Advertisement Placeholder

হোমকেয়ার সার্ভিস ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ : ঘরে বসে মোটা আয়ে লাগাম টানা হচ্ছে

বিশেষ সংবাদদাতা   |   শনিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   ১৪৪ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

হোমকেয়ার সার্ভিস ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ : ঘরে বসে মোটা আয়ে লাগাম টানা হচ্ছে

সর্বোচ্চ পেমেন্টের প্রতিযোগিতায় বাগড়া বসিয়েছেন নিউইয়র্ক স্টেটের গভর্নর ক্যাথি হোকুল। এর ফলে হোমকেয়ার সার্ভিস ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ। গভর্নর চাচ্ছেন প্রতি ঘন্টার মজুরি ৪ ডলার করে কমাতে। অর্থাৎ এখনো যারা ঘন্টায় কমপক্ষে ২১ ডলার করে পাচ্ছেন, তারা পাবেন ১৭ ডলার করে। এতে হোমকেয়ার সার্ভিস প্রদানে যারা কাজ করছেন তাদের পারিশ্রমিক আরো কমবে। কারণ, যারা এই সার্ভিসের তত্ত্বাবধান করছেন তাদের অফিস খরচসহ নানাবিধ খরচ কেটে রেখেই নিজ বাসায় স্বজনকে সেবা প্রদানকারীর চেক দিতে হবে। এহেন পদক্ষেপ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন ক্যাথি হোকুল। ক্যাথি বলেছেন, সত্যিকার অর্থেই যারা অসুস্থ বা চলতে অক্ষম তারা যাতে সঠিক সেবা পায় সে জন্যই হোমকেয়ার ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে চাই। ক্যাথির মতে, এই সেক্টরে দীর্ঘদিন থেকেই চলছে অব্যবস্থাপনা। এর ফলে স্টেটের বিরাট অংকের অর্থ লোপাট হচ্ছে বলেও গভর্নরের ধারণা।

নিউইয়র্ক স্টেটের কনজ্যুমার ডিরেক্টেড পারসোনাল অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রাম’ তথা সিডিপ্যাপের সঙ্গে বর্তমানে ৭০০ জন ব্যবসায়ী রয়েছেন, যারা এই সেবাকর্মে লোক সরবরাহ করে আসছেন। স্টেট গভর্নর চাচ্ছেন মানিটরিংয়ের জন্য এতগুলো প্রতিষ্ঠানের দরকার নেই। একটিমাত্র সংস্থাই যথেষ্ট। স্টেট হেলথ ডিপার্টমেন্ট চাচ্ছে অক্টোবরের ১ তারিখের মধ্যেই ৫ বছরের চুক্তিতে একটি মাত্র প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করতে। যারা বিপুল অংকের এই সেক্টরের সার্বিক দেখভাল করবেন। তবে হেল্থ ডিপার্টমেন্টের এই পরিকল্পনার পথে বাধা/সমস্যা হিসেবে দেখা দিতে পারে কতজন মানুষ হোমকেয়ার ওয়ার্কার হিসেবে কাজ করছে সে তথ্য সরবরাহ করা না হলে। স্টেট গভর্নর হোকুল বলেছেন, মেডিকেইড খাতে মোট ৯ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রয়েছে।

এ সেক্টরকে নাজুক হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। মনিটরিংয়ে স্বচ্ছতা না থাকায় অনেকে এজেন্সি ওপেন করে প্রতারণামূলকভাবে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। অর্থাৎ সত্যিকার অর্থে রোগী নন-এমন ব্যক্তিদের রোগী দেখিয়ে হোমকেয়ার ওয়ার্কারের নামে বিল ড্র করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে অনেকেই চুরি করা সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরসহ ব্যক্তিগত গোপন তথ্য ব্যবহারেও কসুর করছে না বলে স্টেটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মনে করছেন। এ জন্যই সেবামূলক এই সেক্টরে নজরদারি কঠোর করতে চাচ্ছেন স্টেট গভর্ণর। গভর্নরের প্রত্যাশা, যত তদ্বিরই চালানো হউক, ১ অক্টোবরের মধ্যে এই প্রোগ্রামকে ঢেলে সাজানোর যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। জানা গেছে, নিউইয়র্ক স্টেটের বাজেট ঘাটতি পুষিয়ে নিতে গভর্নর নানা কৌশল অবলম্বনের পথে রয়েছেন।

