রবিবার ১৯শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৫ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের হুমকি : সিদ্ধান্তহীনতায় ম্যানহাটানের গ্র্যান্ডজুরিরা

লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র   |   মঙ্গলবার, ২৮ মার্চ ২০২৩ | প্রিন্ট  

ট্রাম্পের হুমকি : সিদ্ধান্তহীনতায় ম্যানহাটানের গ্র্যান্ডজুরিরা

অভিযোগ গঠন করলে ক্যাপিটল হিলে ৬ জানুয়ারির মত হিংসাত্মক পরিস্থিতির হুমকি দেয়ার পর ম্যানহাটান ডিস্ট্রিক্ট এটর্নীকেও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক প্রাণ নাশের হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে সারা আমেরিকায় ভীতির পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এমনি অবস্থায়ী ২৭ মার্চ ম্যানহাটানের গ্র্যান্ড জুরিরা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের সিদ্ধান্তের প্রশ্নে কোন ভোট গ্রহণ ছাড়াই আদালত মূলতবী ঘোষণা করেছেন। উল্লেখ্য, পর্ণতারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলস (স্টিফ্যানি ক্লিফোর্ড) এর সাথে ট্রাম্পের অবৈধ যৌণ সম্পর্ক ছিল-এ তথ্য ফাঁসের হুমকি দিলে ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় ট্রাম্প তার আইনজীবী মাইকেল কহেনের মাধ্যমে স্টর্মিকে নগদ এক লাখ ৩০ হাজার ডলার প্রদান করেন। এ অর্থ দেয়া হয় স্টর্মিকে চুপ রাখার জন্যে। তবে বিষয়টি চাপা থাকেনি। ২০১৯ সালে অর্থাৎ ট্রাম্পের দায়িত্ব পালনের শেষ সময়ে অনৈতিক কাজের জন্যে ম্যানহাটান ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি সাইরাস আর ভ্যান্স জুনিয়র তদন্ত শুরু করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। তদন্তে উদঘাটিত হয় যে, ভূয়া ব্যবসার আইনগত সহযোগিতার জন্যে উপরোক্ত এক লাখ ৩০ হাজার ডলার অ্যাটর্নি কহেনকে প্রদান করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এ অর্থ দেয়া হয় নির্বাচনী তহবিল থেকে-যা আরেকটি বড় ধরনের অপরাধের সামিল। তদন্তে দেখা যায়, কয়েক কিস্তিতে এই অর্থ পরিশোধ করা হয়েছে কহেনকে। যে ব্যবসার আইনগত পরামর্শের কথা বলা হয় সেটি নিয়েও বিচার অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং গত বছর ট্রাম্পের কথিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ট্যাক্স ফাঁকির তথ্য ধরা পড়ে। ফলে ম্যানহাটান ক্রিমিনাল কোর্টে ট্রাম্পের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ১.৬ মিলিয়ন ডলারের জরিমানা হয়।

নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটান ক্রিমিনাল কোর্টে চলমান ঐ মামলায় এখন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন-সম্পর্কের ঘটনা গোপন রাখতে নগদ অর্থ ঘুষ প্রদানের মামলায় অভিযোগ গঠিত হতে যাচ্ছে। এটি জেনেই সপ্তাহখানেক আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ট্রাম্প হুশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন যে, তার বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে কোন অভিযোগ গঠন এবং তাকে গ্রেফতার করা হলে ধ্বংসাত্মক কর্মকান্ড শুরু হবে। তিনি তার অনুসারীগণকে সজাগ থাকার আহবান জানান। এরপর ম্যানহাটানের বর্তমান ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি (ডেমক্র্যাট) অ্যালভিন ব্র্যাগকেও হুমকি দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, হুমকির পরিপূরক ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির অফিসে প্যাকেট ভর্তি পাউডার পাঠানো হয়েছে। উল্লেখ্য, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এ ধরনের অনৈতিক এবং গুরুতর অপরাধের অভিযোগ গঠিত হলে খুব দ্রুতই তাকে সাজা দেয়া হবে। অর্থাৎ তিনি পুনরায় প্রার্থীতায় অযোগ্য বিবেচিত হবেন। এজন্যেই ট্রাম্পের মতিভ্রম ঘটেছে এবং চলমান মামলাকে তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপরায়নতা থেকে ড্রেমক্র্যাটরা করছেন বলে সভা-সমাবেশে মন্তব্য করেছেন সাবেক এই প্রেসিডেন্ট। এমনি অবস্থায় সারা আমেরিকায় এক ধরনের আতংক তৈরী হয়েছে। সম্ভবত; তেমন আশংকা থেকেই গ্র্যান্ড জুরির সদস্যগণ সিদ্ধান্ত ছাড়াই আদালত মূলতবি ঘোষণা করেছেন বুধবার পর্যন্ত। তবে ওই অর্থ লেনদেনের মধ্যস্থতাকারী ন্যাশনাল ইনক্যুয়ারার পত্রিকার সাবেক প্রকাশক ডেভিড পেকার সোমবার আদালত ভবনে এসেছিলেন গ্র্যান্ডজুরিরা যখন তার অ্যাটর্নি এ্যালকান আব্রামোয়িটজের সাথে বৈঠক করছিলেন। গত জানুয়ারিতে ডেভিড পেকার গ্র্যান্ডজুরিদের কাছে সাক্ষী দিয়েছেন। পুলিশ প্রশাসন সম্ভাব্য যে কোন ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় সর্বাত্মক প্রস্তুত বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে, ম্যানহাটান ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নিকে হুমকি প্রদানের প্রতিবাদে ২৭ মার্চ অপরাহ্নে নিউইয়র্ক সিটির হারলেমে এক র‌্যালি হয়। সেখানে বিভিন্ন পর্যায়ের নির্বাচিত প্রতিনিধি ছাড়াও মানবাধিকার সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রেখেছেন। কংগ্রেসম্যান আদ্রিয়ানো ইসপেইলেট বলেন, আজ আমরা এখানে এটা বলতে যে, বিচার চলতে দিতে হবে। কারণ কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নই। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টও নন। এ র‌্যালিতে অপর বক্তারাও ট্রাম্পের গোয়ার্তুমি আচরণের নিন্দা এবং তার বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন। জনজীবনের শান্তি ও আইন শৃক্সখলা পরিস্থিতি ভেঙ্গে ফেলার হুমকি দেয়ার অপরাধেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা হতে পারে বলেও বক্তারা উল্লেখ করেন। নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের মেম্বার জুলি মেনিন এ সময় বলেন, ট্রাম্প যা করছেন তা প্রকৃত অর্থেই ম্যানহাটানের ডিস্ট্রিক্ট এটর্নী এবং তার পরিবারের প্রতি হুমকি। এজন্যই আমরা এখানে এসেছি এটি বলতে যে, এমন হুমকি সহ্য করার নয়। তাই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত রাখতে হবে এবং ন্যায়-বিচারের স্বার্থেই তা জরুরি।

উল্লেখ্য, গত শনিবার রিপাবলিকান শাসিত কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে জুডিশিয়ারি কমিটির চেয়ারম্যান জিম জর্দন (ওহাইয়ো), ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কমের (ক্যান্টাকি) এবং প্রশাসনিক কমিটির চেয়ারম্যান ব্রায়ান স্টিল (উইসকনসিন) যুক্ত স্বাক্ষরের এক পত্র পাঠিয়েছেন ম্যানহাটান ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ব্র্যাগ বরাবর। সেখানে তারা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তে কত ডলার ব্যয় করা হয়েছে এবং তার কতটা দায়িত্ব ট্রাম্পকে ফাঁসানোর জন্য তা সবিস্তানের ৩১ মার্চের মধ্যে জানতে চেয়েছেন ব্র্যাগের কাছে এবং গোপনে প্রতিনিধি পরিষদের সাক্ষ্য প্রদানের আহবানও জানিয়েছেন। আর এটি হচ্ছে ভলান্টারি একটি আহবান। কারণ রিপাবলিকান পার্টির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নিকে কোনো তলবি নোটিশ জারি করা হয়নি। তবে এমন পত্রে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন অ্যাটর্নি ব্র্যাগ। এক টুইট বার্তায় ম্যানহাটান ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি ব্য্রাগ উল্লেখ করেছেন, স্থানীয় একটি তদন্তে কংগ্রেসের হস্তক্ষেপের ব্যাপারটি একেবারেই প্রযোজ্য নয়।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১২:২৪ অপরাহ্ণ | মঙ্গলবার, ২৮ মার্চ ২০২৩

nypratidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর...

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  

Editor : Naem Nizam

Executive Editor : Lovlu Ansar