Advertisement Placeholder

‘রাইজ আপ নিউইয়র্ক’র সামিটে সিটি মেয়র : বাংলাদেশিরা ব্যালটযুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হলে বিজয়ের পথ সুগম হবে

লাবলু আনসার, যুক্তরাষ্ট্র   |   রবিবার, ১৪ মে ২০২৩   |   প্রিন্ট   |   ৯০ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

‘রাইজ আপ নিউইয়র্ক’র সামিটে সিটি মেয়র :  বাংলাদেশিরা ব্যালটযুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হলে বিজয়ের পথ সুগম হবে

নিউইয়র্ক সিটি মেয়র এরিক এডামস বললেন, ‘এই সিটিতে কমপক্ষে ৫০ হাজার বাংলাদেশি রয়েছেন যারা ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হবার যোগ্য। এই বিরাটসংখ্যক বাংলাদেশি যদি জোটবদ্ধ হতে পারেন তাহলে সিটির অনেকে ব্যালট যুদ্ধেই তারা বিজয়ী নির্দ্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় অবতীর্ণ হবেন।’

গত ১২ মে শুক্রবার রাতে ‘রাইজ আপ নিউইয়র্ক সিটি’ নামক বাংলাদেশিদের একটি রাজনৈতিক মোর্চার দ্বিতীয় বার্ষিক লিডারশিপ সামিট’-এ বক্তব্যকালে সিটি মেয়র আরো বলেন, ‘আমার প্রশাসনে গুরুত্বপূর্ণ বেশ ক’জন রয়েছেন বাংলাদেশি আমেরিকান। তারা নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন এবং তাদের মাধ্যমেই আমি বাংলাদেশীদের কর্মনিষ্ঠা সম্পর্কে অনেক বেশী ধারণা পাচ্ছি। তাদের মত মানুষের সংখ্যা যত বাড়বে তত উপকৃত হবে এই সিটি।’

বিশ্বের রাজধানী খ্যাত নিউইয়র্ক সিটিতে ক্রমবর্ধমান অধিবাসীর শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশিরা। বলা হয়ে থাকে ৩ লাখের বেশী বাংলাদেশি বাস করলেও ঐক্যবদ্ধ না থাকায় প্রশানের ন্যায্য হিস্যা আদায় করা সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি প্রশাসন অথবা নীতি-নির্ধারণেও কোনো পাত্তা নেই বাংলাদেশিদের। এমন পরিস্থিতির অবসানে সিটিজেনশিপ গ্রহণকারী বাংলাদেশিরা যাতে ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হোনর এবং ভোট যুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন-সে অভিপ্রায়ে ২০২১ সালের মার্চে ‘ফাইট ফর ইউর রাইটস’, ‘জাগো বাংলাদেশি’ স্লোগানে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘দ্য রাইজ আপ নিউইয়র্ক’। প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম হলেন বাংলাদেশি আমেরিকান শামসুল হক। যিনি নিউইয়র্ক পুলিশ বাহিনীতে প্রথম দক্ষিণ এশিয়ান মুসলমান এবং প্রথম বাংলাদেশি আমেরিকান হিসেবে লেফট্যানেন্ট কমান্ডারের দায়িত্ব অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে পালন করছেন। নিউইয়র্ক পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত বাংলাদেশী আমেরিকানদের সংগঠন ‘বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ এসোসিয়েশন’র (বাপা)ও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শামসুল হক। এই লিডারশিপ সামিটের শুরুতে প্রদত্ত বক্তব্যে শামসুল হক উল্লেখ করেন, এই শহরের অধিবাসী বাঙালিগণের অধিকারবোধ জাগ্রতকরণ, ঐক্যের গুরুত্ব, ভোট প্রয়োগের কল্যাণ, সমসাময়িক তথ্য সকলের কাছে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্বটি নিরলসভাবে পালন করছে ‘দ্য রাইজ আপ নিউইয়র্ক’। সে সূত্রেই দ্বিতীয় সামিটে সকলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। সম্প্রীতি, সৌহার্দ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে অধিকার আদায়ের প্রচেষ্টার অগ্রযাত্রায় ‘রাইজ আপ নিউইয়র্ক’র কর্মকাণ্ড ইতিমধ্যেই কম্যুনিটিতে সুফল বয়ে এনেছে এবং আস্থার একটি সংগঠনে রূপ নিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার নাগরিকদের প্রতি উদাত্ত আহবান সিটিজেনশিপ গ্রহণের মৌলিক ও নৈতিক দায়িত্ব পালনে কেউ যাতে পিছপা না হই। কারণ, সংখ্যাগতভাবে আমরা যত বাড়ছি ততোই অধিকার ও মর্যাদা আদায়ের পথও সুগম হচ্ছে। কিন্তু ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে সীমাহীন অনীহা আমাদেরকে আরো এগিয়ে চলার পথ রুদ্ধ করেছে। এই বন্ধ্যাত্ব ঘুচাতে হবে। Rise up NY-1