এদিকে, অনুসন্ধানকালে জানা গেছে, বর্তমানে সিডিপ্যাপের আওতায় হোমকেয়ার সার্ভিস প্রদানকারীর জন্য ঘন্টায় ২৭/২৮ ডলার হারে পাচ্ছেন এজেন্টরা। কিন্তু স্টেট গভর্নরের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা ঘন্টায় ২৫ ডলারের নিচে আসবে। অর্থাৎ এজেন্সি অফিস পরিচালনা, ডব্লিউ-টুসহ ওয়ার্কারস কমপেনসেশন ইত্যাদি বাদ দিলে সর্বোচ্চ ঘন্টায় ২০ ডলারের কম করে দিতে হবে। আর এ অবস্থায় ইতিমধ্যেই যারা মোটা অর্থ আয়ে সক্ষম হয়েছেন এবং যাদের রোগীর সংখ্যা বেশী, তারা স্বল্প আয়েও টিকতে সক্ষম হলেও ক্ষুদ্র এজেন্টরা কঠিন সংকটে নিপতিত হবেন-তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

জানা গেছে, নিউইয়র্ক স্টেটে হোমকেয়ার সার্ভিস প্রদানকারীর সংখ্যা আড়াই লাখের মত। এর মধ্যে অন্তত ২০ হাজার হচ্ছেন বাংলাদেশী। তারা মা-বাবা-ভাই-বোন-খালা-নানা-নানীকে সেবা দিয়ে রোজগারের ভিন্ন একটি অবলম্বন পেয়েছেন। এই সেবাদাতাদেরও কঠিন মনিটরিংয়ে আনার পাশাপাশি প্রতি ঘন্টার আয়ে লাগাম টেনে ধরা হবে স্টেট গভর্নরের প্রচেষ্টা থামিয়ে দেয়া সম্ভব না হলে। এ নিয়ে ২০ আগস্ট সন্ধ্যায় বাংলাদেশী এজেন্টরা এক বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন জ্যাকসন হাইটসের নবান্ন পার্টি হলে। স্টেট পার্লামেন্ট এবং স্টেট গভর্ণরের সাথে দেন-দরবারের সর্বোচ্চ চেষ্টায় রয়েছেন তারা। ব্রুকলিনের প্রো-হোমকেয়ারের প্রেসিডেন্ট মামুন-উর রশীদ উদ্ভ‚ত পরিস্থিতির আলোকে বাংলাদেশ প্রতিদিনকে জানান, আপনজনকে সেবা দিয়ে ভালো অর্থ আয় করছেন, তারা হঠাৎ করেই বিপাকে পড়বেন আয়ের পরিধি কমে গেলে। মামুন আরো জানান, অসুস্থ স্বজনকে নিজ বাসায় বসেই সিডিপ্যাপের আওতায় সেবা প্রদানকারিদের কোন ট্রেনিংয়ের প্রয়োজন হয় না। তবে এইচএইচএ এবং পিসিএর জন্যে নার্সিং ট্রেনিংয়ের প্রয়োজন হয়।
জানা গেছে, ম্যাসাচুসেটস এবং পেনসিলভেনিয়ার মত বড় কয়েকটি স্টেটে সিডিপ্যাপকে একটি কোম্পানীর আওতায় আনা হয়েছে। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা রোধকল্পে তাদের পদক্ষেপটি স্টেট স্বাস্থ্যসেবার বাজেটে ইতিবাচক প্রভাব রাখছে বলে শোনা যাচ্ছে। নিউইয়র্কের গভর্ণর ক্যাথি সে জন্যেই সকলকে একটি ছাতার নিচে আনার চেষ্টা করছেন।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার