Advertisement Placeholder

পরমাণু অস্ত্র বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া নতুন চুক্তি

বিশ্ব ডেস্ক   |   বৃহস্পতিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৩   |   প্রিন্ট   |   ৫৫ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

পরমাণু অস্ত্র বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া নতুন চুক্তি

জো বাইডেন ও ইয়ুন সুক-ইয়ল

উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে দিন দিন বাড়তে থাকা পরমাণু হুমকি মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া নতুন একটি মাইলফলক চুক্তিতে উপনীত হয়েছে। বিবিসি জানায়, নতুন চুক্তির অধীনে ওয়াশিংটন পর্যায়ক্রমে দক্ষিণ কোরিয়ায় তাদের পরমাণু অস্ত্রসজ্জিত সাবমেরিন মোতায়েন করবে। এছাড়া, সিউলকে তারা নিজেদের পারমাণবিক পরিকল্পনা কার্যক্রমের অংশ করতেও সম্মত হয়েছে।

বিনিময়ে সিউল তাদের নিজস্ব পরমাণু অস্ত্রের উন্নয়ন কাজ থেকে বিরত থাকবে।

ওয়াশিংটনের এই ঘোষণা উত্তর কোরিয়ার আক্রমণ প্রতিরোধে মিত্রদের সহযোগিতা জোরদার করবে বলে মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

উত্তর কোরিয়া যেভাবে তাদের পরমাণু অস্ত্র উন্নয়নের কাজে অগ্রগতি অর্জন করেছে তা ওয়াশিংটন এবং সিউল উভয়ের জন্যই মাথাব্যাথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পিয়ংইয়ং তাদের কৌশগত পরমাণু অস্ত্র উন্নয়নের কাজে অনেকখানি অগ্রগতি অর্জন করেছে। যে অস্ত্র দিয়ে তারা দক্ষিণ কোরিয়ায় হামলা চালাতে সক্ষম হবে। যু্ক্তরাষ্ট্রের মূলভূখণ্ডে হামলা চালাতে সক্ষম দূরপাল্লার অস্ত্র পরিমার্জনের কাজেও এগিয়ে চলছে দেশটি।

মিত্র দেশ হিসেবে অতীতে হওয়া একটি চুক্তির অধীনে ‍যুক্তরাষ্ট্র আগেই যেকোনো হামলার বিরুদ্ধে দক্ষিণ কোরিয়াকে সুরক্ষা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এজন্য যদি প্রয়োজন পড়ে তবে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের প্রতিশ্রুতিও ওয়াশিংটন আগেই দিয়ে রেখেছে।

কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার কেউ কেউ সেই প্রতিশ্রুতিতে সন্দেহ প্রকাশ করতে শুরু করেছেন এবং দেশটিকে নিজস্ব পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সুরাক্ষা প্রতিশ্রুতি নিয়ে নিজের মধ্যে কোনো সন্দেহ নেই বলে জানিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইয়ুন সুক-ইয়ল। রাষ্ট্রীয় সফরে বর্তমানে তিনি যুক্তরাষ্ট্র রয়েছেন।

তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের ঘোষণা প্রতিরক্ষা বৃদ্ধি, আক্রমণ প্রতিরোধ এবং পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে মিত্রদের রক্ষা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি ‘অভূতপূর্ব’ প্রতিশ্রুতি হিসেবেই চিহ্নিত হবে।

দুই দেশের মধ্যে নতুন যে চুক্তিটি হয়েছে সেটি দীর্ঘ কয়েক মাসের আলোচনার ফসল বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রশাসনের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা।

নতুন চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের মিত্র দক্ষিণ কোরিয়াকে সুরক্ষার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা আরো দৃশ্যমান হবে। এ চু্ক্তির অধীনে ৪০ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মত যুক্তরাষ্ট্র তাদের একটি পরমাণু অস্ত্র সজ্জিত সাবমেরিন, সঙ্গে পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম বোমারু বিমান এবং অন্যান্য অস্ত্র দক্ষিণ কোরিয়ায় পাঠাবে।

পারমাণবিক পরিকল্পনার বিষয়ে আলোচনার জন্য উভয় পক্ষ একটি পারমাণবিক পরামর্শক দল গঠন করবে।

সিউলের রাজনীতিকরা দীর্ঘদিন ধরেই ওয়াশিংটনকে এ বিষয়ে চাপ দিয়ে আসছিল। তারা চাইছিল, কীভাবে এবং কখনে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করা হবে সেই পরিকল্পনায় ওয়াশিংটন সিউলকেও জড়িত করুক।

কারণ, প্রতিপক্ষ উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রাগারের আকার বৃদ্ধি ও পরিশালিত হচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষে তাই তাদের সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র কী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যাচ্ছে তা নিয়ে আর অন্ধকারে থাকা সম্ভব হচ্ছে না।

প্রয়োজনের সময় ওয়াশিংটন সিউলকে ত্যাগ করতে পারে এমন একটি ভয় দক্ষিণ কোরীয়দের মনে জড়ো হচ্ছিল এবং তার জেরে নিজস্ব পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করার আওয়াজ উঠছিল।

গত জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট ইয়ুন কয়েক দশকের মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজেদের সুরক্ষার বিষয়টি আলোচনার টেবিলে এনে ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকদের সতর্ক করেন।

এবং হঠাৎ করে যুক্তরাষ্ট্র কাছে এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে, শুধু মুখের কথায় বা অঙ্গভঙ্গি দিয়ে আশ্বস্ত করার দিন ফুরিয়েছে। যদি তারা দক্ষিণ কোরিয়াকে নিজস্ব পরমাণু অস্ত্র তৈরি করা থেকে বিরত রাখতে চায় তবে তাদের সামনে নির্দিষ্ট করে কিছু প্রস্তাব রাখতে হবে।

তার উপর প্রেসিডেন্ট ইয়ুন স্পষ্ট করে জানিয়েছিলেন, তিনি এ বিষয়ে ‘বাস্তব’ অগ্রগতির খবর নিয়েই দেশে ফেরার প্রত্যাশা করছেন।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার