
লাবলু আনসার, যুুক্তরাষ্ট্র | শনিবার, ১০ অগাস্ট ২০২৪ | প্রিন্ট | ৫৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পরও বিভিন্ন স্থানে হামলা, অগ্নিসংযোগ এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হত্যা/হেনস্থার সংবাদে প্রবাসীরা উদ্বিগ্ন। স্বজনের নিরাপত্তাহীনতার পাশাপাশি সহায়-সম্পদ লুটের ঘটনা অবিলম্বে বন্ধের জন্যে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের আকুতি উঠেছে কম্যুনিটিতে। হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নিকট আবেদন জানানো হয়েছে দাঙ্গা-হাঙ্গামা থেকে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জানমাল রক্ষায় জরুরি পদক্ষেপ এবং দুর্বৃত্তদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের জন্যে। এ ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণে জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ কামনাও করা হয়েছে মহাসচিব সমীপে প্রেরিত স্মারকলিপিতে।
নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটসের বাসিন্দা আবুল কাশেম প্রচন্ড ক্ষোভের সাথে বললেন, নতুন বাংলাদেশ গড়ার কথা বলছেন অনেকে। কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কোনো আন্তরিকতা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। এমনকি, পুলিশ বাহিনীর সদস্যরাও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। তারা দায়িত্বে ফিরতে স্বাচ্ছন্দবোধ করছেন না। এথেকেই অনুমিত হয় কতটা অসহায় অবস্থায় নিপতিত হয়েছেন প্রিয়-পরিচিতজনেরা। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে নিবেদন রাখছি অসহায় মানুষের নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দিন। তা না হলে অরাজক পরিস্থিতির অবসান ঘটানো সম্ভব হবে না।
ম্যানহাটানের এম এ সালাম বললেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে স্বাগত জানাচ্ছি। জনরোষে শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছেড়ে দেশত্যাগের পরও কেন হত্যা, লুণ্ঠন, অগ্নি সংযোগের ঘটনা কমছে না? যে কারণে ছাত্র-জনতার আন্দোলন হলো তা যদি চলতেই থাকে তাহলে কেন এত রক্তপাত? কেন এত সহিংসতা? কারা করছে এসব? কেন পুলিশকে থানায় ফেরার পরিবেশ তৈরী করতে সর্বাত্মক পদক্ষেপ নিতে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে?
ব্যবসায়ী সামিয়া আলম বলেন, আমার বাড়ি শেরপুর জেলায়। আশেপাশের সকল হিন্দু বাড়ি লুট হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতা থেকে সাধারণ সমর্থকেরাও আক্রান্ত হয়েছেন। জনজীবনে স্বস্তি নেই। এই পরিবর্তনের জন্যেই কী বিপ্লব হলো?
ওয়াশিংটন ডিসিতে বসবাসরত অর্থনীতির অধ্যাপক ও লেখক ড. ফাইজুল ইসলাম বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. ইউনূসসহ সকল উপদেষ্টাই ভালো মানুষ। তারা নিশ্চয়ই মানুষের প্রত্যাশা পূরণে যথাযথ ভূমিকা পালনে সক্ষম হবেন। বিশেষ করে চলমান অরাজক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণেও তারা কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন। একইসাথে আমি আশা করছি যে এই সরকারের চেষ্টায় সুন্দর একটি নির্বাচনের পরিবেশ তৈরী করবেন এবং জনগণের পছন্দের প্রার্থীদের বিজয়ের পথ সুগম করবেন।
নিউ অর্লিন্সে বসবাসরত অধ্যাপক এমিরিটাস ও সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর ড. মোস্তফা সরোয়ার বলেন, ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের পর নতুন সরকারের কাছে জনসাধারণের প্রত্যাশা স্বাভাবিক কারণেই অনেক বেশী। সে সব পূরণে তারা আন্তরিকতার পরিচয় দেবেন বলে আশা করছি। বিশেষ করে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে তারা বিন্দুমাত্র ছাড় দেবেন না বলে মনে করছি। এবং এটাই হচ্ছে সময়ের দাবি।
ইউএসবিসিসিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও লিটন আহমেদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বিশ্বখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূস চেষ্টা করবেন নানাভাবে বিতর্কিত নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজিয়ে জনমনে আস্থা তৈরী করে সুষ্ঠুভাবে একটি নির্বাচনের পথে জনগণকে ধাবিত করতে। এজন্যে অবশ্য কিছু সময় দিতে হবে তাকে। কারণ, সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়েই নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব হবে।



