
বিশেষ সংবাদদাতা | শুক্রবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৩ | প্রিন্ট | ৬৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

বহিষ্কারের ভোটাভুটির নিন্দা এবং প্রতিবাদে পার্লামেন্ট ভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। ছবি-সংগ্রহ।
গণতন্ত্রের সূতিকাগার হিসেবে দাবিদার মার্কিন মুল্লুকে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে জঙ্গি হামলার মতই আরেকটি স্বৈরাচারি আচরণের উদাহরণ তৈরী করলো টেনেসী স্টেট পার্লামেন্ট। পার্লামেন্টের দু’জন কৃষ্ণাঙ্গ সদস্যকে বহিষ্কার করা হলো বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আইন দাবিতে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করার অপরাধে। একই অপরাধে আরেকজন মেম্বারকে বহিষ্কারের চেষ্টা চালিয়েছিলেন ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির মেম্বাররা।
কিন্তু প্রয়োজনীয় ভোটের চেয়ে একটি ভোট কম পাওয়ায় সেটি ব্যর্থ হয়েছে। তিনি হচ্ছেন শ্বেতাঙ্গ। অর্থাৎ এ ক্ষেত্রেও বর্ণবিদ্বেষের আলামত দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ৬ এপ্রিল বৃহস্পতিবার টেনেসী স্টেট পার্লামেন্টে রিপাবলিকান পার্টির মেম্বারগণের এহেন মনোবৃত্তির নিন্দা জানিয়ে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের প্রেস সেক্রেটারি জিন-পিয়েরে বলেছেন, এমন আচরণের মধ্যে গণতন্ত্রের লেশমাত্র নেই, মানবিকতা দূরের কথা। প্রতিহিংসাপরায়নতার এমন নজির গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় না থাকাই শ্রেয়। টেনেসী তথা আমেরিকা জুড়ে আমাদের শিশুরা রিপাবলিকানদের তান্ডবে হতবাক। তাদের সন্তানেরাও বন্দুকধারির নির্বিচার গুলির ভিকটিম হচ্ছে, তবুও তারা নমনীয় হচ্ছেন না।
উল্লেখ্য, গত ২৭ মার্চ টেনেসী স্টেটের ন্যাশভিলে সিটিতে কভিন্যান্ট স্কুলে এক বন্দুকধারির নির্বিচার গুলিতে ৯ বছরের তিন শিশু শিক্ষার্থীসহ ৬ জনের প্রাণ ঝরে। এর তিনদিন পর অর্থাৎ ৩০ মার্চ এলাকার শিক্ষার্থীসহ আতংকিত অভিভাবকেরা টেনেসী পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে ও ভেতরে তুমুল বিক্ষোভ করেন। সেই বিক্ষোভে অংশ নেন ডেমক্র্যাটিক পার্টির উপরোক্ত ৩ সদস্য। উল্লেখ্য, টেনেসী পার্লামেন্টের উভয় কক্ষেই রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ। তাই সংখ্যালঘুরা ইচ্ছা করলেও তৃণমূলের মানুষের দাবির সাথে সংহতি প্রকাশ করার এখতিয়ার রাখেন না-যার নগ্ন উদাহরণ দু’জনকে বহিষ্কারের মধ্যদিয়ে দৃশ্যমান হলো। প্রথম দফায় ৭২-২৫ ভোটে বহিষ্কার করা হয় রিপ্রেজেনটেটিভ জাস্টিন জোন্স (২৭)কে। দ্বিতীয় দফায় ৬৯-২৬ ভোটে রিপ্রেজেনটেটিভ জাস্টিন পিয়ারসনকে বহিস্কারের ঘটনা ঘটলেও তৃতীয় দফায় রিপ্রেজেনটেটিভ গ্লোরিয়া জনসনকে হটাতে পারেননি।
বন্দুক নিয়ন্ত্রণ আইনের দাবিতে সারা আমেরিকা একাট্টা হলেও রিপাবলিকান আইন প্রণেতারা তা কর্ণপাত করছেন না। টেনেসী স্টেট পার্ল্যামেন্টের ঘটনায় সকলেই হতবাক এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতার দোহাই দিয়ে এমন কান্ড অন্য কোন স্টেটে যাতে না ঘটে সে জন্যে এক্ষুণি যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি উঠেছে সর্বত্র। অভিযোগ করা হচ্ছে যে, নির্বিচার গুলিবর্ষণের ঘটনায় শিশু শিক্ষার্থী থেকে সকল বয়েসী আমেরিকানরা যখন সন্ত্রস্ত, তেমন অবস্থায় রিপাবলিকানদের এই দম্ভ গুড়িয়ে দিতে হবে সামনের নির্বাচনে-এমন অভিমত পোষণ করা হচ্ছে শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমসমূহে। এবং সকলেই বহিষ্কৃত দুই রিপ্রেজেনটেটিভসকে অভিবাবদন জানিয়েছেন আপামর জনতার সাথে থাকার জন্যে।
বহিষ্কারের ভোটের আগে পার্লামেন্ট ফ্লোরে অপেক্ষমান সাংবাদিকদের জাস্টিন জোন্স বলেছিলেন, আমি স্বীকার করছি যে, এটি কেবল আমাকে বহিষ্কার করার জন্য নয়, এটি জনগণের প্রত্যাশাকেও অবজ্ঞা-উপেক্ষার সামিল। এখানকার জনপ্রতিনিধিরা ঠিক উল্টোটি করছেন। স্টেটে কী ঘটছে, নাগরিকেরা কী বলছেন-তা নিয়ে ওদের (রিপাবলিকান) ন্যূনতম মাথাব্যথা নেই। জনসনকে বহিষ্কারের জন্যে কেন পর্যাপ্ত ভোট পাওয়া যায়নি-এমন প্রশ্নে জনসন বলেন, এটি আমার ত্বকের কারণে। কারণ আমি হোয়াইট। যারা বহিষ্কৃত হলেন তাদের একজন জোন্স কৃষ্ণাঙ্গ এবং ফিলিপিনো বংশোদ্ভূ’ত, অপরজন পিয়ারসনও কৃষ্ণাঙ্গ। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত শুন্য আসন দুটি পূরণ করবেন কাউন্টি এবং সিটি কর্মকর্তারা। অর্থাৎ সেই দুটি আসনেও অধিষ্ঠিত হবেন রিপাবলিকানরাই। আরো উল্লেখ্য, টেনেসি পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে এমন বহিষ্কারের ঘটনা আগে আরো তিনবার ঘটেছে। ১৮৬৬ সালে ৬ জনকে এই কক্ষের অবমাননার জন্যে, ১৯৮০ সালে একজনকে ঘুষ গ্রহণের দায়ে এবং ২০১৬ সালে আরেকজনকে বহিষ্কার করা হয় যৌনতার দায়ে।



