
লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র | বৃহস্পতিবার, ২৭ অক্টোবর ২০২২ | প্রিন্ট | ৯৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

জরিপ অনুযায়ী বাইডেনকে পছন্দ না করলেও ঘৃণা করেন না অধিকাংশ ভোটার। ৮ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন উপলক্ষে ‘পলিটিকো/মর্নিং কন্সাল্ট’ পরিচালিত এক জরিপে এমন তথ্য উদঘাটিত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে বাইডেনের কর্মকান্ডে সন্তুষ্ট ৪৩% ভোটার। অসন্তুষ্ট ভোটারের হার হচ্ছে ৫৫%। ২৫ অক্টোবর প্রকাশিত এ জরিপ অনুযায়ী বাইডেনের প্রতি অসন্তুষ্ট ভোটারের খুব কমসংখ্যকই রিপাবলিকান প্রার্থীকে ভোট দিতে চেয়েছেন। এটাই হচ্ছে ডেমক্র্যাটদের জন্যে বড় অর্জন। অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট বাইডেনের বিকল্প ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থীরা নন বলে ওইসব অসন্তুষ্ট ভোটারের ধারণা।
উল্লেখ্য, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থীগণের অধিকাংশই (সিনেট ও কংগ্রেস) ট্রাম্পের সমর্থক এবং তারা ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল বাইডেন ছিনতাই করেছেন বলে এখনও মনে করেন। এজন্যে ডেমক্র্যাটিক পার্টি থেকে ছিটকে পড়া ভোটাররা বাইডেনের সাম্প্রতিক কর্মকান্ডে (অর্থনীতি, অপরাধ দমন, গর্ভপাত, অভিবাসন) অসন্তুষ্ট হলেও ট্রাম্পের মত উগ্রপন্থিকে ২০২৪ সালের নির্বাচনে স্বাগত জানাতে চান না।
জরিপে বাইডেনের প্রতি অসন্তুষ্ট ৫৫% ভোটারের মধ্যে মাত্র ১৫% জানিয়েছেন যে, তারা রিপাবলিকান প্রার্থীকে ভোট দেবেন। এছাড়া, আরো ১৫% বলেছেন, তারা এখনও সিদ্ধান্ত নেননি ভোটের ব্যাপারে। এ অবস্থায় ৫০-৫০ আসনের ইউএস সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ডেমক্র্যাটরা হারাবেন বলে জরিপ পরিচালনাকারিরা মনে করছেন না। তবে ব্যবধান বেড়ে ৬০-৪০ হবে বলেও আশা করতে পারছেন না জরিপ পরিচালনাকারিরা। অর্থাৎ সিনেটে ডেমক্র্যাটরা ৫০ থেকে ৬০ এর অধিক আসন লাভে সক্ষম না হলে বাইডেনের পক্ষে অনেক কিছু করা সম্ভব হবে না। উল্লেখ্য, প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫ আসনের মধ্যে ডেমক্র্যাটদের দখলে রয়েছে ২২৪টি। অর্থাৎ প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অটুট রাখতেও জোর তৎপরতা চালাতে হচ্ছে ডেমক্র্যাটদের।
জরিপ অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট বাইডেনের কর্মকাণ্ডে কোনো না কোনোভাবে সন্তুষ্ট নন-এমন ভোটারের ৪৪% ডেমক্র্যাটদের ভোট দিতে চেয়েছেন। এমন মনোভাবাপন্ন ভোটারের ৩৫% বলেছেন যে, তারা রিপাবলিকান প্রার্থীকেস ভোট দেবেন। ২১% এখনও সিদ্ধান্তহীনতায় রয়েছেন। এ জরিপ চালানো হয় ২১-২৩ অক্টোবরের মধ্যে। রেজস্টার্ড ভোটারের ২০০৫ জন অংশ নেন। জরিপে অংশগ্রহণকারীগণের অধিকাংশই (৬৬%) বলেছেন যে, ৬ জানুয়ারি কমিশনের নোটিশে ট্রাম্পকে সাড়া দেয়া উচিত। ৪৮% বলেছেন যে অবশ্যই ট্রাম্পের হাজির হওয়া উচিত কংগ্রেসনাল তদন্ত কমিশনের সামনে। উল্লেখ্য, গত শুক্রবার এই তলবি নোটিশ প্রদান করা হয়েছে সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কিত প্রশ্নের জবাবে ৬৮% বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই মন্দায় আক্রান্ত হয়েছে। মাত্র ১৯% মনে করছেন যে, এখনও মন্দার কবরে পড়েনি যুক্তরাষ্ট্র। প্রায় সকল ভোটারই অর্থনৈতিক ইস্যুকে ব্যালট যুদ্ধে প্রাধান্য দিচ্ছেন। অভিবাসন ইস্যুতে বাইডেনের চেয়ে ট্রাম্পের কর্মকান্ডকে গুরুত্ব দিয়েছেন জরিপে অংশগ্রহণকারীণের অধিকাংশই। ৪৯% বলেছেন যে, বাইডেনের দুর্বল নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থা হ-য-ব-র-ল হয়ে পড়েছে। এমন মনোভাব পোষণকারি ভোটারের ১৬% হলেন ডেমক্র্যাট। মাত্র ১৯% ভোটার বলেছেন বাইডেনের নেতৃত্বে অভিবাসন ব্যবস্থায় উন্নতি ঘটছে। রিপাবলিকান পার্টির তালিকাভুক্ত ভোটারের ৮০% মনে করছেন রিপাবলিকানরাই অভিবাসন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে সক্ষম হবে।



