
প্রতিদিন ডেস্ক | শনিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২২ | প্রিন্ট | ৮০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ‘বিজনেস ইমিগ্রেশন সেমিনার ২২’। গত ১৩ আগস্ট নিউইয়র্ক জ্যাকসন হাইটস’র কাবাব কিং এ ‘বাংলাদেশ আমেরিকান বার এসোসিয়েশন’ বাবা’র সেমিনারটিতে ৫০ জন অংশগ্রহণ করেন। ভার্চুয়ালি অংশ নেন বিভিন্ন পেশার অন্তত তিন শতাধিক ব্যক্তি। প্রাণবন্ত আলোচনায় উঠে আসে কিভাবে বাঙ্গালি কমিউনিটির মানুষজন সহজে এবং দ্রুততর সময়ের মধ্যে ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে পারেন।
সেমিনারটিতে সহায়তা করে রাজু ল, এ এইচ ল ফার্ম এবং আই-কনসালটেন্সি। সেমিনারে বক্তব্য রাখেন রাজু ল’র কর্ণধার অ্যাটর্নি রাজু মাহাজন এবং ‘আই-কনসালটেন্সি’র পরিচালক সারোয়ার হোসেইন ও প্রধান উপদেষ্টা মো. জাহিদ হোসেইন।
বক্তরা বলেন, বর্তমান সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির ব্যবসা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ক্রমবর্ধমানহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অথচ কমিউনিটির এই ক্রমাগত স্রোতের সাথে তাল মিলিয়ে গুণগতভাবে সেবার মান সর্বক্ষেত্রে সেভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে না। সেবা প্রার্থীরা সঠিক তথ্য ও তথ্য প্রয়োগের জন্য নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান খুঁজে পাচ্ছেন না।
সারোয়ার হোসেইন বলেন, নিউইয়র্কে বাংলাদেশি কমিউনিটি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে; এই ক্রমবর্ধমান কমিউনিটিতে পেশাদার অভিবাসন উপদেষ্টা, পরামর্শদাতা, সংস্থা-অফিস বা ব্যক্তির সংখ্যা সেই তুলনায় নিতান্তই কম। যার ধরুন কমিউনিটিতে আসা নতুন সদস্যরা অনেক সময়ে পেশাদার নন এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে গিয়ে ভুল পরামর্শ এবং সেবার দ্বারা প্রতারিত হচ্ছেন। তাদের অভিবাসনের সময় যেসব সুযোগ-সুবিধাগুলো তারা নিতে পারতেন সেগুলো থেকেও তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।
সারোয়ার হোসেইন আরো জানান, যাতে কমিউনিটিতে একটি অভিজ্ঞ এবং পেশাদার অভিবাসনবিষয়ক সেবা প্রদান সংস্থা গঠন করা যায় সে লক্ষ্যেই তারা কাজ করছেন।
অভিবাসী প্রত্যাশীদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বিষয়ে আ ই- কনসালটেন্সির প্রধান উপদেষ্টা মো. জাহিদ হোসোইন বলেন, আমেরিকান অভিবাসন আইন অনেক বিস্তৃত এবং এর সঠিক জ্ঞান ও প্রয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশি কমিউনিটি বিশেষভাবে উপকৃত হতে পারে। এজন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সেবাদানের মনোভাব, অভিজ্ঞতা, আস্থা এবং বিশ্বাস যা প্রদানের জন্য তিনি দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। দক্ষ মানবসম্পদ হিসাবে বাংলাদেশি কমিউনিটি যাতে মাথা উঁচু করে দেশ ও জাতির ভাবমূর্তি বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে পারে সে প্রত্যয় নিয়ে তারা অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন। অভিবাসন আইনের মাধ্যমে এসাইলাম, ইনভেস্টমেন্ট এবং দক্ষ কর্মী নিয়োগের উপর গুরুত্ব আরোপ করেনি তিনি।
আলোচনার মূল বক্তা হিসেবে অ্যাটর্নি রাজু মাহাজন একটি চমৎকার তথ্যবহুল উপস্থাপনা প্রজেক্টেরের মাধ্যমে এবং তার নিজের অসাধারণ প্রকাশভঙ্গি দ্বারা তুলে ধরেন। তিনি অভিবাসন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন বিষয়গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। যে বিষয়গুলোর মধ্যে ‘ও পি টি, এইচ ওয়ান, ই বি ওয়ান, ই বি টু, ই বি ৩, এবং ই বি ৫’ ভিসা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
কমিউনিটিতে যারা ব্যবসায়ী আছেন তারা কিভাবে নিজেদের আত্মীয়-স্বজনসহ এই দেশে পড়তে আসা বিভিন্ন স্টুডেন্টদেরকে অভিবাসন সুবিধা পেতে সহায়তা করতে পারেন, সেই বিষয়ে তিনি আলোচনা করেন।
অ্যাটার্নি রাজু মাহাজন বলেন, এই শহরে এ ধরনের বিভিন্ন সেমিনার এবং অনুষ্ঠানের আয়োজন করার পাশাপাশি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা দরকার; যেখান থেকে কমিউনিটির মানুষ সঠিক নির্দেশনা পেতে পারে, একই সাথে অভিবাসনে সাফল্যের লাভের জন্য সঠিক পদক্ষেপ ও গ্রহণ করতে পারে।
রাজু মহাজন আরো জানান যে, তিনি এবং আই কনসালটেন্সি, তাদের পরবর্তী সেমিনার চলতি বছরের শেষ নাগাদ টেক্সাসে আয়োজন করার পরিকল্পনা করছেন।
আয়োজকদের আলোচনা শেষে প্রশ্নত্তোর পর্ব রাখা হয়। সেমিনারটিতে আসা প্রায় ৫০ জন অংশগ্রহণ করেন। এবং তারা বিভিন্ন প্রশ্নের মাধ্যমে সেমিনারটিকে প্রাণবন্ত করে তোলেন। সেমিনারে আগত রিয়েল স্টেট এজেন্ট সোখেন গোমেজ তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, কিছুদিন আগে তিনি দেড়শ ডলারের বিনিময়ে এই ধরনেরই একটি সেমিনারে অংশগ্রহণ করেছিলেন। অথচ কোনো ফি ছাড়াই এই সেমিনার অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের সন্ধান দিয়েছে।
সেমিনারটিতে আরো উপস্থিত ছিলেন কলামিস্ট এবং সিলেট অভিবাসন কমিউনিটির নেতা মাহবুব রহমান এবং তার স্ত্রী ঊষা রহমান। উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালীর অভিবাসন কমিউনিটির নেতা ইসমাইল হোসেন এবং তার দুই সন্তান, যারা নিজেরা নিউইয়র্কে সফল ব্যবসায়ী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সেমিনারটিতে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একঝাঁক তরুণ। তারাও সেমিনারটির ভূয়সী প্রশংসা করেন।