শামসুল হক সাম্প্রতিক এক পর্যবেক্ষণের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, গতমার্চে সিটি ইউনিভার্সিটির সিনিয়র অধ্যাপকগণের একটি দল নিউইয়র্ক স্টেট রিডিস্ট্রিক্টিং কমিশনের জন্য একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। সেই প্রতিবেদনে মূলত: বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশী আমেরিকানরা এগিয়ে যাচ্ছে-উন্নতি করছে। শামসুল হক বিভিন্ন তথ্য আলোকে বলেন, ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষমতা আছে পঞ্চাশ হাজারের অধিক বাংলাদেশী আমেরিকানের। এই সক্ষমতাও আরেকটি অর্জন। আরেকটি মাইল ফলক। ভোটের অধিকার অর্জন করা বাংলাদেশিদের শক্তিশালী করতে হলে প্রথমত: দরকার ঐক্য। ঐক্যবদ্ধভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলে নিউইয়র্ক সিটির নির্বাচনী ফলাফল নির্দ্ধারণে অন্যতম একটি হাতিয়ারে পরিণত হওয়া সম্ভব। শামসুল হকের তথ্যনির্ভর বক্তব্যের আলোকেই সিটি মেয়র উপরোক্ত অভিমত পোষণ করেছেন।

উল্লেখ্য, গত নির্বাচনে মেয়র পদে সিংহভাগ বাংলাদেশীই এরিক এডামসের পক্ষে মাঠে ছিলেন। এবং তিনি বিজয়ী হবার পর সেই কৃতজ্ঞতাবোধ থেকে বিন্দুমাত্র নড়েননি। বাংলাদেশীদের আমন্ত্রণ গ্রহণে তিনি বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করেন না।

শামসুল হক তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, এখন সময় হচ্ছে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যে কোন নির্বাচনে মাঠে নামা। ব্যালট যুদ্ধে অবতীর্ণ হবার অর্থই হচ্ছে কম্যুনিটি ন্যায্য হিস্যা আদায়ের পথ সুগম করা। যে কম্যুনিটির মানুষ ব্যালট যুদ্ধে সরব থাকেন, তাদের প্রতি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজর থাকে বেশী। শামসুল হক বলেন, নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল প্রতি বছর গড়ে ৫৫০ মিলিয়ন ডলারেরও অধিক অনুদান অনুমোদন করে। এ ব্যাপারে কম্যুনিটির খুব কমসংখ্যক মানুষই অবহিত। এভাবেই আমরা ন্যায্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। নিউইয়র্ক সিটি ও স্টেট প্রশাসনে কমিশনার, ডেপুটি কমিশনার, সহকারি কমিশনার বা পরিচালকের মতো প্রভাবশালী পদে যোগ্যতা থাকা সত্বেও বাংলাদেশী কম্যুনিটির লোকজন আশানুরুপ নিয়োগ পাচ্ছেন না। শামসুল হক বলেন, পাবলিক পলিসি পরিবর্তন, পরিবর্ধন, সংশোধনের ব্যাপারে সকলের অবগতি ও সচেতনতা সৃষ্টি, ভোট প্রদানে ও ভোটার হিসেবে রেজিস্ট্রেশনে সর্বোচ্চ আগ্রহ বৃদ্ধি করা, বাংলাদেশী জনগোষ্ঠির উন্নয়নে সহযোগিতা ও সমর্থন করে এমন প্রার্থী নির্বাচনে সাহায্য করা। দ্য রাইজ আপ নিউইয়র্ক সিটি’র দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশী আমেরিকানদের সিটি, স্টেট এবং ফেডারেল নেতৃত্বের বিভিন্ন নির্বাহী শাখায় নির্বাচিত হবার সুগম করা।

কম্যুনিটির সামগ্রিক স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ এ সামিটে অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিটি মেয়রের চীফ এডমিনিস্ট্রেটিভ অফিসার (মুখ্য প্রশাসনিক কর্মকর্তা) মীর বাশার, সিটি মেয়রের ডেপুটি কমিশনার দিলিপ চৌহান, নিউইয়র্ক স্টেট এ্যাসেম্বলীওম্যান জেনিফার রাজকুমার, স্টেট সিনেটর জন ল্যু, স্টেট সিনেটর রবার্ট জ্যাকসন প্রমুখ।

পেশাজীবী প্রজন্মকে মার্কিন রাজনীতির সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রচনায় অগ্রনী ভূমিকা পালনকারী ‘দ্য রাইজ আপ নিউইয়র্ক সিটি, ফাইট ফর ইউর রাইট’ নামক এই সংগঠনের নির্বাহী বোর্ডের সহ-সভাপতি (লেজিসল্যাটিভ এ্যাফেয়ার)হুমায়ূন কবিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো ছিলেন নির্বাহী বোর্ড মেম্বার এরশাদুর সিদ্দিক, মোহাম্মদ আব্দুল জলিল, মো, লতিফ, জামিল সারোয়ার, মাহবুবুর জুয়েল, ইশমাম চৌধুরী এবং সাঈদ উৎবা।

ট্রাস্টির মধ্যে ছিলেন শেখ আহমেদ, সাঈদ আলী, জসীম মিয়া, আশিকুল ইসলাম, মিলাদ খান, মো রহমাসন নবেল, প্রিঞ্চ আলম, মো. রিপন ইসলাম, রাসেক মালিক এবং মোহাম্মদ আলী চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সিটি মেয়র এরিক এডামসকে ‘বাংলাদেশের জাতীয় স্মৃতি সৌধ’র কপি উপহার দেয়া হয় ‘দ্য রাইজ আপ নিউইয়র্ক সিটি’র পক্ষ থেকে।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
আবু তাহের
নির্বাহী সম্পাদক
লাবলু আনসার