Advertisement Placeholder

যৌণ নির্যাতনের মামলায় ট্রাম্পের ৫ মিলিয়ন ডলারের জরিমানা

বিশেষ সংবাদদাতা   |   বুধবার, ১০ মে ২০২৩   |   প্রিন্ট   |   ৫৪ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

যৌণ নির্যাতনের মামলায় ট্রাম্পের ৫ মিলিয়ন ডলারের জরিমানা

ট্রাম্প-ক্যারল

অবশেষে ট্রাম্পকে যৌন নির্যাতন এবং লেখক ই জিন ক্যারলকে অপদস্ত করার মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হলো। নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটান কোর্টের জুরি বোর্ড ৯ মে মঙ্গলবার এ সিদ্ধান্তের সাথে ট্রাম্পকে ৫ মিলিয়ন ডলারের জরিমানা করা হয়েছে এবং এই অর্থ পাবেন ই জিন ক্যারল।

উল্লেখ্য, ডজনখানেকেরও অধিক নারী দীর্ঘদিন থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যৌন-নির্যাতনের অভিযোগ করে এলেও এটাই প্রথম ঘটনা যেখানে মাননীয় আদালত যথাযথ একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করলেন। তবে ই জিন ক্যারলকে ট্রাম্প ধর্ষণ করেছেন বলে যে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছিল ৯ সদস্যের জুরি বোর্ড তার সত্যতা পাননি। উল্লেখ্য, প্রায় ৩০ বছর আগে ম্যানহাটানে বার্গডর্ফ গুডম্যান স্টোরের ড্রেসিং রুমে ক্যারলকে ট্রাম্প যৌন হামলা, যৌণ নির্যাতন এবং ধর্ষণ করেন বলে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। আরো উল্লেখ্য, মামলার বিচার চলাকালে ট্রাম্প মাননীয় আদালতে হাজির হননি এবং ট্রাম্প বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

এটি দেওয়ানি আদালত এবং জুরি বোর্ডের ৯ সদস্যের ৩ জন নারী। তারা সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নেন যে, ক্যারল তার অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপনে সক্ষম হয়েছেন। এ সময় জুরিবোর্ড আরো উল্লেখ করেন যে, গত অক্টোবরে ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোস্যাল’ প্ল্যটফরমে ক্যারলের মামলাকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে অভিহিত করেছিলেন। মঙ্গলবার অপরাহ্ন ৩ টার কিছু আগে জুরিবোর্ডের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ট্রাম্প আপিল করবেন বলে তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন। জুরিবোর্ডের উপরোক্ত সিদ্ধান্ত উপস্থাপনন করেন আদালতের পেশকার। তা শোনে ক্যারল মাথা নাড়েন এবং তার সম্মতি জ্ঞাপন করেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ক্যারলের মানহানীর জন্যেও দায়ী বলে এ সময় পেশকার উল্লেখ করেন। এরপর নিজের আইনজীবী রবার্টা এ ক্যাপলনের হাত ধরে কথা বলতে বলতে আদালত ত্যাগের সময় মিস ক্যারলের উদ্দেশ্যে চিৎকার করে এক নারী বলেন, ‘আপনি ভীষণ সাহসী এবং খুব সুন্দর।’ পাল্টা উচ্চস্বরে জবাব দিলেন ক্যারল, ‘আপনাকে ধন্যবাদ, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।’ এদিন সন্ধ্যায় ক্যারল এক বিবৃতিতে বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আমি এই মামলাটি দায়ের করেছি নিজেকে কালিমামুক্ত করতে এবং আমার হারানো জীবন ফিরে পেতে। আজ, বিশ্ব অবশেষে প্রকৃত সত্য জানলো। এই জয় শুধু আমার জন্যে নয়, প্রত্যেক নারীর জন্য, যারা তাকে বিশ্বাস করা হয়নি বলে নিদারুন কষ্টে রয়েছেন।’ কয়েক দশক ধরেই ট্রাম্প নারীদের কাছে অপ্রতিরোধ্য একজন পুরুষের ইমেজ তুলে ধরেছিলেন। ‘আমার কাছে সেরা যৌনতা ছিল’-এমনটি মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প ১৯৯৯ সালে প্লেবয় ম্যাগাজিনের মাঝখানের দু’পাতা জুড়ে একটি প্রতিবেদনে। সেখানে বড়াই করেছিলেন তিনি কীভাবে নারীদের স্পর্শকাতর অঙ্গে হাতড়ানোর পরও কোন ধরনের অপরাধবোধ কাজ করে না।

কেউ তাকে দোষীও ভাবার সাহস পায় না। তবে ম্যানহাটানের দেওয়ানি আদালত ট্রাম্পের সে মিথ্যা বড়াই দুমড়ে দিলো বলে সুধীজন মন্তব্য করেন। ট্রাম্প এখন একজন চিহ্নিত অপরাধী হিসেবেও সামাজিক ধিক্কারের মধ্যে থাকবেন। তবে এটি সিভিল কোর্টের শাস্তি হওয়ায় ট্রাম্পকে জেল খাটতে হবে না। তবে এই রায়ের প্রভাব নিদারুনভাবে ট্রাম্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে নির্বাচনী প্রচারণায়। এদিকে, এই রায়ের পর ট্রুথ সোস্যালে ট্রাম্প এক পোস্টে লিখেছেন যে, তিনি এই নারীকে কখনোই চেনেন না। ‘আমার কোন ধারণাই নেই, কে এই নারী। মামলার নামে একটি সার্কাস মঞ্চস্থ হলো।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার