রবিবার ২৬শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

হোয়াইট হাউসে ঈদ-উৎসব : মুসলিম আমেরিকানদের একত্রিত হবার পথ সুগম করলো

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শুক্রবার, ০৫ মে ২০২৩ | প্রিন্ট  

হোয়াইট হাউসে ঈদ-উৎসব : মুসলিম আমেরিকানদের একত্রিত হবার পথ সুগম করলো

সিনেটর শেখ রহমানকে পাশে নিয়ে প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সেলফি। ছবি-বাংলাদেশ প্রতিদিন।

ঈদ উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমন্ত্রণে গত সোমবার ১ মে হোয়াইট হাউসে মুসলিম আমেরিকানদের মিলনমেলা বসেছিল। কংগ্রেস, স্টেট পার্লামেন্ট, সিটি কাউন্সিল থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে নির্বাচিত মুসলিম আমেরিকান ছাড়াও ছিলেন মুসলিম রাষ্ট্রসমূহের রাষ্ট্রদূতসহ শীর্ষ স্থানীয় কর্মকর্তারা। জর্জিয়া স্টেট সিনেটর শেখ রহমান এবং কানেকটিকাট স্টেট সিনেটর মো.মাসুদুর রহমান ঈদ-উৎসবের পর বাংলাদেশ প্রতিদিনের কাছে অনুভূতি প্রকাশে বলেন, আমরা অত্যন্ত খুশী যে, মুসলিম বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে মেলামেশার সুযোগ পেলাম। ঈদ আনন্দে সকলেই ছিলেন উদ্ভাসিত। প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে এজন্যে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এভাবেই নিজেদের মধ্যেকার সম্প্রীতির বন্ধন জোরালো হবে।

মার্কিন রাজনীতি ও প্রশাসনে আরো বেশী মুসলমানের সম্পৃক্ততা ঘটবে বলে আশা করছি। সিনেটর শেখ রহমান বলেন, এটি প্রথম ঈদ উদযাপন নয়। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প এসে এটি বন্ধ করেছিলেন। ২০১৭ সালে ডেমক্র্যাটিক পার্টির জাতীয় কমিটিতে একমাত্র মুসলিম সদস্য হিসেবে এই ডিসিতে আমার উদ্যোগে ঈদ-পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আমরা থেমে থাকিনি। এরপর জো বাইডেন হোয়াইট হাউসে ফিরলে আমি তাকে অনুরোধ করেছিলাম পুনরায় তা চালু করা করতে। তিনি অঙ্গিকার করেছিলেন এবং তারই অংশ এই ঈদ-উৎসব। সিনেটর মাসুদুর রহমান বলেন, আমরা সবসময় আশা করি সর্বস্তরে মুসলিম আমেরিকানদের প্রতিনিধিত্ব ঘটুক। এধরনের অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে সে পথ সুগম হয় বলে মনে করছি। সিনেটর মাসুদ উল্লেখ করেন, মুসলিম কম্যুনিটিকে জোরালোভাবে ঐক্যবদ্ধ করতে এ অনুষ্ঠানের গুরুত্ব অপরিসীম। সুযোগ হলো ৫৬টি মুসলিম রাষ্ট্রের বিশিষ্ট নাগরিকগণের কাছাকাছি আসার। সকল কূটনীতিকরাও আমন্ত্রিত ছিলেন। এটি সমগ্র মুসলিম বিশ্বকে একত্রিত করার সামিল ছিল। সিনেটর শেখ রহমান বলেন, সুন্দর একটি বাড়ি এবং দামী একটি গাড়ি ক্রয় করেই যেন মুসলিম আমেরিকানরা সন্তুষ্ট না থাকেন। যারা সিটিজেনশিপ নিয়েছেন তাদের পবিত্র দায়িত্ব হচ্ছে ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়ে ব্যালট যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়া। সকলকে মার্কিন ধারায় অংশ নিতে হবে। নীতি-নির্ধারণের বাইরে থাকার মানসিকতা পরিহার করতে হবে। কারণ, এদেশটি সকলের এবং নিজ নিজ ন্যায্য হিস্যার জন্যেই রাজনীতি ও প্রশাসনে সম্পৃক্ততার বিকল্প নেই। সিনেটর মাসুদ উল্লেখ করেন, নিরব থাকলে চলবে না। সরব হতে হবে, কাজ করতে হবে। তাহলেই আমরা নিজের প্রত্যাশার পরিপূরক ভূমিকায় সক্ষম হবো। তাই সকলের প্রতি উদাত্ত আহবান রাখছি ঘর থেকে বের হউন। জড়িত হোন সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায়। তাহলেই আমেরিকান স্বপ্ন পূরণের পথে অনেক বাধা দূর হয়ে যাবে।
প্রেসিডেন্ট বাইডেন সকলকে হোয়াইট হাউজে স্বাগত জানান ঈদ মুবারক বলে। বাইডেন বলেন, এটি হচ্ছে জনগণের ভবন। এটাই সত্য। এটা আপনাদের ভবন। আপনার ভবন। বাইডেন বলেন, শিক্ষক, ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার, বিজ্ঞানী, এটর্নী, ব্যবসায়ী, কংগ্রেসওম্যান, কংগ্রেসম্যান, স্টেট সিনেটর, স্টেট রিপ্রেজেনটেটিভ, সিটি মেয়র, সিটি কাউন্সিলম্যান থেকে সর্বস্তরে রয়েছেন মুসলিম আমেরিকানরা। আমার প্রশাসনেও রয়েছেন অনেকে। মার্কিন সেনাবাহিনীতেও আপনারা সাহসী ভূমিকা পালন করছেন। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীতেও মুসলমানদের অবদান অনস্বীকার্য। বিদেশী মিশনেও রয়েছেন অনেকে। ইতিমধ্যেই আমি একজন ফেডারেল জজ নিয়োগ করেছি। হোয়াইট হাউসে পাবলিক এ্যাঙ্গেমেন্ট অফিসে মুসলিম লিঁয়াজো অফিসারের পদ ক্রিয়েট করে ইতিমধ্যেই একজনকে নিয়োগ করেছি। বাইডেন বিপুল করতালির মধ্যে উল্লেখ করেন, হোয়াইট হাউসে অন্য সকল কর্মকর্তা-কর্মচারিগণের সাথে মুসলিম আমেরিকানরাও নিরলসভাবে কাজ করছেন। আমি অভিভূত তাদের কর্মনিষ্ঠা দেখে।

Facebook Comments Box
advertisement

Posted ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ | শুক্রবার, ০৫ মে ২০২৩

nypratidin.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

এ বিভাগের আরও খবর...

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  

Editor : Naem Nizam

Executive Editor : Lovlu Ansar