
লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র | শনিবার, ০২ নভেম্বর ২০২৪ | প্রিন্ট | ৫৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

আর দুই দিন পরই পরাশক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। ভোটারদের আকৃষ্ট করতে শেষ সময়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মূল দুই প্রার্থী রিপাবলিকান দলের ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ডেমোক্র্যাট দলের কমলা হ্যারিস। জনমত জরিপ অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত দুই প্রার্থীর সমর্থন সমানে সমান। এবার ভোটযুদ্ধে ভোটাররা দুজনের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও যুদ্ধনীতিকে বিবেচনা করে ভোট দেবেন বলে আবাস পাওয়া যাচ্ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা কমলা এবং ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক কূটনীতি নিয়েও পর্যালোচনা করছেন। হোয়াইট হাউসে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর গোটাবিশ্ব থেকে আমেরিকাকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়ংকর থাবাকে হাস্যরসে পরিণত করেছিলেন। ন্যাটো এবং জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততাকে গুটিয়ে নিয়েছিলেন। একইধারা পুনর্বহালের অঙ্গীকার করছেন ট্রাম্প। চীন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকিস্বরূপ থাকবে না বলেও উল্লেখ করছেন নির্বাচনি সমাবেশে। ‘চীনা প্রেসিডেন্ট আমাকে সম্মান করেন এবং আমাকে ভালোভাবেই জানেন আমি কী ধরনের ক্র্যাজি মানুষ’- দাবি করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্যালট যুদ্ধে ভোটারেরা এসব বিষয়কে প্রাধান্য না দিলে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক মুরুব্বিয়ানা বিপন্ন হয়ে পড়তে পারে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক এবং আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। তবে সাধারণ আমেরিকানরা ট্রাম্পের যুদ্ধ নয়- শান্তি নীতির পক্ষে। এটা হতে পারে নির্বাচনে ট্রাম্পকে বিজয় দেওয়ার অন্যতম একটি প্রধান অবলম্বন-এমন অভিমতও পোষণ করা হচ্ছে শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমে। এ ছাড়া, সীমান্ত ওপেন করে দিয়ে বিদেশিদের অবাধে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকে পড়ার যে পরিস্থিতি বাইডেন-কমলার দায়িত্ব গ্রহণের পরদিন থেকে শুরু হয়েছিল তার পুনরাবৃত্তি চান না ভোটারের অধিকাংশই। এমনকি অভিবাসনের পথ বেয়ে যারা ইতোমধ্যেই সিটিজেনশিপ নিয়েছেন তারাও চান না সীমান্তকে সেন্ট্রাল আমেরিকার দুর্বৃত্তদের জন্য খুলে দেওয়ার মানসিকতা অব্যাহত রাখার মতো প্রশাসনকে। ভোটের সময় যত নিকটে আসছে ততই কথার মারপ্যাঁচে সিদ্ধান্তহীন ভোটারকে নিজের পক্ষে টানতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন উভয় প্রার্থী। নির্বাচনের শেষ সময়ে এসে দেখা যাচ্ছে, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিস নারীদের একটি বড় অংশের সমর্থন পাচ্ছেন। আর তার প্রতিপক্ষ রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের নারী সমর্থনে বেশ খানিকটা ঘাটতি আছে। সে কারণে নারী ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। আর সে চেষ্টাতেই উইসকনসিনের গ্রিন বের কাছে বুধবার রাতের এক নির্বাচনি সমাবেশে তিনি বলেন, ‘নারীরা চান আর না-ই চান, আমি তাদের রক্ষা করব।’ ‘আমি যুক্তরাষ্ট্রে আসা অভিবাসীদের থেকে তাদের (নারীদের) রক্ষা করব। আমি তাদের অন্য দেশ থেকেও রক্ষা করব, যারা আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে আঘাত করতে চায়।’
ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে সঙ্গে সঙ্গেই লুফে নিয়ে তীব্র আক্রমণ করেছেন কমলা হ্যারিস। ট্রাম্পের ‘নারীরা চান বা না চান’ কথাটিকেই বিশেষভাবে সামনে এনেছে হ্যারিস ও তার প্রচার শিবির। এক্সে এক পোস্টে কমলা লিখেছেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করেন, আপনি আপনার শরীরের সঙ্গে কী করবেন সে বিষয়ে তার (ট্রাম্প) সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত; সেটি আপনি পছন্দ করুন আর না করুন।’ কমলা হ্যারিসের প্রচার শিবিরের মুখপাত্র সারাফিনা চিতিকাও এক্সে এক পোস্টে বলেন, ‘ট্রাম্প মনে করেন তিনি আমেরিকার নারীদের চেয়ে বেশি ভালো জানেন।’ হ্যারিস এবারের নির্বাচনি প্রচারে নারীদের প্রজননের স্বাধীনতা, গর্ভপাতের অধিকারের পক্ষে কথা বলে এসেছেন। ওদিকে, গর্ভপাতের বিষয়ে ট্রাম্প মনে করেন, এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার স্টেটগুলোর। যুক্তরাষ্ট্রে ৫০ বছর আগে রো ভি ওয়েড মামলায় যে রায়ে গর্ভপাতকে বৈধ করা হয়েছিল, সুপ্রিম কোর্ট তা পাল্টে দিয়ে দেশটিতে নারীদের গর্ভপাতের সাংবিধানিক অধিকার বাতিল করার পর ট্রাম্প বরাবরই এর কৃতিত্ব দাবি করে এসেছেন। যদিও তিনি ক্ষমতায় গেলে কেন্দ্রীয়ভাবে গর্ভপাত নিষিদ্ধ করবেন এমন কথা বলেননি। আবার কংগ্রেস গর্ভপাত নিষিদ্ধ আইন পাস করলে তাতে তিনি ভেটো দেবেন তাও বলেননি। ট্রাম্পের এমন অবস্থানের কারণে গত ১০ সেপ্টেম্বরে তার সঙ্গে প্রথম টিভি বিতর্কে হ্যারিস সতর্ক করে দিয়ে বলেছিলেন, বুঝে দেখুন, ‘ট্রাম্প আবার ক্ষমতায় গেলে তিনি জাতীয়ভাবে গর্ভপাত নিষিদ্ধ আইন করবেন।’



