
বিশেষ সংবাদদাতা | শুক্রবার, ৩১ মার্চ ২০২৩ | প্রিন্ট | ৫৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

অবশেষে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠিত হলো। পর্ন তারকার সাথে যৌন সম্পর্কের ঘটনা ধামাচাপা দিতে নগদ এক লাখ ৩০ হাজার ডলার ঐ তারকাকে প্রদানের জন্যে নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটানস্থ ডিস্ট্রিক্ট এটর্নী আলভিন ব্র্যাগ দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর ৩০ মার্চ গ্র্যান্ড জুরিরা সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে গঠন করলেন। এর মধ্যদিয়ে ট্রাম্প হলেন প্রথম একজন সাবেক প্রেসিডেন্ট যার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগে চার্জশিট প্রদান করা হলো। উল্লেখ্য, গত কদিন থেকেই এমন আভাস পাওযা যাচ্ছিল। তার ভিত্তিতে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কঠোর হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তার বিরুদ্ধে চার্জশিটস সাবমিট হলে কিংবা তাকে গ্রেফতার করা হলে সারা আমেরিকায় ভয়ংকর পরিস্থিতির হুমকিও দেন এবং ম্যানহাটান ডিস্ট্রিক্ট এটর্নীকেও হুমকি প্রদান করা হয়। ট্রাম্পের আইনজীবী জো ট্যাকপিনা নিশ্চিত করেছেন ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের ব্যাপারে। ম্যানহাটান ডিস্ট্রিক্ট এটর্নীর অফিস ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্যাম্পেইন ফাইন্যান্স ল’ লংঘন এবং ব্যবসার ভুয়া তথ্য উপস্থাপনের ব্যাপারেও বিস্তারিত তদন্ত চালাচ্ছে। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে ট্রাম্পের প্রচারণার সময়ে পর্ন তারকা স্টর্মি ডেনিয়েল বলেছিলেন যে, ট্রাম্পের সাথে তার যৌণ সম্পর্ক রয়েছে। এমন কথা বলার পরই ট্রাম্প তার আইনজীবী মাইকেল কহেন-কে দিয়ে এক লাখ ৩০ হাজার ডলার প্রদান করেন ঐ পর্ন তারকাকে। তারপর সে আর মুখ খুলেনি। কিন্তু বিষয়টি বেশি দিন চাপা দেয়া সম্ভব হয়নি। ২০১৯ সালে পুনরায় তা বাজারে ছড়িয়ে পড়লে তদন্ত শুরু করা হয়। সেই তদন্তেরই চূড়ান্ত পর্যায়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে চার্জশিট প্রদানের ঘটনা ঘটলো। সামনের সপ্তাহে ট্রাম্প ফ্লোরিডা থেকে নিউইয়র্কে এসে আত্মসমর্পণ করতে পারেন বলে তার ঘনিষ্ঠ সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে শীর্ষস্থানীয় মার্কিন গণমাধ্যমে সংবাদ এসেছে। তবে ট্রাম্প যদি স্বেচ্ছায় নিজেকে পুুিলশের নিকট সমর্পণ না করেন তবে ফ্লোরিডা স্টেট গভর্ণরকে চিঠি দেয়া হবে ট্রাম্পকে সেখান থেকে বহিষ্কার করে ম্যানহাটান ডিস্ট্রিক্ট এটর্নীর নিকট পাঠিয়ে দেয়ার জন্য।
এদিকে, চার্জশিট প্রদানের পরই নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কারণ, ট্রাম্প বৃহস্পতিবারও দাবি করেছেন যে, তিনি কোন দোষ করেনি। সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং রাজনৈতিক টপ্রতিহিংসাপরায়নতার ভিকটিম হয়েছেন। ফ্লোরিডার নিজ বাসভবন ‘মার-এ-লাগো’তে অবস্থানকালে দীর্ঘ এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন, ‘ডেমক্র্যাটরা মিথ্যা বলছে, প্রতারণা করছে, এবং চুরি করেছে ট্রাম্পকে ধরাশায়ী করার অভিপ্রায়ে। তবে এখন তারা অকল্পনীয় আচরণে লিপ্ত হয়েছে, নির্দোষ একজন মানুষকে (ট্রাম্প) নির্লজ্জভাবে অপবাদ দিচ্ছে শুধুমাত্র সামনের নির্বাচনের বৈতরনী পাড়ি দেয়ার মতলবে।’ উল্লেখ্য, সামনের বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প পুনরায় প্রার্থীতার ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন, ‘আমাদের জাতির ইতিহাসে এর আগে কখনো এমনটি ঘটেনি। ডেমক্র্যাটরা কয়েক দশক ধরে অসংখ্যবার প্রতারণা করেছে, আমার নির্বাচনী প্রচারণায় তারা গুপ্তচরবৃত্তি করেছে। এখন তারা একজন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে শাস্তি দেয়ার জন্যে বিচার বিভাগকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এবং তা করা হচ্ছে সাবেক একজন প্রেসিডেন্ট ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির সেরা একজন প্রার্র্থীর বিরুদ্ধে।’
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী মঙ্গলবার নিউইয়র্কে আত্মসমর্পণ করতে পারেন ট্রাম্প। এজন্যে তার আইনজীবীরা প্রস্তুতি শুরু করেছেন। একইসাথে সিটির নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হয়েছে বলে সিটি মেয়রের মুখপাত্র ফেবিয়ান লেভি বৃহস্প্রতিবার রাতে জানান। নিউইয়র্ক পুলিশ অফিসারেরা সচরাচর ইউনিফর্ম পরেন না। তবে ট্রাম্প-পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে শুক্রবার থেকে সকলেই ইউনিফর্ম পরবেন এবং যে কোন ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্যে প্রস্তুতি থাকবে বলেও জানান ফেবিয়ান। যদিও এখন পর্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য কোন হুমকি পাওয়া যায়নি, তবে ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলের তান্ডবের কথা মনে করে সবকিছু সাজানো হচ্ছে। সিটি প্রশাসন নিউইয়র্কের অধিবাসীগনের নিরাপত্তা সুরক্ষায় বদ্ধপরিকর বলে জানান মেয়রের এই মুখপাত্র।



