
নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৩ | প্রিন্ট | ৮১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

রাশিয়ার ভাড়াটে বাহিনী ওয়াগনার গোষ্ঠীর প্রধান জানিয়েছেন, তার সেনারা ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় শহর বাখমুতের সিটি হলে রাশিয়া পতাকা উড়িয়েছেন। রবিবার রাতে টেলিগ্রামে পোস্ট করা এক ভিডিওতে ওয়াগনার প্রধান ইয়েভগেনি প্রিগোজিন বলেছেন, “আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে বাখমুতের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছে। শত্রুরা শহরের পশ্চিম অংশে জড়ো হচ্ছে।”
ভিডিওতে প্রিগোজিন জানিয়েছেন, রবিবার সেইন্ট পিটার্সবার্গের এক ক্যাফেতে বোমা বিস্ফোরণে রাশিয়ার সামরিক ব্লগার ভ্লাদলিন তাতারস্কির মৃত্যুতে তার প্রতি সম্মান জানিয়ে বাখমুতে উড়ানো পতাকায় তার উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধাঞ্জলী লেখা হয়েছে।
বিবিসি জানিয়েছে, তারা টেলিগ্রামে পোস্ট করা প্রিগোজিনের ভিডিওর সত্যাসত্য যাচাই করতে পারেনি।
ভিডিওটিকে ‘লোক দেখানো’ অভিহিত করে প্রিগোজিনের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইউক্রেইন। তাদের সামরিক বাহিনী এখনও বাখমুতের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে বলে পাল্টা দাবি করেছে তারা।
ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল স্টাফ বলেছে, “শত্রুরা বাখমুতে হামলা বন্ধ করেনি। ইউক্রেইনের প্রতিরোধকারীরা শত্রুদের বহু হামলা প্রতিরোধ করে সাহসের সঙ্গে শহরটির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে।”
এই শহরটির দখল নেওয়ার জন্য রাশিয়া কয়েক মাস ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
মার্কিন গবেষণা গোষ্ঠী ‘ইনস্টিটিউ ফর দ্য স্টাডি অফ ওয়ার’ এর বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, রাশিয়ার সেনারা দক্ষিণ ও পূর্ব দিক থেকে শহরটিকে ঘিরে ফেলার উদ্যোগ নিলেও রবিবার পর্যন্ত শহরটির অনেক এলাকা ইউক্রেনীয়দের নিয়ন্ত্রণেই ছিল।
আইএসডব্লিউর ভাষ্য অনুযায়ী, সিটি কাউন্সিল ভবনটি শহরটির যে অংশে অবস্থিত সেটি সম্প্রতি পূর্ব দিক থেকে এগিয়ে আসা রুশ বাহিনী নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছিল।
আনুষ্ঠানিকভাবে বেসরকারি সামরিক কোম্পানি হিসেবে পরিচিত ওয়াগনারের যোদ্ধাদের পাশাপাশি রুশ সেনারাও বাখমুতে লড়াই করছে।
ইউক্রেইনের পূর্বাঞ্চলের ছোট্ট খনি শহর বাখমুত। কয়েক মাস ধরে রাশিয়া বাহিনীর আক্রমণের প্রধান নিশানা এই শহর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে ইউরোপের সবচেয়ে দীর্ঘ ও রক্তাক্ত লড়াইক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে শহরটি।
রাশিয়া বাহিনী কয়েক সপ্তাহ ধরে বাখমুতের ভেতরে রাস্তায় রাস্তায় তুমুল লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছে। একমাস আগে ইউক্রেইন বাহিনী শহরটি ছেড়ে যেতে পারে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছিল।
কিন্তু পরে ইউক্রেইনের সেনারা সেখানে থেকে যাওয়া এবং লড়াই করে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তারা প্রায় প্রায় ৫ মাস ধরে আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে থেকে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াইয়ে এ পর্যন্ত উভয়পক্ষের কয়েক হাজার সেনা নিহত হয়েছে যদিও বাখমুতের কৌশলগত গুরুত্ব কম। কিন্তু শহরটি রাশিয়ার হাতে গেলে তা তাদের সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম আরও সামনে নিয়ে আসার গুরুত্বপূর্ণ পথ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা কিয়েভের।
অপরদিকে রাশিয়ার কমান্ডারদের ধারণা, বাখমুত নিয়ন্ত্রণে নিতে নিতে পারলে এর মাধ্যমে আরও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি শহর এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সহজ হয়ে যাবে।



