
নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ১০ মে ২০২৩ | প্রিন্ট | ৭২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে

‘এশিয়ান হেরিটেজ’ উৎসবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় জীবন উৎসর্গকারি এক অফিসারের স্ত্রী-সন্তানকে বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করেন নিউইয়র্ক পুলিশের কমিশনার কীচেন এল স্যুয়েল। ছবি-বাংলাদেশ প্রতিদিন।
বিশ্বে সবচেয়ে চৌকষ হিসেবে পরিচিত ‘নিউইয়র্ক পুলিশ বাহিনী’ তথা এনওয়াইপিডি-তে এশিয়ানদের কর্মকান্ডের উচ্ছ্বসিত প্রশংসার মাধ্যমে সামনের দিনগুলোতে অধিক সংখ্যক এশিয়ান-আমেরিকানের সম্পৃক্ততা ঘটবে-এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হলো ‘এশিয়ান হেরিটেজ’ অনুষ্ঠানে।
শুধু কথা নয়, পুলিশ সদর দফতরের আলো-ঝলমল মিলনায়তনে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, কোরিয়ান, তাইওয়ান সহ এশিয়ান দেশসমূহের নাচ-গান, খাদ্য পরিবেশনও করা হয় ৯ মে সন্ধ্যার এ উৎসবে। নগরের নিরাপত্তা বিধানে জীবন উৎসর্গকারি এশিয়ান পুলিশ অফিসারের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং স্বজনকেও পুরস্কৃত করা হয়।
নিউইয়র্ক পুলিশের কমিশনার কীচেন্ট এল স্যুয়েল বিপুল করতালির মধ্যে সকলকে উষ্ণ অভিবাদন জানিয়ে বলেন, নিউইয়র্ক পুলিশ বাহিনীতে বর্তমানে এশিয়ান অফিসারের সংখ্যা ১৬%। এত কম হয়েও তারা কর্মনিষ্ঠার মধ্যদিয়ে গোটা বাহিনীতে বিশেষ এক অবস্থানে অধিষ্ঠিত হয়েছেন।
সমাবেশে বক্তব্যকালে ‘বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ এসোসিয়েশন’ তথা বাপার প্রেসিডেন্ট ক্যাপ্টেন করম চৌধুরী বলেন, ১৬ শতাধিক বাংলাদেশি আমেরিকান রয়েছি এই বাহিনীতে। দিন যত যাচ্ছে আমাদের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

‘এশিয়ান হেরিটেজ’ উৎসবে বাংলাদেশি পুলিশ অফিসারের সাথে সুধীজন। ছবি-বাংলাদেশ প্রতিদিন।
করম চৌধুরী উল্লেখ করেন, প্রতি বছর মে মাসে ‘এশিয়ান হেরিটেজ’ উদযাপনের সময় এশিয়ান দেশসমূহের মধ্যেকার সাংস্কৃতিক বন্ধন জোরদারের সুযোগ সৃষ্টি হয়। সকল দেশের মানুষের সাথে সম্প্রীতি সুদৃঢ় করার মধ্যদিয়ে শুধু কম্যুনিটি নয় এই সিটির সকল জনগোষ্ঠিকে নিরাপত্তা বিধানে আমরা সক্ষম হচ্ছি। সম্পর্কের দিগন্ত বিস্তৃত হচ্ছে-সমৃদ্ধ হচ্ছে সামাজিক বৈচিত্র।
বাপার মিডিয়া লিঁয়াজো জামিল সারোয়ার জনি অনুষ্ঠানে যোগদানকারি বাংলাদেশিদেরকে অভিবাদন জানিয়ে বলেন, নিউইয়র্ক পুলিশ বাহিনীকে বিশ্বের এক নম্বর একটি বাহিনীতে পরিণত করতে আমরা অর্থাৎ বাঙালি অফিসারেরাও নিরন্তরভাবে সচেষ্ট রয়েছি। সে আলোকেই ২০১৭ সালে ‘বাপা’র প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি এসেছে এই বাহিনী থেকে।
অনুষ্ঠানে বাপার সেবামূলক কর্মকান্ডের একটি ডক্যুমেন্টারিও প্রদর্শিত হয় বিপুল করতালির মধ্যে।
আলোচনার ফাঁকে অনুষ্ঠিত এশিয়ান দেশসমূহের সঙ্গিত-নৃত্য পরিবেশনার পর্বে জেরিন মায়শা এবং সাইয়েদা জ্যোতির নৃত্য বাঙালি সংস্কৃতির বিশেষ এক অবয়ব জাগ্রত করে।
চীন, কোরিয়া, ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশের পুলিশ অফিসারগণের পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন মনোমুগ্ধকর এ সমাবেশে। সকল দেশের খাদ্য সকলের মাঝে পরিবেশনের ফলে ‘এশিয়ান হেরিটেজ’ তথা এশিয়ান ঐতিহ্যকে দৃশ্যমানের প্রত্যাশাটিও পরিপূর্ণতা পায়। প্রাণের সাথে প্রাণ মিলিয়ে বাহিনীর প্রতিটি অফিসার জনজীবনে শান্তি আর স্বস্তি প্রদানের অঙ্গিকারে বর্ণাঢ্য এ আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।



