Advertisement Placeholder

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে : শেখ হাসিনা

প্রতিদিন ডেস্ক   |   মঙ্গলবার, ২১ জুন ২০২২   |   প্রিন্ট   |   ১৩৩ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে : শেখ হাসিনা

বন্যা নিয়ে ঘাবড়ানোর কিছু নেই জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে সহায়তা দেওয়া হবে। সিলেট বিভাগের সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও বন্যাদুর্গতদের পুর্নবাসন নিয়ে মঙ্গলবার (২১ জুন) সিলেট সার্কিট হাউজে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে সকালে হেলিকপ্টারে করে নেত্রকোণা, সুনামগঞ্জ ও সিলেটের বন্যা দুর্গত এলাকার পরিস্থিতি ঘুরে দেখেন। পরে সিলেট সার্কিট হাউজে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের এবং স্থানীয় প্রশাসনকে বন্যা মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের মানুষকে এই বন্যা-প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে লড়াই করে বাঁচার মানসিকতা থাকতে হবে। সে কারণে আমাদের অবকাঠামোগত যত উন্নয়ন হবে সেগুলো মাথায় রেখে করতে হবে।

তিনি বলেন, সিলেট অঞ্চলে মাটি উঁচু করে আর কোনো রাস্তা করা হবে না, ‘এলিভেটেড’ রাস্তা হবে। এলিভেটেড রাস্তা হলে সেটা সহজে নষ্ট হয় না, বন্যার মত দুর্যোগে যাতায়াতেরও সুবিধা হয়।শেখ হাসিনা বলেন, আমি আগে থেকেই আমার কার্যালয়ে বন্যার বিষয়ে প্রস্তুতির জন্য বলে রেখেছিলাম। প্রায় এক-দেড় মাস আগে থেকেই সবাইকে বলতাম, এবার খুব বড় একটা বন্যা আসবে, প্রস্তুতি নেতে। প্রাকৃতিক একটা পরিস্থিতি দেখে আন্দাজ করা যায়। সেটা দেখেই আমি সবসময় বলছি এবার বড় বন্যা আসবে। এসময় ৯৮ এবং ৮৮ সালের দীর্ঘস্থায়ী বন্যার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। ১০ বছর ১২ বছরের মধ্যে এমন বন্যা আসে। এখন রাস্তাঘাট অনেক উন্নত হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, খাদ্যমন্ত্রীকে আগেই বলেছিলাম, এবার কিন্তু বন্যা আসবে। বন্যায় খাদ্যগুদামে পানি ঢুকতে পারে। সেজন্য পানি সেচের ব্যবস্থা রাখতে হবে, পাম্প রাখতে হবে। বিশেষ করে খাদ্যগুদাম এবং সার রক্ষা করতে হবে। আবার খাদ্যগুদাম থেকে খাদ্য যাবে বের করা যায়। এগুলো আমাদের সব সময় করে রাখতে হবে।

এবারের বন্যা অনেক দেরিতে এসেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৯৮ সালের সেই দীর্ঘস্থায়ী বন্যার পর…। বন্যা এলে পরপর আসে। ৫৫ ও ৫৬ সালে দীর্ঘস্থায়ী বন্যার পর…। এবার সিলেট বিভাগে পরপর তিনবার বন্যা হয়েছে। এটা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। প্রতিবার নতুন নুতুন জায়গায় প্লাবিত হয়েছে। আমাদের যে ফসল বা যা কিছু ক্ষতি হয়েছে… আমরা গতকালকেও মিটিংয়ে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। এসময় বৃষ্টি পানি ধরে রাখার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বন্যার সময় নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, এর আগে নৌকায় করে আমাকে বিভিন্ন জনসভায় যেতে হয়েছে। কানাইঘাট, শাল্লা নৌকা করে গেছি। সে সব অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাহেরপুরে তো জনসভা মঞ্চেই পানি হয়ে গিয়েছিল। নৌকায় করে গিয়ে মিটিং করেছিলাম।

এর আগে মঙ্গলবার (২১ জুন) সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী একটি হেলিকপ্টার ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এরপর ৯টা ৫৮ মিনিটে তিনি লালগালিচা দিয়ে বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে প্রবেশ করেন। এরপর সকাল সোয়া ১০টায় সিলেট সার্কিট হাউসে পৌঁছান তিনি। সিলেট আওয়ামী লীগ ও বিমানবন্দরের একাধিক সূত্রের বরাতে গণমাধ্যম এ খবর দিয়েছে।

জানা গেছে, সার্কিট হাউসে প্রধানমন্ত্রী বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করবেন এবং দিকনির্দেশনা দেবেন। এরপর ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচিতে যোগ দেবেন তিনি। সফরসূচি অনুযায়ী দুপুর ১টায় সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশে তিনি রওনা দেবেন।

এর আগে সকাল ৮টার দিকে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের পুরাতন বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারযোগে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী। হেলিকপ্টার থেকে প্রথমে নেত্রকোণা, তারপর সুনামগঞ্জ ও সবশেষে সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানিয়েছে, বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি ‘লো ফ্লাই মুড’ বা নিচু হয়ে উড়বে, যাতে দুর্গত এলাকার অবস্থা স্পষ্টভাবে দেখতে পান সরকারপ্রধান।

বন্যা দুর্গত এলাকা ও ক্ষয়ক্ষতি ঘুরে দেখে সিলেট এমএজি ওসমানী বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। এরপর সেখান থেকে সিলেট সার্কিট হাউসে পৌঁছেন।

প্রসঙ্গত, দেশে এখন পর্যন্ত বন্যায় আক্রান্ত জেলা ১৫টি। আরও ছয়টি জেলা বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে। পানি যত নিচের দিকে নামবে, ততই বাড়বে বন্যায় আক্রান্ত জেলার সংখ্যা। এই তালিকায় আছে মানিকগঞ্জ, পাবনা, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারীপুর ও চাঁদপুর। এসব জেলার ৯টি নদীর ১৯টি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) এ তথ্য জানিয়েছে। এদিকে ধীরে ধীরে সিলেট অঞ্চলে বন্যার পানি কমছে। ফলে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। তবে নদনদীর পানি বাড়তে থাকায় দেশের উত্তরাঞ্চলে পরিস্থিতির অবনতি ও নতুন নতুন এলাকায় বন্যা দেখা দিতে পারে। আর চট্টগ্রাম অঞ্চলে অস্বাভাবিক হারে বৃষ্টি বেড়ে যাওয়ায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি বাড়বে।

ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জি ও সিলেটে বৃষ্টি কমতে শুরু করেছে। ফলে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনায় বন্যার পানি হ্রাস পাচ্ছে। তবে ওই পানি হবিগঞ্জ দিয়ে নামতে শুরু করায় সেখানকার নদনদীতে পানি বাড়ছে। সেখানে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য জেলাগুলোতে অস্বাভাবিক হারে বৃষ্টি বেড়েছে। ফলে সেখানে পাহাড়ধস শুরু হয়েছে। সামনের কয়েক দিন ওই ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার