Advertisement Placeholder

নিউইয়র্কে বিএনপি নেতা মোশারফ হোসেন : গায়ের জোরে ক্ষমতায় থেকে অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছে আওয়ামী লীগ

প্রতিদিন ডেস্ক   |   মঙ্গলবার, ০৯ মে ২০২৩   |   প্রিন্ট   |   ১৬৮ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

নিউইয়র্কে বিএনপি নেতা মোশারফ হোসেন : গায়ের জোরে ক্ষমতায় থেকে অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছে আওয়ামী লীগ

কেয়ারটেকার সরকার প্রতিষ্ঠায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অকুন্ঠ সমর্থন আদায়ে নিরলসভাবে কাজের অঙ্গিকার করলেন যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতা-কর্মীরা। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে সম্প্রতি অন্তর্ভুক্ত গিয়াস আহমেদের গণসম্বর্ধনা-সমাবেশে সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা ঘোষণা দিলেন বাংলাদেশকে কর্তৃত্ববাদী সরকারের কবল থেকে মুক্ত করতে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনের বিকল্প নেই। এজন্য সকলেই কংগ্রেসে লবিংয়ের জন্যে সংঘবদ্ধ ভূমিকায় অবতীর্ণ হওবার কথাও বললেন।

৮ মে সোমবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির জ্যাকসন হাইটস সংলগ্ন গুলশান টেরেসের মিলনায়তনে এ সমাবেশে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সাবেক মন্ত্রী বিএনপি স্থায়ী কমিটির প্রবীণতম সদস্য ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র বিপন্ন, জনগণের মৌলিক অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি চলছে, উন্নয়নের নামে হরিলুটের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশেও তারা একই কাণ্ড করেছিল। সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির নামে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটতরাজ করায় ৭৪ সালে বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষ তৈরী হয়েছিল।

ড. মোশারফ উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক জরিপে দেখা গেছে বাংলাদেশে অর্থনৈতিক বৈষম্য সবচেয়ে বেশী। ধনী আরো ধনী হয়েছে এবং গরিবেরা আরো গরিব হয়েছে। এই ধনীক শ্রেণী হচ্ছে আওয়ামী লীগের সিন্ডিকেট। তিনি আরো অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের ব্যবসায়ীরা হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। কানাডা, আমেরিকা এবং মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম করেছে এগুলো এখন কারো অজানা নেই। খন্দকার মোশারফ উল্লেখ করেন, যে দল যখনই ক্ষমতায় আসে তখোনই গণতন্ত্র হত্যা করে। সেই দল আওয়ামী লীগের কাছে কেউই গণতন্ত্র আশা করতে পারে না। খন্দকার মোশারফ বলেন, গাঁয়ের জোড়ে ক্ষমতায় থেকে তারা অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছে। কখনোই তারা পারবে না অর্থনীতিকে মেরামত করতে। বিচার ব্যবস্থাকে দলীয়করণ করে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বিএনপির এই নেতা। মানুষ সুাবিচার পায় না। যা বিচার হয় তা সরকারের পক্ষ থেকে দিক-নির্দেশনার ভিত্তিতে। এসব কারণে বাংলাদেশের মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে।

এ ধরনের অপকর্মের প্রতিবাদ দূরের কথা নিন্দা জানালেও সরকারের বিশেষ মহলের রোষানলে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন খন্দকার মোশারফ। বিএনপি নেতা জয়নাল আবদিন ফারুক সকলকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে গিয়াস আহমেদ, জিল্লুর রহমান এবং মিল্টন ভূইয়ার দায়িত্ব হচ্ছে শেখ হাসিনার পদত্যাগের আন্দোলনকে প্রবাসে সুসংগঠিত করা। তাহলে বাংলাদেশের নেতা-কর্মীরা আরো উজ্জীবিত হবেন কেয়ারটেকার সরকারের দাবি আদায়ের আন্দোলনে।

‘আমরা ঢাকাবাসী’ নামক একটি সংগঠনের ব্যানারে এ সম্বর্ধনা সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাসেত রহমান এবং সঞ্চালনায় ছিলেন সোহরাব হোসেন। ঢাকা থেকে ভার্চুয়ালে আরো বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা মীর্জা আব্বাস, খায়রোল কবীর খোকন প্রমুখ। শুরুতে বিএনপি, জাসাস, যুবদল, ছাত্রদল ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয় গিয়াস আহমেদকে। অনুষ্ঠান-মঞ্চে উপবেশন এবং বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা হেলাল খান, বেবী নাজনীন, আব্দুল লতিফ সম্রাট, জিল্লুর রহমান, মিল্টন ভূইয়া, মোস্তফা কামাল পাশা বাবুল প্রমুখ। বক্তারা বলেন, এরশাদবিরোধী আন্দোলন, ১/১১ পরবর্তী সময়ের তুমুল আন্দোলনের মত এখনও সোচ্চার হতে হবে ‘দেশ বাঁচানোর আন্দোলনে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার কল্পে।’

নেতা-কর্মীগণের ভালবাসায় অভিভূত গিয়াস আহমেদ বলেন, সাংগঠনিক নেতৃত্ব নিয়ে মতভেদ দূরে ঠেলে এখন হোয়াইট হাউজ, স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং জাতিসংঘের সামনে দুর্বার আন্দোলন রচনা করতে হবে। অতি সম্প্রতি বিশ্বব্যাংকের সামনে শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী আচরণের প্রতিবাদে বিএনপি ও সমমনা প্রবাসীরা যে শো-ডাউন দেখিয়েছেন তা অব্যাহত রাখতে হবে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে। সমাবেশে নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরো ছিলেন নূসরাত আহমেদ, জসীম ভূইয়া, ভিপি জসীম, এম এ বাতিন, মাওলানা অলিউল্লাহ আতিকুর রহমান, হাবিবুর রহমান সেলিম রেজা, কাজী আমিনুর রহমান, আমিনুল ইসলাম চৌধুরী, আলমগীর কবীর, পারভেজ সাজ্জাদ, হুমায়ূন কবীর, কাজী আজম, ফিরোজ আহমেদ, শাহাদৎ হোসেন রাজু, আনিসুর রহমান, জাহাঙ্গির হোসাইন, সৈয়দা মাহমুদা শিরিন, সরোয়ার খান বাবু, জাহাঙ্গির সোহরাওয়ার্দি প্রমুখ।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার