Advertisement Placeholder

নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের মসজিদ উদ্বোধনে ধর্মীয় সম্প্রীতির অনন্য নজির

বিশেষ সংবাদদাতা   |   রবিবার, ১৯ মার্চ ২০২৩   |   প্রিন্ট   |   ১১২ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের মসজিদ উদ্বোধনে ধর্মীয় সম্প্রীতির অনন্য নজির

মসজিদের উদ্বোধনী বক্তব্য প্রদান করছেন টুপি পরিহিত সিটি মেয়র এরিক এডামস। তার পাশে কোরআনের কপি হাতে কংগ্রেসওম্যান, স্টেট এ্যাসেম্বলীওম্যান এবং ডিস্ট্রিক্ট এটর্নী।

হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান-জুইশ আর মুসলমানের মধ্যেকার সম্প্রীতির বন্ধনের অনন্য এক নজির স্থাপন করে ১৮ মার্চ শনিবার নিউইয়র্কে উদ্বোধন হলো ‘মসজিদ আবু হুরাইরা’র। আড়াই মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে মোঘল আমলের স্থাপত্য-আলোকে দৃষ্টি নন্দন এই মসজিদের চারতলা ভবণের নির্মাণ ঠিকাদার ছিলেন গৌরাঙ্গ কুন্ডু।

তিনিও শুভেচ্ছা বক্তব্যে মসজিদ নির্মাণের মত মহৎ একটি ভবনের কাজ পেয়ে সৃষ্টিকর্তার শোকরিয়া আদায় করলেন। খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বী নিউইয়র্ক সিটির মেয়র এরিক এডামস মাথায় টুপি পড়ে বক্তব্যের সময় বললেন, চারশত বছরের পুরনো এই সিটির সম্ভবত: আমিই প্রথম মেয়র যিনি টুপি পড়ে একটি মসজিদের উদ্বোধন করলাম। এটাই হচ্ছে আমেরিকার বৈশিষ্ট, এটাই হচ্ছে নিউইয়র্ক সিটির মাহাত্ম। মুসলিম রমনীদের ব্যবহৃত স্কার্প পড়ে বক্তব্য দিলেন কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং, স্টেট এ্যাসেম্বলীওম্যান জেনিফার রাজকুমার এবং কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট এটর্নী মেলিন্ডা ক্যাটজ। বক্তব্যের পর সকলকে পবিত্র কোরআনের একটি করে কপি প্রদান করেন এই মসজিদ কমিটির বোর্ড অব ট্রাস্টি এটর্নী মঈন চৌধুরী। শতশত মুসলিম নারী-পুরুষের বিপুল করতালির মধ্যে ধর্মীয় সম্প্রীতির অপূর্ব এক পরিবেশ তৈরী হয় জ্যাকসন হাইটস সংলগ্ন ইস্ট এলমহার্স্ট এলাকায়। শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজ নাজমুস সাকিব। উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক সিটির ৫ বরোতে বাংলাদেশিদের পরিচালিত শতাধিক মসজিদ রয়েছে ।

এর আগেও জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার, ব্রুকলীনে বাংলাদেশ মুসলিম সেন্টার, ওজোনপার্কে আল আমান মসজিদ, এস্টোরিয়ায় শাহজালাল মসজিদ, ব্রঙ্কসে প্যাটারসন এবং বায়তুল আমান ইসলামিক সেন্টার নির্মিত হয়েছে। তবে কোনটিতে বহুধর্মের নেতৃবৃন্দ মুসলমানদের পোশাক পড়ে কিংবা পবিত্র কোরআনের কপি হাতে নিয়ে বক্তব্য দেননি বা তেমন আয়োজনও ছিল না। কুইন্স ডেমক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার এটর্নী মঈন চৌধুরীর সার্বিক সমন্বয়ে এমন অভ’তপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হওয়ায় গোটা কম্যুনিটি উৎফুল্ল। সিটি মেয়র এরিক এডামস তার বক্তব্যে আরো উল্লেখ করেছেন, এই প্রথম সিটির পাবলিক স্কুলসমূহে হালাল খাদ্য পরিবেশনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। কংগ্রেসওম্যান গ্রেস মেং বলেছেন, কুইন্স বরোকে সারাবিশ্বের প্রতিচ্ছবি ভাবা হয়, কারণ, সবচেয়ে বেশী ধর্ম-বর্ণ-গোত্র-ভাষা-জাতি-গোষ্ঠির মানুষ এখানে বাস করছেন। তেমনি একটি চমৎকার পরিবেশে বাংলাদেশী মুসলমানেরা বিশেষ একটি স্থান দখল করে নিয়েছেন। এমন একটি কম্যুনিটির প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমিও গৌরবান্বিত বোধ করি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো ছিলেন মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. রউফ, সেক্রেটারি নবী হোসেন, বোর্ড অব ট্রাস্টির মেম্বার তজম্মল আলী এবং মোহাম্মদ ভূইয়া।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার