বুধবার ২২শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

প্রণোদনা ৫% করলে হুন্ডিতে আগ্রহ আরো কমবে

যুক্তরাষ্ট্রের সোনালী এক্সচেঞ্জ এক বছরে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে ২২ হাজার কোটি টাকা

বিশেষ সংবাদদাতা   |   সোমবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | প্রিন্ট  

যুক্তরাষ্ট্রের সোনালী এক্সচেঞ্জ এক বছরে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে ২২ হাজার কোটি টাকা

দেবশ্রী মিত্র।

বিশ্বস্ততার সাথে দ্রততম সময়ে স্বজনের কাছে টাকা পাঠানোর অনন্য একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে সোনালী এক্সচেঞ্জের ১০টি শাখা। একারণেই নানাবিধ অপপ্রচারণা সত্বেও এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি প্রবাসীদের আস্থায় বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি। সেই ধারাবাহিকতায় করোনা থেকে জেগে উঠার পরিক্রমায় আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিরাও সোনালী এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে স্বদেশ-স্বজনের কাছে অর্থ প্রেরণের হার বাড়িয়ে দিয়েছেন।

গত বছর ২ লাখ ৩০ হাজার প্রবাসী ১৮৫ মিলিয়ন ডলার (২২ হাজার কোটি টাকা) পাঠিয়েছেন। এর সাথে গন্তব্যে যোগ হয়েছে শতকরা আড়াই টাকা হারে। উল্লেখ্য, এসব টাকা পাঠানো বাবদ কোন ফি নেয়নি সোনালী এক্সচেঞ্জ। একদিকে আড়াই পার্সেন্ট হারে প্রণোদনা, আরেকদিকে ফি ছাড়া রেমিটেন্সের সুযোগ তৈরী হওয়ায় হুন্ডির মত বেআইনী পন্থা পরিহারের মনোভাব ক্রমান্বয়ে বাড়ছে বলে সোনালী এক্সচেঞ্জের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দেবশ্রী মিত্র এ সংবাদদাতাকে জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত সোনালী এক্সচেঞ্জ কোম্পানী হচ্ছে বাংলাদেশের সোনালী ব্যাংকের একটি সাব-সিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান। যুক্তরাষ্ট্রে সোনালী এক্সচেঞ্জের ১০টি শাখা থেকে প্রবাসীরা রেমিটেন্স করছেন। ভার্জিনিয়া, টেক্সাস, ফ্লোরিডা, লসএঞ্জেলেসে নতুন শাখার জন্যে চেষ্টা চলছে। মেরিল্যান্ডে শাখা খোলার লাইসেন্স পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করে সিইও বলেন, রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টিযুক্ত ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি হওয়ায় সোনালী এক্সচেঞ্জের প্রতি প্রবাসীদের আস্থার ভিত অনেক মজবুত এবং আমরাও সেবার মানোন্নয়নে সর্বাত্মক সচেষ্ট রয়েছি।

দেবশ্রী মিত্র বলেন, রেমিটেন্সের সময় প্রবাসীদের অনেক গোপন তথ্য জানাতে হয়, সেগুলোর নিরাপত্তা বিধানে আমরা বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করি না। এজন্যে গত ২৮ বছরে একজন গ্রাহকও কোন অভিযোগ উঠাতে পারেননি। এটাই হচ্ছে বড় সত্য। আরেকটি বিষয় প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে, সেটি হচ্ছে ফি না নেয়া। এবং সপ্তাহের ৭ দিনই খোলা রাখা হচ্ছে। অর্থাৎ প্রবাসীগণের সুবিধার্থে আমরা ত্যাগ স্বীকারেও সম্মত হয়েছি। এভাবেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগ্রহে আমরা নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করছি। সেবা প্রদানের পরিধি বিস্তৃত হয়েছে। মোবাইলে অ্যাপস ডাউনলোড করে ঘরে বসেই স্বজনের কাছে টাকা পাঠানো যাচ্ছে। সেখানেও ফি লাগে না এবং গন্তব্যে একই রেট দেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই প্রবাসীদের জন্যে সোনালী ব্যাংক বিশেষ একটি ব্যবস্থা চালু করেছে। অনলাইনে একাউন্ট ওপেন করার পাশাপাশি লেন-দেনও করতে পারছেন। একাউন্টের খোঁজ-খবর নিতে পারছেন। অন্য যে কোন ব্যাংকের একাউন্টে টাকা ট্র্যান্সফারও করা যাচ্ছে।

দেবশ্রী বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার সব সময় প্রবাসীদের ‘রেমিটেন্স যোদ্ধা’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন মেটাতে সোনালী এক্সচেঞ্জসহ অন্যান্য বৈধ চ্যানেলে প্রেরিত অর্থ সেক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখছে। অর্থাৎ বিদেশ থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রি আমদানীর জন্যে বৈদেশিক মুদ্রার সংস্থান হচ্ছে প্রবাসীদের রেমিটেন্স। এদিকে, প্রবাসের বিশিষ্টজনেরা উল্লেখ করেছেন যে, প্রেরিত রেমিট্যান্সের ওপর প্রণোদনার হার ৫% করা হলে হুন্ডির প্রতি অনাগ্রহ একেবারেই কমতে পারে। এদিকে সংশ্লিষ্ট সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন প্রবাসীরা।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১২:৩০ অপরাহ্ণ | সোমবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩

nypratidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর...

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  

Editor : Naem Nizam

Executive Editor : Lovlu Ansar