
লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র | সোমবার, ২৪ অক্টোবর ২০২২ | প্রিন্ট | ১৩৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর সমালোচনা করলেন প্রতিনিধি পরিষদের পাঠানো নোটিশের। ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে জঙ্গি হামলায় সরাসরি তিনি জড়িত উল্লেখ করা হয়েছে এবং কমিশনের ঐ নোটিশ অনুযায়ী ১৪ নভেম্বর তাকে ক্যাপিটল হিলের শুনানীতে সশরীরে হাজির হতে অথবা ভার্চুয়ালে বক্তব্য দিতে বলা হয়েছে। তার ১০ দিন আগে অথাৎ ৪ নভেম্বরের মধ্যে আত্মপক্ষ সমর্থনের পক্ষে কোনো দলিল-দস্তাবেজ থাকলে তা কমিটি বরাবরে সাবমিটের কথাও রয়েছে সেই নোটিশে। এটি গত ২০ অক্টোবরই পেয়েছেন ডনাল্ড ট্রাম্প।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল ছিনতাইয়ের প্রকাশ্য অভিযোগ করে ডনাল্ড ট্রাম্প লেলিয়ে দেন তার উগ্রপন্থি সমর্থকদের এবং তারা সশস্ত্র হামলা চালায় ক্যাপিটল হিলে। সেই হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্র ধ্বংসের ষড়যন্ত্র ছিল বলে প্রতিনিধি পরিষদ একটি কমিশন গঠন করেছে। সেই কমিশনের শুনানীর এক পর্যায়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয় যে, অভিযুক্ত ট্রাম্পকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া দরকার। সে অনুযায়ী পাঠানো হয়েছে সেই নোটিশ। নোটিশে তিনি সাড়া দেবেন কিনা তা সরাসরি উল্লেখ না করে শনিবার সন্ধ্যায় টেক্সাসের রবস্টনে দলীয় এক প্রার্থীর নির্বাচনী সমাবেশে হুঙ্কার ছেড়েছেন, ওরা আমাকে তলবী নোটিশ পাঠিয়েছে। ভাবতে পারো? কুটচক্রে লিপ্ত এই মানুষগুলো আমাকে তলব করেছেন? ওরা কিন্তু প্রকৃত তথ্য উদঘাটনে আগ্রহী নন। ওরা চায় না যে ভোট কারচুপি আর জালিয়াতিসহ ফলাফল পাল্টে দেয়ার রহস্য উদঘাটিত হোক।
সমাবেশের ভক্তদের উত্তেজনাকর স্লোগানের মধ্যে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, ওই নির্বাচনে যে দুর্নীতি-কারচুপির ঘটনা ঘটেছে, যা ছিল ব্যাপক, তা নিয়ে তদন্ত করতে চায় না। ওইসব কারচুপি-দুর্নীতির সকল ডক্যুমেন্ট সেখানে রয়েছে, ফলাফল পাল্টে দেয়ার বিষয়ও রয়েছে।
ট্রাম্প এ সময় আভাস দেন যে, ২০২৪ সালের নির্বাচনে পুনরায় প্রেসিডেন্ট পদে লড়বেন। তিনি বলেন, আমি দু’বার লড়েছি এবং দু’বারই জয়ী হয়েছি। এবং দ্বিতীয়বার আমি প্রথমবারের চেয়ে ভালো করেছি। ২০১৬ সালের চেয়ে লাখ লাখ ভোটবেশী পেয়েছি ২০২০ সালের নির্বাচনে। ট্রাম্প উল্লেখ করেন, ‘এবং এখন আমাদের কাউন্টিকে (যে প্রার্থীর সমর্থনে বক্তব্য রাখছিলেন সে এলাকার প্রতি ইঙ্গিত করে) সফল করতে, নিরাপদ এবং গৌরবময় করার জন্য, আমাকে সম্ববত: এটি আবার করতে হবে।’
তদন্ত কমিশনের এই তলবি নোটিশের অবজ্ঞা করা হলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে গুরুতর অপরাধের মামলা হবে বলে সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন। সে বিচারে ট্রাম্পের জেল-জরিমানা হতে পারে-যা তাকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার মত পরিস্থিতি তৈরী করতে পারে। তবে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠজনেরা ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তিনি তেমন ভুল করবেন না। তবে সময়ক্ষেপনের পন্থা অবলম্বন করতে পারেন। ট্রাম্প চেষ্টা করবেন ৮ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল পর্যন্ত। সে নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ এবং সিনেটে যদি রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে সক্ষম হয় তাহলে এই তদন্ত কমিশনের কোন চিহ্ন থাকবে না। সে আশায় বুক বেধে আছেন ডনাল্ড ট্রাম্প এবং তার সাঙ্গ-পাঙ্গরা। তদন্ত কমিশনের নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ইতিমধ্যেই অনুষ্ঠিত সাক্ষ্য এবং আপনার নিয়োজিত স্টাফ/কর্মকর্তাগণের সাথে নানা যোগাযোগের প্রাপ্ত ডকুমেন্ট অনুযায়ী প্রতীয়মান হচ্ছে যে, ওই নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দিতে এবং ক্যাপিটল হিলে ফলাফলকে থমকে দিতে আপনি সংঘবদ্ধ অপচেষ্টার নেতৃত্ব দিয়েছেন। এমনকি শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরেও বিঘ্ন ঘটানোর চক্রান্তে লিপ্ত ছিলেন। ওই নোটিশে ১৯ বিষয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য চাওয়া হয়েছে। যেগুলো টেক্সট ম্যাসেজে কিংবা টেলিফোনে ট্রাম্প তার ভক্তদের আদেশ দেন।
৬ জানুয়ারির অপকর্মের কারণে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ সংগঠনের অভিযোগ দায়ের হতে পারে বিচার বিভাগ থেকে ২২ অক্টোবর এমন অভিমত পোষণ করেছেন প্রতিনিধি পরিষদের কমিটির ভাইস চেয়ার (রিপাবলিকান) কংগ্রেসওম্যান লিজ চেনী। চেনী উল্লেখ করেন, ট্রাম্পকে প্রদত্ত তলবি নোটিশে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল পাল্টে দিতে কী ধরনের জঘন্য ষড়যন্ত্র চালিয়েছেন সে সব ডক্যুমেন্টও রয়েছে সেখানে। ক্যাপিটল হিলে জঙ্গি হামলার সময় ট্রাম্পকে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগিরা বারবার অনুরোধ জানিয়েও ট্রাম্প ওই বর্বরতা থেকে সমর্থকদের বিরত হবার আহবান তাৎক্ষণিকভাবে জানাননি।



