Advertisement Placeholder

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি ফাহিম খুনের মামলায় কৃষ্ণাঙ্গ হ্যাসপিলের ৪০ বছর জেল

বিশেষ সংবাদদাতা   |   শুক্রবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   ৭৭ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

নিউইয়র্কে বাংলাদেশি ফাহিম খুনের মামলায় কৃষ্ণাঙ্গ হ্যাসপিলের ৪০ বছর জেল

ফাহিম সালেহ।

পাঠাও, গোকাডা, জোবাইকের প্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশি আমেরিকান উদ্যোক্তা ও কম্প্যুটার প্রোগ্রামার ফাহিম সালেহ-কে নৃশংসভাবে খুনের দায়ে তারই প্রতিষ্ঠানের কর্মচারি (এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি) টাইরেস হ্যাসপিল (২৫) কে প্যারলে মুক্তিহীন ৪০ বছরের কারাদন্ড প্রদান করলো ম্যানহাটানের সুপ্রিম কোর্ট জজ। গত ২৪ জুন টাইরেস হ্যাসপিলকে মাননীয় আদালত দোষী সাব্যস্ত করেছিলেন। ডিস্ট্রিক্ট এটর্নী ১১ সেপ্টেম্বর গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

গার্লফ্রেন্ডের বিলাসী জীবন-যাপনে সহায়তার জন্যে ফাহিমের একাউন্ট থেকে ৪ লাখ ডলারের মত চুরির ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর হ্যাসপিল তরুণ-মেধাবি উদ্যোক্তা ফাহিম (৩৪) হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল। এবং ২০২০ সালের ১৩ জুলাই নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটানে নিজ এপার্টমেন্টে ফাহিমকে অজ্ঞান করার পর ইলেক্ট্রিক করাত দিয়ে দেহ টুকরো টুকরা করে প্লাস্টিক-ব্যাগে ভরে তা সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলায় শুনানিকালে উদঘাটিত হয় যে, ব্যাংক একাউন্ট থেকে বিভিন্ন সময়ে ৪ লাখ ডলার সরিয়ে ফেলার তথ্যটি ফাহিম জানা সত্বেও হ্যাসপিলকে পুলিশে না দিয়ে কিস্তিতে তা পরিশোধের সুযোগ দিয়েছিলেন ফাহিম। সে সুযোগ কাজে লাগানোর পরিবর্তে হ্যাসপিল ফাহিমকে হত্যার পর লাশ গুমের ষড়যন্ত্রে মেতেছিল। ফাহিমের বাবা আহমেদ সালেহ সৌদি আরবে অবস্থানকালে সেখানেই জন্মেছিলেন ফাহিম ১৯৮৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর।

এরপর ফাহিমকে নিয়ে তার বাবা যুক্তরাষ্ট্রে এসে বসতি গড়েছিলেন নিউইয়র্ক সিটির অদূরে পোকিপসিতে। স্কুলে অধ্যয়নকালেই ফাহিমের প্রতিভার প্রকাশ ঘটে। এক পর্যায়ে ২০১৮ সালে উদ্যোক্তায় পরিণত হন তিনি। মোটর সাইকেলকে ট্যাক্সির বিকল্প হিসেবে ব্যবহারের প্রয়াস পান। নাইজেরিয়ায় ‘গোকাডা, মালয়েশিয়ায় ‘জোবাইক’ এবং ঢাকায় ‘পাঠাও’ সার্ভিসের প্রবর্তন করেন অনলাইন সিস্টেমে। একইসাথে ম্যানহাটানভিত্তিক ভেঞ্চার ক্যাপিটল ফার্ম ‘এ্যাডভেঞ্চার ক্যাপিটল’র প্রতিষ্ঠাতা-অংশিদারও ছিলেন ফাহিম। ২০১৮ সালেই কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান হ্যাসপিল ফাহিমের ফার্মে চাকরি নিয়েছিল।
অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় ফাহিমকে হত্যার সাথে জড়িত থাকার দায়ে হ্যাসপিলকে সেকেন্ড ডিগ্রি হত্যার জন্যে সাজা প্রদান করা হলো। একইসাথে হত্যার ষড়যন্ত্র, কোম্পানীর অর্থ চুরি এবং ইলেক্টিক করাত দিয়ে ফাহিমের দেহ টুকরো টুকরো করার দায়ও বর্তেছে হ্যাসপিলের ওপর।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার