Advertisement Placeholder

সিলিকন ভ্যালি ব্যাংকের মত পতনের ঝুঁকিতে আরো ১৮৬ ব্যাংক

লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র   |   সোমবার, ২০ মার্চ ২০২৩   |   প্রিন্ট   |   ৫৯ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

সিলিকন ভ্যালি ব্যাংকের মত পতনের ঝুঁকিতে আরো ১৮৬ ব্যাংক

সিলিকন ভ্যালি ব্যাংকের মত পতনের ঝুঁকিতে রয়েছে আরো ১৮৬ ব্যাংক। সামাজিক বিজ্ঞান গবেষণা নেটওয়ার্ক’র অর্থনীতিবিদরা এমন আশংকা ব্যক্ত করার পর ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তারা সুদের হার আরেক দফা বাড়ানোর কথা ভাবছেন। রবিবার এ নিয়ে ফেডারেল রিজার্ভের সাথে নীতি-নির্ধারকরা অনির্দ্ধারিত এক বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন বলে গণমাধ্যমে সংবাদ এসেছে। অর্থনীতিবিদদের ধারণা, পতনের ঝুঁকি ত্বরান্বিত হতে পারে সুদের হার বাড়ালেই। কারণ, তার ফলে সরকারী বন্ড এবং মর্টগেজ-বন্দকীর নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সম্পদের মূল্য কমে যাবে। এতে আমানতকারিদের পক্ষে স্বাভাবিক লেন-দেন চালিয়ে নেয়া কষ্টকর হয়ে পড়তে পারে। এসব কারণেই সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক সংকটে পড়ে দেউলিয়া ঘোষণায় বাধ্য হয়েছে।

সামাজিক বিজ্ঞাণ গবেষণা নেটওয়ার্কের অর্থনীতিবিদদের মতে ব্যাংকের সম্পদের দাম একেবারে তলানিতে যাওয়ার ফলেই বীমাহীন আমানতকারিরা গচ্ছিত অর্থ দ্রুত সরিয়ে ফেলেন এবং ব্যাংকিং সিস্টেমকে লন্ডভন্ড করেছে। উপরোক্ত ১৮৬টি ব্যাংক তেমন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে-যা ঠেকাতে সঠিক একটি নীতিমালার বিকল্প নেই। অর্থাৎ এসব ব্যাংকের পতন ঠেকাতে বেল আউটের মত প্রক্রিয়া অবলম্বন তথা ফেডারেল সরকারের হস্তক্ষেপ জরুরী হয়ে পড়েছে। অর্থনীতি নিয়ে গবেষণারতরা বলেছেন, কোন ব্যাংকের আমানতকারিরা যদি খুব দ্রুত তাদের জমানো অর্ধেক অর্থ উইথড্র করেন, তাহলেই সংশ্লিষ্ট ব্যাংক পতনের ঝুঁকিতে পড়ে।

রবিবার প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকিং জায়েন্ট ইউবিএস বিশ্বব্যাপী ব্যাংকিং ব্যবস্থায় টালমাটাল অবস্থার অবসানের অভিপ্রায়ে নীতি-নির্দ্ধারকদের সমন্বয়ে একটি চুক্তির আওতায় প্রায় ৩.২৫ বিলিয়ন ডলারে কঠিন সংকটে পতিত ‘ক্রেডিট সুইস ব্যাংক’ কিনে নিচ্ছে। এটি ছিল ইউবিএসের অন্যতম প্রতিদ্ব›দ্বী একটি ব্যাংক। ফেডারেল রিজার্ভ এবং আরো ৫টি কেন্দ্রীয় ব্যাংক সোমবার থেকে শুরু হওয়া তাদের ডলারের ‘অদলবদল’ ব্যবস্থায় তারল্য বাড়ানোর জন্যে সমন্বিত পদক্ষেপের ঘোষণা দিল ১৯ মার্চ রোববার। ফেডারেল ব্যাংক অব কানাডা, ব্যাংক অব ইংল্যান্ড, ব্যাংক অব জাপান, ইউরোপিয়ান সেন্ট্রাল ব্যাংক এবং সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের সাথে এই পন্থা অবলম্বন করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ারপার্সন জেরমি পাওয়েল বুধবার সুদের হার বৃদ্ধির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানাতে পারেন।

গত বছরের ৮ বার সুদের হার বৃদ্ধির মত আরেক দফা পদক্ষেপ নেবেন কিনা সে সিদ্ধান্ত দেবেন। জেরমি পাওয়েল ইতিমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, প্রত্যাশিত ত্রৈমাসিক শতাংশের চেয়ে বেশী হার বাড়াতে পারেন কারণ মুদ্রাস্ফীতি প্রত্যাশা অনুৃযায়ী হ্রাস পাচ্ছে না। অপরদিকে শ্রমবাজার শক্তিশালী রয়ে গেছে। সে ধারনা পোষণ করেছিলেন সিলিকন ভ্যালি এবং সিগন্যাচার ব্যাংক পতনের আগে।

গত সপ্তাহে ক্যালিফোর্নিয়ার ফার্স্ট রিপাবলিকান ব্যাংক যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের ১১টি ব্যাংক থেকে ৩০ বিলিয়ন ডলারের জরুরী ঋণ নিয়েছে এবং এটি করা হয়েছে বাইডেন প্রশাসনের মধ্যস্থতায়। ফার্স্ট রিপাবলিকান ব্যাংক কর্তপক্ষ দাবি করেছে যে, ঘনঘন সুদের হার বৃদ্ধি করায় ব্যাংকের সম্পদের মূল্য কমেছে। আমানতকারিরা ভীতির মধ্যে পতিত হয়ে একাউন্ট থেকে অর্থ সরিয়ে নেয়ায় ব্যাংক পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে। এদিকে, বাইডেনের অর্থমন্ত্রী জ্যানেট ইয়েলেন বারবার দাবি করছেন যে, ব্যাংকিং সেক্টর নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণ নেই। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন বলে অর্থনীতিবিদরা মন্তব্য করেছেন। এরফলে ছোট ও মাঝারি ধরনের সকল ব্যাংক থেকে গ্রাহকেরা আমানত উঠিয়ে নিচ্ছেন।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার