শনিবার ২৫শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

তুরস্ক-সিরিয়া ভূমিকম্পে প্রাণহানি ২৪ হাজার ছাড়িয়েছে, উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত

বিশ্ব ডেস্ক   |   শনিবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | প্রিন্ট  

তুরস্ক-সিরিয়া ভূমিকম্পে প্রাণহানি ২৪ হাজার ছাড়িয়েছে, উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত

গত ৬ ফেব্রুয়ারি ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পের ৫ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও মরদেহ উদ্ধার অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ হিসাবে, দেশ দুটিতে শক্তিশালী ওই ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ২৪ হাজার ছাড়িয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দুই দেশের সরকারি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, সর্বশেষ খবর পর্যন্ত তুরস্ক ও সিরিয়ায় অন্তত ২৪ হাজার ১৬৫ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এর মধ্যে তুরস্কেই প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২০ হাজার ৬৬৫ জন। আর সিরিয়া থেকে উদ্ধারকৃত মরদেহের সংখ্যা সাড়ে ৩ হাজার ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে।

এদিকে, জাতিসংঘ এক বিবৃতিতে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, শক্তিশালী ওই ভূমিকম্পের জেরে দেশ দুটিতে অন্তত পৌনে নয় লাখ মানুষের জন্য জরুরি ভিত্তিতে খাবার সরবরাহ করা প্রয়োজন। এছাড়া সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, ভূমিকম্পের ফলে শুধু সিরিয়াতেই ৫৩ লাখ মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি সোমবার স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ১৭ মিনিটে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে তুরস্ক ও তার প্রতিবেশী দেশ সিরিয়া। ওই ভূমিকম্পের ১৫ মিনিট পর ৬ দশমিক ৭ মাত্রার আরও একটি বড় ভূমিকম্প এবং পরে অনেকগুলো আফটারশক হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তাৎক্ষণিক এক বিবৃতিতে বলা হয়, তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় কাহরামানমারাশ প্রদেশের গাজিয়ানতেপ শহরের কাছে ভূপৃষ্ঠের ১৭ দশমিক ৯ কিলোমিটার গভীরে ছিল ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল।

বিধ্বংসী সেই ভূমিকম্পের পরপরই ধ্বংসাবশেষের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করেন তুরস্ক ও সিরিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের উদ্ধারকর্মীরা। পরে তাদের সঙ্গে যোগ দেন বিভিন্ন দেশের উদ্ধারকারী সদস্যরাও।

উপদ্রুত বিভিন্ন শহরে দিনরাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা; কিন্তু বিপর্যয়ের ব্যাপকতা ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজের কোনো কূল-কিনারা করা যাচ্ছে না। এখনও তুরস্ক ও সিরিয়ার বিভিন্ন শহরের ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের তলায় চাপা পড়ে আছেন শত শত হতাহত। তাদের মধ্যে যারা বেঁচে আছেন, শিগগির উদ্ধার না পেলে মৃতের সংখ্যা আরও কয়েকগুণ বাড়বে।

তুরস্কে উদ্ধারকাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তীব্র ঠান্ডা, বৃষ্টি, যোগাযোগে বিপর্যয়সহ নানা সমস্যা। আশ্রয়, খাবার, পানি, জ্বালানি ও বিদ্যুতের অভাবে চরম দুর্দশায় রয়েছেন উপদ্রুত এলাকাগুলোর বেঁচে থাকা মানুষেরা। ফলে তাঁদের মধ্য থেকেও অনেকের মৃত্যু হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

পাশের দেশ সিরিয়ার অবস্থা আরও খারাপ। দেশটির ভূমিকম্পকবলিত এলাকাগুলো সরকার ও বিদ্রোহী—দুই পক্ষের নিয়ন্ত্রণে থাকায় সহায়তা পৌঁছানো নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে সহায়তা নিয়ে জাতিসংঘের ছয়টি ট্রাক তুরস্ক সীমান্ত পার হয়ে সিরিয়ায় প্রবেশ করেছে। এটি দেশটির উপদ্রুত অঞ্চলে পৌঁছানো প্রথম আন্তর্জাতিক সহায়তা।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১২:৫৮ অপরাহ্ণ | শনিবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

nypratidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  

Editor : Naem Nizam

Executive Editor : Lovlu Ansar