
কানিজ ফাতেমা | শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৪ | প্রিন্ট | ১৩৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

শরতের আকাশে মেঘের মেলা। মনটা কেমন চনমনে করে। সাগরের ঢেউ মনের বিষন্নতাকে গ্রাস করে। সময় বুঝে সূর্য চাঁদ কে , চাঁদ সূর্য কে গ্রহণ করে। সব কিছুই সময়ের উপর নির্ভরশীল। ঐ যে একজন আছেন উপরে। তার ঈশারা ব্যতিত কিছুই হয় না। শত চেষ্টার পর যা আসে তাই ভাগ্য। বেঁচে থাকার সংগ্রাম। টিকে থাকার লড়াই। আর ভাল থাকার প্রতিযোগিতায় মানুষ যেন দিনে দিনে অমানুষ হয়ে যাচ্ছে। মানুষের মূল্যবোধ গুলো কে চাঁদের বুড়ি ঘুম পাড়িয়েছে। আধুনিক! ডিজিটাল! প্রভূত উন্নতি! ঘরে ঘরে মানুষ অনাহারে। বেকার যুবক যুবতীরা হতাশাগ্রস্ত। নানামুখী সংকটে কাটছে জীবন।
আনোয়ার হোসেন তিন বছর হলো অবসরে গেছেন। ছেলে রবিনের এবারই শেষ চান্স। বিয়ের বয়স হয়েছে। বেকারের কাছে মেয়ে দিবে কে! বিয়ে তো পরের কথা।
আগে তো পেটের ভাতের জোগার করতে হবে। মা রশিদা বেগম ক্যানসারের সাথে লড়াই করছে। রবিনের ছোট বোন নওশিন সমাজ কল্যাণে মাস্টার্স পাশ করেছে। আনোয়ার হোসেনের স্বপ্ন মেয়েকে ভাল পাত্রের সাথে বিয়ে দিতে হবে। রবিন আর নওশিন দুজনে প্রতিযোগিতা করে পড়াশুনা করে। পৈত্তিক বাড়ি। মাসে মাসে ভাড়া গুনতে হয় না। স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে পেনশনের সমস্ত টাকা খরচ হয়ে গেছে। দৈনন্দিন সংসার খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বয়স সত্তরের কোটায়। নিরেট একজন নিরোগ সাহসী মানুষ। রশিদা বেগম কে ভালবেসে বিয়ে করেছিলেন। পরিবারের একমাত্র সন্তান ছিলেন তিনি তাই তার মা-বাবা তাদের বিয়ে মেনে নেন।
সচ্ছল পরিবার। যৌথ পরিবারে দাদা-দাদীর স্নেহ মমতায় বেড়ে ওঠে রবিন ও নওশিন। রশিদা বেগম এই পরিবারে হাল ধরে। সময়ের সাথে পরপারে চলে যায় দাদা-দাদী। রবিন টিউশনি করে। ভাদ্র মাস। তালপাকা গরম। এই গরমে বাড়ির বারান্দায় বসে মাকে ডাকে। মা খুব চা খেতে ইচ্ছে করছে।
মাথাটা ধরেছে।
মা ॥ বাবা রে তুই তো দুধ চা খাবি।
বাবা দুধ নাই
লেবু চা করে দেই।
রবিন ॥ মা । বেশি কিছু তো চাইনি।
এককাপ দুধ চা !
মা ॥ বাবা রে এমন করে কইস না।
আমার অসুখে তো তোর বাপ ফকির হয়ে গেল।
খরচের তো শেষ নাই।
নওশিনের জন্য এফডিআর করা ছিল
সেটা ও খরচ হয়ে গেছে।
বাবা তোর চাকরী কবে অইব ?
ইন্টারভিউ কবে ?
রবিন ॥ এই তো আর দুই সপ্তাহ পর।
সোমবার।
মা ॥ বাবা রবিন , অনেক ইন্টারভিউতো দিলি। আমি কইকি ,
যদি সাধুর কাছে যাইতি ।
রবিন ॥ মা , তোমার মাথা খারাপ অইছে !
মা ॥ শুনছি উনার কাছে গেলে কাজ হয়।
এবারই তোর শেষ চান্স!
মা বসা থেকে ওঠে রবিনের মাথায় হাত বুলায়।
তার হাত ধরে অনুরোধ করে।
একবার যা।
রবিন ॥ দেখি। দীর্ঘ নি:শ্বাস ছাড়ে।
মাগো পানি পড়া , ফুল পড়া , তেল পড়া কাজ হয় না।
মামা আর টাকা লাগে।
তুই একবার যাইছ।
রবিন কখন ও যাবেনা ফকির দরবেশ সাধুর কাছে।
রশিদা বেগম ঠিক সে নিজে যাবে। অসুস্থ শরীর। মানুষ জিজ্ঞেস করতে করতে পেয়ে যায় সাধুর খোঁজ। সকাল ছয়টা থেকে লাইন শুরু হয়ে গেছে।
রাস্তা থেকে তিনতালা পর্যন্ত মানুষের লাইন। দুই ঘন্টা লেগে যায় সাধুর রুমে পৌঁছাতে।
সাধুর সামনে পৌঁছাতে লাগে আরও দেড় ঘন্টা।
রশিদা বেগম এখানে এসে হতভম্ব!
কোথায় এল!
দেব -দেবীর মূর্তি , ছবি।
আর সাধু ! শরীরে কোন কাপড় নাই।
শরীরের নিচের অংশে লাল গামছা পরিহিত। ব্রাহ্মন পৈতা দেখা যাচ্ছে। একবার মনেমনে ভাবে চলে আসবে।
পরক্ষণে ভাবে
না আসছে যখন
সব কিছু অভিজ্ঞতা নিয়ে যাবে।
মনে মনে আস্তাগফিরুল্লাহ জিকির করছে।
সাধু সবাই কে তুই তুকারি করছে।
ছোট একটি ঘর। এতো মানুষ। নি:শ্বাস বন্ধ হয়ে আসছে।
উপরে কুকুর ঘেউ ঘেউ করছে।
একটি দুটি কুকুর নয়।
বেশ কয়েকটি কুকুর দেখা গেল।
দুটো কুকুর কাঠের সিডি বেয়ে নামতে লাগল
আগত মানুষরা ভীতু হলে
সাধু কুকুর কে সাবধান করল
ভয়ের কিছু নাই।
কুকুর দুটো সাধুকে লেজ দিয়ে মুখ দিয়ে অঙ্গ ভঙি করে।
সাধু বসা থেকে ওঠে দাঁড়ায়।
আপনারা বসেন আমি আসতেছি।
তার চোখেমুখে চিন্তার ভাঁজ।
তিনি কাঠের চোঙ্গা সিড়ি বেয়ে উপরে গেলেন পিছনে পিছনে কুকুর দুটো উঠল।
ঘন্টা কেটে গেল। সাধুর খবর নে । ততোক্ষণে রশিদা বেগমের অবস্থা খুবই খারাপ। তবুও অন্য সবার মত সেও অপেক্ষা করছে।
(চলবে)



