Advertisement Placeholder
মার্কিন কংগ্রেসে স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণ

ইমিগ্রেশন-হেলথকেয়ার-বন্দুক নিয়ন্ত্রণে রিপাবলিকানদের সহায়তা চাইলেন বাইডেন

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বুধবার, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৩   |   প্রিন্ট   |   ৮৫ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ইমিগ্রেশন-হেলথকেয়ার-বন্দুক নিয়ন্ত্রণে রিপাবলিকানদের সহায়তা চাইলেন বাইডেন

কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ৭ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার রাতে প্রসিডেন্ট জো বাইডেনের ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণের ৭৩ মিনিটে সিনেটর-কংগ্রেসম্যানসহ অতিথিরা ৮৭ বার দাঁড়িয়ে তাঁকে অভিবাদন জানান। অন্তত: ৩৩ বার করতালিতে মুখরিত করা হয় হাউজ চেম্বারকে। বক্তব্যে দ্বিমত পোষণ করে রিপাবলিকান সিনেটর-কংগ্রেসম্যানরা ৬ বার হৈ চৈ করেছেন। উল্লেখ্য, জো বাইডেনের এটা প্রথম ভাষণ যখন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে রিপাবলিকানদের হাতে। তবে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার তথা রিপাবলিকান পার্টির নেতা কেভিন ম্যাককার্থি প্রেসিডেন্টের বক্তব্যে কখনো কখনো দ্বিমত পোষণ করলেও দাঁড়িয়ে কোন শব্দ করেননি। অধিকন্তু আমেরিকানদের সামগ্রিক কল্যাণে গৃহিত পদক্ষেপের কথা বাইডেন যখন বলেছেন তখোন ডেমক্র্যাটদের সাথে তিনিও দাঁড়িয়েছিলেন। এবং বক্তব্য প্রদানের জন্যে বাইডেনকে তিনিই আহবান জানিয়েছেন।
বয়সের ভারে ন্যুব্জ হিসেবে যারা বাইডেনের সমালোচনায় মুখর তারাও এ ভাষণের পর সকলের সাথে বাইডেনের শুভেচ্ছা বিনিময়, অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে অনেকের কথা শোনা এবং অনেক সিনেটর-কংগ্রেসম্যানের সাথে সেলফি-তে অংশ নেয়ার ঘটনায় অভিভূত। রাত ১০টা ২১ মিনিটে বক্তব্য শেষ হলেও হাউজ চেম্বারে অপেক্ষমান সকলের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়ের জন্যে আরো ২০ মিনিট ছিলেন বাইডেন। এতবেশি সময় প্রফুল্ল বাইডেনকে ডেমক্র্যাট-রিপাবলিকানদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়ের ঘটনায় অনেকে মনে করছেন সামনের বছরের নির্বাচনে বাইডেনের এটি বড় একটি ভূমিকা রাখবে। সিনেট লিডার নিউইয়র্কের সিনেটর চাক শ্যুমার বাইডেনের দীর্ঘ বক্তব্য উপস্থাপনের পর আরো ২০ মিনিট শুভেচ্ছা বিনিময়ের প্রসঙ্গে বলেন, বয়স কোন ব্যাপারই নয়, বাইডেন তা দেখালেন। যদিও বক্তব্যের শুরুতে হাউজ ও সিনেট লিডারদের শুভেচ্ছা জানানোর সময় বাইডেন ভুল করে চাক শ্যুমারকে সংখ্যালঘিষ্ট হলের নেতা হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। সাথে সাথে ভুল পাল্টে সংশোধনের সময় বলেছেন যে, একটি মাত্র আসন বেশি নিয়ে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদের লিডার হয়েছেন। প্রেসিডেন্টের বক্তব্য উপস্থাপনা ছিল একেবারেই স্বাভাবিক। কখনো পানির গ্লাস হাতে নিতে দেখা যায়নি। শুধু একবার খুশখুশানি কাশি দিয়েছেন। এটি ছিল তার দ্বিতীয় ভাষণ যৌথ অধিবেশনে। প্রথম ভাষণে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নেতৃত্বে ছিল ডেমক্র্যাটরা।
