তেমন প্রক্রিয়াও পরিলক্ষিত হচ্ছে না। আর এমন অবস্থা আমরা বিশ্বব্যাপী দেখছি। এতদসত্বেও যেটা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো এমন বিক্ষোভ যেখানেই হোক না কেন, গ্রেফতারের ভয় ছাড়াই, আহত বা আরো খারাপ পরিস্থিতির ভিকটিম হওয়ার ভীতি ছাড়াই যেন তারা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করার সুযোগ পায়।

জাতিসংঘে বাংলাদেশ প্রতিদিনের স্থায়ী সংবাদদাতা লাবলু আনসারের প্রশ্ন ছিল, ছাত্রদের কোটা সংস্কারের আন্দোলনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে জনবিচ্ছিন্ন এবং পরিত্যক্ত রাজনৈতিক দল ‘জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ’ নাশকতায় লিপ্ত হয়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকার উৎখাতের চেষ্টা করেছে। সোমবার বাংলাদেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী গ্রুপের নেতারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে মতবিনিময়কালে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উপস্থাপিত হয়। এ ব্যাপারে জাতিসংঘ মহাসচিবের কোন পর্যবেক্ষণ আছে কিনা জানতে চাইলে মহাসচিবের মুখমাত্র স্টিফেন ডুজারিক উপরোক্ত মন্তব্য করেছেন।

এরপর অপর সংবাদদাতা (বেগম জিয়ার উপ-প্রেস সচিব মুশফিক ফজল আনসারী) ‘বিক্ষোভকারীদের ওপর সরকারের সরাসরি গুলির বিষয়টি জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে দ্বিতীয় বৃহৎ শান্তিরক্ষী যোগানদাতা দেশ হিসাবে বাংলাদেশের আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের মিশনে অংশগ্রহণে প্রভাব ফেলবে কিনা’ ব্রিফিংয়ে জানতে চান।

জবাবে ডুজারিক বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সরাসরি গুলি চালানোর বিষয়টিসহ বাংলাদেশে স¤প্রতি যা ঘটেছে তা নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। এই পোডিয়াম থেকে জনসম্মুখে কথা বলে যেমন উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরেছি তেমনি ঢাকা এবং নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে সরাসরি জানানো হয়েছে।”

ডুজারিক বলেন, “জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী হিসাবে যাকে নিয়োগ দেয়া হবে তার বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আছে কীনা সেটা খতিয়ে দেখার যে নীতি তা নিশ্চিতের প্রাথমিক দায়িত্বটা নিয়োগদানকারী সদস্য দেশের ওপর বর্তায়। নিয়োগের জন্য কাউকে মনোনীত করার আগে তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনের অতীত কোনো রেকর্ড আছে কিনা কিংবা জাতিসংঘের কোনো মিশন থেকে তাকে বাদ দেয়া হয়েছে কীনা তা নিশ্চিত করা ওই দেশের প্রাথমিক দায়িত্ব।”

ডুজারিক বলেন, “স্পষ্টতই এই ইস্যুতে আমরা সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। মানবাধিকার নীতির শর্তগুলো পূরণ করেই যেন সব ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হয় আমরা সেটা নিশ্চিত করতে চাই।”

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার