
লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র | বৃহস্পতিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৩ | প্রিন্ট | ১১৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

নিউইয়র্ক ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে হাজির হয়ে সাংবাদিক এবং পেশাদার লেখক ই জঁ ক্যারল বুধবার বলেছেন, আমি এখানে এসেছি, কারণ সাবেক প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প আমাকে ধর্ষণ করেছেন।
উল্লেখ্য, ধর্ষণের কারণে তিনি ট্রাম্পের কাছে মোটা অংকের ক্ষতিপূরণ দাবিসহ গুরুতর অপরাধের এই মামলা দায়ের করেছেন। আরো উল্লেখ্য, ট্রাম্প অনুপস্থিত ছিলেন আদালতে। তবে এটি জেনে ট্রাম্প তার ট্রুথ সোস্যাল ওয়েবসাইটে বলেছেন, ‘এটি একটি প্রতারণামূলক মামলা।’ ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ ল্যুইস ক্যাপলেন তাৎক্ষণিকভাবে ট্রাম্পের আইনজীবীগণকে সতর্ক করেছেন, কারণ, এ ধরনের পোস্ট দিয়ে ট্রাম্প আদালত অবমাননার ঝুঁকি নিচ্ছেন।
জিন ক্যারল তার জবানবন্দিতে মাননীয় আদালতকে জানিয়েছেন যে, ১৯৯৬ সালে নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটানে বার্গডরফ গুডম্যান ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে ট্রাম্প তাকে আক্রমণ করেছিলেন। সে সময় তিনি তা নিয়ে উচ্চবাচ্য করার সাহস পাননি। ভয় ছিল যে, ট্রাম্প তাকে জনসমক্ষে হেয়প্রতিপন্ন করতে পারেন। ২৩ বছর পর ২০১৯ সালে এই ধর্ষণের কথা বলার পর ট্রাম্প তার ওপর চড়াও হয়েছিলেন। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে ক্যারল স্বীকার করেছেন যে, ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে ট্রাম্পের আহবানে তিনি সাড়া দিয়ে একটি ড্রেসিং রুমে গিয়েছিলেন। কিন্তু মুহূর্তেই ট্রাম্পের ভদ্রোচিত কথাবার্তা এবং আচরণ কুৎসিৎ রুপ নেয়। বাধা দেয়া সত্ত্বেও ট্রাম্প তাকে ধর্ষণ করেন। ক্যারল উল্লেখ করেন, এই জঘন্য বর্বরতা সম্পর্কে আমি যখন লিখেছি, তখন ট্রাম্প দাবি করেন যে এমনটি ঘটেনি। সে মিথ্যা বলেছে, আমার সুনাম ধুলিসাত করেছে। এখন আমি মাননীয় আদালতে এসেছি ন্যায় বিচার দাবিতে এবং আমার জীবন ফিরে পাবার চেষ্টায় আছি।
ক্যারল আদালতে জবানবন্দি প্রদানের আগে অপর এক পোস্টিংয়ে ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন যে, মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। ট্রাম্প লিখেছেন যে, বিবরণ অনুযায়ী ধর্ষণের সময় সে (ক্যারল) চিৎকার করেনি। কেউ তা দেখেনি। কোনো সাক্ষীও পাওয়া যাবে না। সে কখনো পুলিশে অভিযোগও করেনি।
ক্যারলের অ্যাটর্নি ট্রাম্পের পোস্টগুলো বিচারকের সামনে উপস্থাপন করেছিলেন। এরপরই মাননীয় জজ ট্রাম্পের অ্যাটর্নিকে সেই সতর্কতা-বার্তা প্রদান করেছেন। মামলার সাথে সম্পর্কহীন কথাবার্তায় ট্রাম্প তার সমর্থকদের উষ্কে দেয়ার মতলব করেছেন এবং বিচারকগণকেও বিরক্ত করার পাঁয়তারা চালাচ্ছেন বলে অভিমত পোষণ করেছেন জজ ক্যাপলেন।