ইমিগ্রেশন, হেলথকেয়ার, সীমান্ত সুরক্ষা, বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আইনের পাশাপাশি পুলিশী আচরণে পরিবর্তন আনা, জলবায়ু পরিবর্তন রোধে গৃহিত কর্মসূচিতে রিপাবলিকানকানদের সহযোগিতা চেয়েছেন ডেমক্র্যাট প্রেসিডেন্ট। ‘আসুন অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে সম্পন্ন করি’-এমন আহবান উচ্চারিত হয় বাইডেনের বক্তব্যে। বাইডেন বলেছেন, করোনার কারণে অনেক কিছু স্থবিরতায় আক্রান্ত হলেও আমেরিকা সবকিছুতে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে। শীঘ্রই করোনাজনিত বিধি-নিষেধ একেবারেই উঠিয়ে নেয়া হবে। বাইডেন বলেন, এই বিশ্বে একটিমাত্র দেশ, যেটি আদর্শ-ন্যায়-নিষ্ঠার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের প্রসঙ্গে বাইডেন বলেন, ইউক্রেনের গণতন্ত্র রক্ষায় আমেরিকা যথাযথ পদক্ষেপ নিয়েছে। ইউরোপকে ঐক্যবদ্ধ করতেও আমেরিকা সাহসী ভ’মিকা দেখিয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নামোল্লেখ না করে বাইডেন তার ভাষণে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রও হামলার মুখে পড়েছিল। দলমত-নির্বিশেষে সকলে তা মোকাবেলা করেছি। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান সুসংহত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র আবার দিপ্ত প্রত্যয়ে এগিয়ে চলছে। বাইডেন বলেন, আমেরিকার অবকাঠামোগত সকল উন্নয়ন-প্রকল্পের কাঁচামাল হতে হবে আমেরিকার তৈরী-এটি হচ্ছে আমার প্রশাসনের মূলমন্ত্র। সেভাবেই সবকিছু করা হচ্ছে। জলবায়ূ পরিবর্তনের ভয়ংকর আশংকার আলোকে বাইডেন বলেন, যে আশংকা করা হচ্ছে তা রেড (রিপাবলিকান) কিংবা ব্লু (ডেমক্র্যাট)স্টেট দেখে আছড়ে পড়বে না। সকলেই তার ভিকটিম হবো। তাই আসুন জলবায়ু পরিবর্তন রোধে একযোগে কাজ করি। বাইডেন বলেন, গত দু’বছরে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি মানুষের (এক কোটি ২০ লাখ) কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। গত ৫০ বছরের মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে কম বেকার রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। তিনি বলেন, করোনা থেকে জেগে উঠার পরিক্রমায় গত দু’বছরে কমপক্ষে নয়া ১০ লাখ উদ্যোক্তা তৈরী হয়েছে, যারা ইতিমধ্যেই ব্যবসা শুরু করেছেন। এভাবেই স্থবিরতা কাটিয়ে উঠছে আমেরিকা।
বাইডেন কংগ্রেসের প্রতি আহবান জানিয়েছেন ধনীক শ্রেণীর ট্যাক্সেও পরিমাণ বৃদ্ধির জন্যে। অর্থনৈতিক ভিত মজবুতের জন্যে এর বিকল্প নেই যুক্তি দেখিয়ে বাইডেন বলেন, আমরা কাউকে পেছনে ফেলতে চাই না। রিপাবলিকানদের প্রতি ইঙ্গিত করে বাইডেন বলেন, ডেমক্র্যাটদের সাথে কাধে কাধ মিলিয়ে কাজে রিপাবলিকানদের কোন সমস্যা হবার কথা নয়। কারণ উভয়েই আমেরিকার কল্যাণে বিশ্বাসী।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার