রবিবার ২৬শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সুশীল সমাজের উদ্বেগ : যুক্তরাষ্ট্রে বাক-স্বাধীনতা হরণের নগ্ন পরিক্রমা

বিশেষ সংবাদদাতা   |   শুক্রবার, ১৭ মার্চ ২০২৩ | প্রিন্ট  

সুশীল সমাজের উদ্বেগ : যুক্তরাষ্ট্রে বাক-স্বাধীনতা হরণের নগ্ন পরিক্রমা

আইডাহো স্টেটে একটি শিল্প প্রদর্শনী সেন্সর করা হয়েছে এবং কিশোরদের বলা হয়েছে যে, তারা কিছু আইনী শুনানিতে সাক্ষ্য দিতে পারবে না। ওয়াশিংটন স্টেটে একজন আইনপ্রণেতা একটি হটলাইন প্রস্তাব করেছেন যাতে সরকার আক্রমণাত্মক পক্ষপাতদুষ্ট বিবৃতি, সেইসাথে ঘৃণামূলক অপরাধগুলিকে ট্র্যাক করতে পারে৷ ফ্লোরিডা স্টেটে ব্লগাররা একটি বিলের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন যা তাদের স্টেটের সাথে নিবন্ধন করতে বাধ্য করবে, যদি তারা সরকারী কর্মকর্তাদের সমালোচনা করে পোস্ট লেখে। এহেন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের এবিসি টিভিতে বুধবার ‘ফাউন্ডেশন ফর ইন্ডিভিজুয়্যাল রাইটস অ্যান্ড এক্সপ্রেশন’র পরিচালক জো কোহন অভিযোগ করেছেন, “আমরা এই মুহূর্তে সারা আমেরিকায় প্রথম সংশোধনীর (বাক-ব্যক্তির স্বাধীনতা) উপর প্রচন্ড আক্রমণ দেখছি বাইডেন সরকারের পক্ষ থেকে। সেন্সরশিপ প্রসারিত হচ্ছে, এবং এটি খুবই উদ্বেগজনক,” । ইতিমধ্যেই বইয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা এবং ড্র্যাগ পারফরম্যান্সের বিরুদ্ধে কঠোরতাও বেড়েছে বলে মন্তব্য করা হয়েছে।
জো কোহন বলেছেন, “এ বছর, আমরা ড্র্যাগ পারফরম্যান্সকে (সমাজের অসঙ্গতিকে কটাক্ষ করে মূকাভিনয়)লক্ষ্য করে আইন তৈরীর ব্যাপক প্রবণতা দেখতে পাচ্ছি, যেখানে কেবলমাত্র লিঙ্গ অসঙ্গতিপূর্ণ হওয়াই শাস্তি প্রদান করার জন্য যথেষ্ট। আমরা পাবলিক অথবা কে গ্রেড থেকে দ্বাদশ গ্রেডের শিক্ষার্থীদের স্কুল লাইব্রেরিতে কী হতে পারে তা নিয়ন্ত্রণ করতেও বিভিন্ন স্টেট পার্লামেন্টে বিল উত্থাপন করা হচ্ছে। কলেজ ক্যাম্পাসে, আমরা মনিটরিং চালাচ্ছি অনুষদের সদস্যদের শাস্তি প্রদানের জন্যে যারা বক্তব্যে বা অভিব্যক্তিতে ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা করবে। এবং এহেন প্রবণতা গত ২০ বছরের মধ্যে আর কখনো এমনভাবে দৃশ্যমান হয়নি।’’
মিডল টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটির ‘ফ্রি স্পিচ সেন্টা’রর ডিরেক্টর কেন পলসন বলেন, প্রথম সংশোধনীর অধিকার কয়েক দশক ধরে আমেরিকায় স্থিতিশীল ছিল, কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলিতে অনেক স্টেটে প্রয়াত সিনেটর (রিপাবলিকান) জো ম্যাকার্থির মতো লোকদের দ্বারা নিযুক্ত অ্যান্টি-স্পিচ কৌশলে ফিরে এসেছে ১৯৫০ এর দশকের প্রথম দিকের “রেড স্কয়ার”(যাদেরকে কম্যুনিস্ট হিসেবে গালি দেয়া হয়)। অর্থাৎ অসঙ্গতির দিকে আঙ্গুল উচিয়ে কেউ কথা বললেই তাকে নিবৃত্ত করার অপচেষ্টায় ‘কম্যুনিস্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় অর্থাৎ সংবিধান প্রদত্ত বাক স্বাধীনতা হরণের অভিপ্রায়ে ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছেন সিনেটর ম্যাকার্থিসহ তার অনুসারিরা।
