
লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র | বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ | প্রিন্ট | ৯৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

ফাইল ছবি
বিদ্যমান আইন লংঘন করে বাইডেন প্রশাসন বিপুল অর্থের সামরিক সরঞ্জাম (গোলাবারুদসহ সর্বাধুনিক অস্ত্র) ইসরাইলকে প্রদান করেছে এবং তা ব্যবহৃত হচ্ছে মানবাধিকার লংঘনহ সহ মানবিক সহায়তা (ওষুধ ও জরুরী খাদ্য)’র ট্রাক পরিবহণে বাধা প্রদানে। প্রেসিডেন্ট বাইডেন প্রশাসনের ভেতর থেকেই গুরুতর এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং পেন্টাগণে নজরদারি করার অধিকার রয়েছে এমন ফেডারেল ওয়াচডগ বেশ ক’বার অনুসন্ধান চালায় এবং শীঘ্রই সে সব প্রতিবেদন প্রকাশের প্রক্রিয়া চলছে। ওয়াশিংটন পোস্টকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে ১৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক রিপোর্টে উল্লেখ করেছে শীর্ষস্থানীয় মার্কিন পত্রিকাটি।
উল্লেখ্য, বাইডেনের দেয়া এসব অস্ত্র গাজায় নীরিহ নারী-পুরুষ-শিশু ছাড়াও হাসপাতাল এবং জাতিসংঘের কর্মী হত্যায় ব্যবহার করা হচ্ছে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও পেন্টাগণের মহা-পরিদর্শক (স্বাধীন একটি ফেডারেল অফিস) ইতিমধ্যেই মানবতা-বিরোধী অপকর্মে ব্যবহৃত মার্কিন অস্ত্র-শস্ত্রের তথ্য সংগ্রহ করেছে সরেজমিন থেকে। ইতিমধ্যেই বাইডেন প্রশাসন স্বীকার করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া অস্ত্রসমূহ ইসরায়েল গাজায় হত্যাযজ্ঞে ব্যবহার করছে অঅন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে। তবে বাইডেন প্রশাসন ঐসব অস্ত্র প্রদানকে জায়েজ করার যুক্তির অবতারণা করেছে যে, ইসরায়েলকে আত্মরক্ষায় ব্যবহারের জন্যে তা প্রদান করা হয়। একইসাথে ইসরায়েল জানিয়ে আসছে, হামাসের নৃশংসতার কারণে ফিলিস্তিনিরা ভিকটিম হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে গাজা ও পশ্চিম তীরে ঘনবসতি এলাকায়। নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিরা নির্মম হত্যাযজ্ঞের শিকার হচ্ছে এবং গাজায় আটকে পড়া মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্যে জাতিসংঘ, রেডক্রস এবং অন্যান্য সংস্থার খাদ্য-ওষুধবাহী ট্রাক পরিবহনে সমস্যা হচ্ছে। গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে নিরস্ত্র মানুষের মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ হওয়ার তথ্য জানা সত্বেও বাইডেন প্রশাসন ইসলায়েলের কাছে বিপুল অর্থে অস্ত্র বিক্রি অব্যাহত রেখেছে এবং এমন অবজ্ঞার আলোকেই মহাপরিদর্শক তার রিপোর্ট প্রকাশের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে ওয়াশিংটন পোস্ট উল্লেখ করেছে।
নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের নির্বিচারে হত্যার বিরুদ্ধে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাজ্য, কানাডা, জাপান, নেদারল্যান্ড, স্পেন এবং বেলজিয়াম ইসরায়েলকে সামরিক সরঞ্জাম প্রদানের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে। সবকটি দেশই যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র। তারা অনুধাবনে সক্ষম হয়েছে, অস্ত্রসমূহ যুদ্ধাপরাধের মত বর্বরতায় ব্যবহৃত হতে পারে, তেমন নির্মম আচরণে মদদদান করা সমীচিন নয়। আইনগত বিষয় ছাড়াও রাজনৈতিক কারণেও এমন অমানবিক আচরণের সহযোগী হতে চাচ্ছে না এসব দেশ। ওয়াশিংটন পোস্ট বারবার চেষ্টা করেছে হোয়াইট হাউজ এবং ইসরায়েলের বক্তব্য জানতে। কিন্তু কেউ সাড়া দেয়নি।
এদিকে, গত ৭ অক্টোবর হামাসের নৃশংসতায় ইসরায়েলের ১২ শত তরুণ-তরুণী নিহত হয়েছে। তার পরই ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে এ যাবত ৪০ হাজারের অধিক ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রের অধিকাংশই যুক্তরাষ্ট্রের বলে মার্কিন সংস্থাসমূহের পর্যবেক্ষণেও জানা গেছে। স্টেট ডিপার্টমেন্টের মহাপরিদর্শক অফিসের মুখপাত্র মার্ক হাফম্যান উদ্ভুত পরিস্থিতির আলোকে ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেছেন, ইসরায়েলে সামরিক অস্ত্র বিক্রির বিস্তারিত তথ্য সংগৃহীত হয়েছে এবং তার ওপর একটি প্রতিবেদন প্রকাশের প্রক্রিয়া চলছে। অপরদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরে মহাপরিদর্শকের অফিসও অনুরূপ একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির মুখপাত্র মোল্লি এফ হ্যাল্পার্ন।