কেন পলসন ফ্লোরিডার মত স্টেটগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে এবিসি টিভিতে বলেছেন, “আমরা এমন একটি সংঘবদ্ধ অপতৎপরতা দেখছি যা কয়েক দশকে দেখিনি।’’ ফ্লোরিডার রিপাবলিকান গভর্নর রন ডিস্যান্টিস এমন আইনের জন্য চাপ দিয়েছেন যা ড্র্যাগ শো-কে অপরাধী হিসেবে গণ্য করবে, শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের জন্য কী নাম ব্যবহার করতে পারে তা সীমিত করবে, অভিভাবকদের অনুমতি দেবে লাইব্রেরিতে কি বই থাকতে পারে তা নির্ধারণ করতে। এবং কিছু ইতিহাস ক্লাস সম্পূর্ণভাবে ব্লক করতে পারে- পলসন উল্লেখ করে আরো বলেন, “এটা বেশ বিস্ময়কর যে অনেক রাজনীতিবিদ স্বাধীনতার পতাকা ওড়াচ্ছেন অথচ তারা আমেরিকানদের বাক-অধিকার লঙ্ঘন করার জন্য কোন উচ্চবাচ্য করছেন না।’’ এখনও কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠীর সেন্সরশিপের একচেটিয়া অধিকার নেই। তবে বাক-স্বাধীনতা বিরোধী আগ্রাসী তৎপরতা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে-উল্লেখ করেছেন কোহন।
ওয়াশিংটন স্টেটের পক্ষপাতিত্ব হটলাইন বিল, যা এই বছরের শুরুতে তামাদি হয়েছে, সেটি উত্থাপন করেছিলেন ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর জাভিয়ের ভালদেজ । এই বিলে অ্যান্টি-ডিফেমেশন লীগ, আরবান লীগ, আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন্স কাউন্সিলসহ বেশ কয়েকটি গ্রুপের সমর্থন ছিল। এর লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রকে ঘৃণামূলক অপরাধ এবং পক্ষপাতমূলক ঘটনা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করতে এবং এমন একটি সময়ে যখন ঘৃণামূলক অপরাধের ঘটনা বাড়ছে তখন ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা এবং ক্ষতিপূরণ প্রদান করা।
এহেন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ফাউন্ডেশন ফর ইন্ডিভিজুয়্যাল রাইটস অ্যান্ড এক্সপ্রেশন সহ বিরোধীরা মনে করছে যে, তারা ভয় করে যে এটি সুরক্ষিত বক্তৃতাকে দমন করবে কারণ এটি অপরাধমূলক আচরণ এবং আপত্তিকরভাবে পক্ষপাতদুষ্ট বিবৃতি উভয়কেই অন্তর্ভুক্ত করে।
উল্লেখ্য, ঘৃণাত্মক বক্তৃতা ক্ষতিকারক এবং বিদ্বেষপূর্ণ হতে পারে, তবে এখনও প্রথম সংশোধনী দ্বারা সুরক্ষিত। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এবং চরমপন্থা অধ্যয়নকারী বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলির মদদে হতে পারে।
ওরেগন স্টেটের অ্যাটর্নি জেনারেল এলেন রোজেনব্লাম অফিসের রিপোর্ট অনুযায়ী, ওরেগন স্টেট ২০১৯ সালে একই ধরনের পক্ষপাতিত্বের হটলাইন তৈরি করেছে। এটি ২০২১ সালে প্রায় ১,৭০০টি কল পেয়েছিল, যেখানে রিপোর্ট করা ঘটনাগুলির প্রায় ৬০% অপরাধমূলক মানদন্ডে ছিল না। কোহন বলেছেন, ক্ষমতাসীনরা বিবেচনাকে সচরাচর প্রসারিত করে তার বিপক্ষে থাকা লোকজনের মতামতের ভিত্তিতে অর্থাৎ নিজ দলের কেউ কোন সমালোচনা করলে সেটিকে বাক-স্বাধীনতার আওতায় আনা হচ্ছে, অন্যেরা বললেই তাকে শাসানো হচ্ছে, আইনস দ্বারা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। আর্টিস্ট ক্যাটরিনা গত দশকে অন্তত: দুই ডজন স্টেটে তার চিত্রকর্ম প্রদর্শন করেছেন, কখনো গত সপ্তাহের মত সেন্সরের কবলে পড়েননি। এমন পরিস্থিতির অবতারণা হয় আইডাহো স্টেটের লিউইস্টন সিটিতে। তার প্রদর্শনী থামিয়ে দেয়া হয়েছে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১২:৩৩ অপরাহ্ণ | শুক্রবার, ১৭ মার্চ ২০২৩

nypratidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর...

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  

Editor : Naem Nizam

Executive Editor : Lovlu Ansar